ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

যখন এই মেশিন সম্পর্কে কোন ধারনা ছিলনা, তখন মনে হয়েছে এমন একটা মেশিন তৈরী করা দরকার যাতে প্রযুক্তির সর্বচ্চো ব্যাবহার করে অত্যাধুনিক কিছু করি যাতে সমস্ত বাংলাদেশকে একটি নেটওয়ার্কে এনে তাতক্ষনিক ফলাফল পাওয়া যাবে।

কিন্তু না, সেটা সম্ভব নয়। নেট থেকে জানা গেল বিভিন্ন দেশের ই-ভোটিং নিয়ে নানারকম সমস্যার বিষয়। তাই এসব সমস্যা মুক্ত একটি মেশিন তৈরীর প্রয়োজনিয় কাজ চালিয়ে যেতে যেতে, একদিন ইলেকশন কমিশন থেকে তাদের চাহিদা জানতে পারলাম। তৈরী করলাম তেমন একটি মেশিন।

কিন্তু না এখানেও শেষ নয়, দেশে তিনটি ভোট হয়ে গেল এদেশের বুয়েটের তৈরীকৃত মেশিন দিয়ে। জানা গেল নানা জনের নানা মতামত। এরই প্রেক্ষিতে আমরা তৈরী করলাম ডিজিটাল প্রিন্টস্কিন ডিসপ্লে ব্যালট ইউনিট। যেটি ভোটার কে বলে দেবে বা দেখিয়ে দেবে, সে কাকে ভোট দিল।

পরবর্তীতে লক্ষ করলাম বিরধীদলের লোকেদের সমর্থনের কারনেই হোক আর জনগনের উক্ত চাহিদা মেটানোর জন্যই হোক, কমিশন বুয়েটকে নতুন মডেল তৈরীর জন্য কিছু ফিচার যুক্ত করতে বলেছে। তার মধ্যে একটি হল প্রিন্টার। আনেক সমস্যা বেড়ে যাবে প্রিন্টার ব্যাবহার করলে ।১) প্রচলিত আইন লংঘন হবে যখন কেউ প্রিন্ট নিয়ে বাইরে আসবে এবং সমস্যায় পরবে অথবা পেপার আটকে গেলে, টেকনিশিয়ান আটকে যাওয়া পেপার থেকে জেনে যাবে পূর্বের ভোটার কাকে ভোট দিয়েছে। ২) ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা নাহলে, কেউ ভোট দিতে যাবে না। ৩) যারা টাকা দিয়ে ভোট কেনে তারা চায় ভোটার টাকা নিয়ে তাকে ভোট দিল কিনা সেটা নিশ্চিত হতে।প্রিন্টার থাকলে, টাকা দিয়ে ভোট কেনা বেড়ে যাবে। ৪) মেশিনের খরচ বেড়ে যাবে ইত্যাদি। ওদিকে এইসকল বিষয় বিবেচনা না করে কমিশন পারলে যাবার আগেই মেশিনের অর্ডার দিয়ে দেয়।তবে যে যাই বলুক প্রিন্টার দিয়ে দুর্নীতি ঠেকানো যাবে না।

এখন মনে হচ্ছে কেন আমরা মশা মারতে কামান ব্যাবহার করতে চাই? তাছাড়া বুয়েটের খরচ এর নমুনা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তাদের দিয়ে মেশিন তৈরী করলে ভবিষ্যতে যে খরচ বাচানোর জন্য মেশিন তৈরী করতে চাচ্ছি, তা আসলে বাঁচবে না। কারন প্রতি পাঁচ বছর পরপর কমপক্ষে ৪০ কেটি টাকা লাগবে ব্যাটারী বাবদ। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষন ব্যায় ও আছে।

আমি মনে করি এর আরও উন্নতি করণ করতে হবে নতুবা হার্ডওয়ার নির্ভর মেশিন বানানো যেতে পারে, যেথানে প্রোগ্রাম লিখে কোন সুক্ষ কারসাজি করা যাবে না। যেটা আমাদের দেশের জন্য উপযোগী হবে। আমাদের সকলের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন।

আমরা প্রযুক্তির সুফল পেতে চাই, কুফল নয়।