ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২শ টাকা নির্ধারণ করে জাতীয় পে-কমিশনের প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পেশ করেছেন পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ড. ফরাসউদ্দিন। বলা হচ্ছে এবারই প্রথম বেতন স্কেল দ্বিগুণ এর বেশি করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে সরকারের এটি ভালো উদ্যোগ। এতে করে সরকারি চাকুরীর প্রতি মেধাবীদের আগ্রহ বেড়ে যাবে। এবার মুল কথায় আসা যাক।

বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে সুপারিশ করা হয়েছে তাতে ২০ টি গ্রেড থেকে কমিয়ে ১৬ টি গ্রেড রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র ১৯তম গ্রেড ছাড়া অন্য সব গ্রেড এ বেতন বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ এর বেশি!কিন্তু ১৯তম গ্রেড এর বেতন বৃদ্ধির হার দ্বিগুণও হয় নি! ১৯ ও ২০ তম গ্রেড এর স্কেল একীভূত হয়ে ৮২০০ টাকা হয়েছে। এমতাবস্থায় ১৯ তম গ্রেড এর বর্তমান স্কেল ৪২৫০ সুপারিশকৃত স্কেল ৮২০০ টাকা যা দ্বিগুণ এর কম!! এক্ষেত্রে উক্ত বৈষম্য ১৯ তম গ্রেডের কর্মচারীগণের প্রতি অবিচার বৈ আর কিছু নয়। এই বৈষম্য দুর না হলে সরকারি অফিসগুলো থেকে দুর্নীতি আদৌ কমবে কিনা আমার সন্দেহ! ইতিমধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমার পরিচিত একজন সরকারি কর্মচারী তীব্র অসন্তোষ ব্যাক্ত করেছেন। তার মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো। ”

 

মনে করেন একটি রুটির মূল্য পাঁচ টাকা, এখন সচিব-প্রথম শ্রেণীর অফিসার-দ্বিতীয় শ্রেণীর অফিসার-তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী এরা সকল-ই তো মানুষ। দোকানে রুটি ক্রয় করতে গেলে দোকানদার সচিব মহোদয়কে পাঁচ টাকা আর তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর জন্যতো চার টাকা রাখবেনা। কারণ, সবাইতো মানুষ এবং সকলেরই খেতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো সচিবরা পাবে ৮০ হাজার টাকা পিয়নরা পাবে ৮২০০ টাকা; এই বৈষম্য, মুখের আহার কেড়ে নেওয়ার রীতি – নীতিবানদের কী ভাবায়না?”

এমতাবস্থায়, নতুন পে স্কেল এ যাতে কোন প্রকার বৈষম্য না থাকে সেদিকে সরকারের আন্তরিকতা থাকবে আশা করি।
জহির নিপু,
01919374246