ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

intellecuals-report-ed

২৬ মার্চ ৭১ থেকে জামায়াত আইনের চোখে বাংলাদেশে অবৈধ। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালিন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী যখন নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করল তখন ঐ হানাদার বাহিনীর সাথে তাদের সব ধরনের সহযোগী বাহিনীও নিঃশর্ত আত্মসমর্পন করেছে, এর প্রমাণ তারা দিয়েছে আত্মসমর্পন দলিলে সই দিয়ে। ১৬ ডিসেম্বর সই দেয়ার মাধ্যমে বাস্তবে প্রমাণ হয়ে গেল ২৬ মার্চ থেকে প্রায় নয় মাস জুড়ে হানাদারদের সাথে রাজাকার আলবদররা যে অন্যায় অপতৎপরতা চালিয়েছে যা যুদ্ধাপরাধ, তা সম্পূর্ণরূপে বাংলার মাটিতে অবৈধ ছিল।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আইন সংশোধনের ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচারের আওতায় আনার বিধান তৈরি হয়। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন এর ২০(২)ধারা অনুযায়ী যদি কেউ অপরাধ করে থাকে এবং তার অপরাধ প্রমাণিত হয়ে থাকে তবে আদালত সহজে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দণ্ডিত করতে পারে।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ(ট্রাইব্যুনাল)আইনের ৩ ধারায় মুক্তিযুদ্ধকালিন অপরাধের জন্য ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকে বিচারের মুখোমুখি করার বিধান যুক্ত করা হয়। অর্থাৎ সংগঠন হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা যাবে জামায়াতও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে।

১৫ জুলাই,২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গোলাম আযমের রায় ঘোষণাকালে জামায়াত ‘অপরাধী‘ সংস্হার মতো কাজ করেছে বলে পর্যবেক্ষণ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনাল আইনের ৪(১)ও(২) অনুযায়ী যুদ্ধকালিন সকল অপরাধের জন্য জামায়াতকে ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়‘ নিতে হতে পারে।

জামায়াতকে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশজুড়ে গণহত্যা ধর্ষণ লুটতরাজ অগ্নিসংযোগ হামলা নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্মের প্রমাণ রয়েছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। জামায়াত একাত্তরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছে, অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। সংবিধানের ৪৭(৩)ধারা অনুযায়ী জামায়াতকে অপরাধী সংগঠন হিসেবে বিচারের আওতায় আনা যায়-

৪৭[ (৩) এই সংবিধানে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্ত্বেও গণহত্যাজনিত অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অন্যান্য অপরাধের জন্য কোন সশস্ত্র বাহিনী বা প্রতিরক্ষা বাহিনী বা সহায়ক বাহিনীর সদস্য ২৭[বা অন্য কোন ব্যক্তি, ব্যক্তি সমষ্টি বা সংগঠন]কিংবা যুদ্ধবন্দীকে আটক, ফৌজদারীতে সোপর্দ কিংবা দন্ডদান করিবার বিধান-সংবলিত কোন আইন বা আইনের বিধান এই সংবিধানের কোন বিধানের সহিত অসমঞ্জস বা তাহার পরিপন্থী, এই কারণে বাতিল বা বেআইনী বলিয়া গণ্য হইবে না কিংবা কখনও বাতিল বা বেআইনী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।]

জামায়াত বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। এই দলের বিরুদ্ধে দেশে জঙ্গিবাদ উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে| বিভিন্ন স্হানে গোপন হামলা করে নিরীহ মানুষ হত্যা,উপাসনালয় ধ্বংস, স্কুলঘর আগুন দিয়ে পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে রয়েছে কোন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ববিরোধী কার্যকলাপ করতে পারবে না।একই সাথে কোন রাজনৈতিক দল সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে গোপন তৎপরতা চালাতে পারবে না। জামায়াতের কার্যকলাপে স্পষ্ট যে দলটি রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে যা বলা হয়েছে-

[৩৮।জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তির উক্তরুপ সমিতি বা সংঘ গঠন করিবার কিংবা উহার সদস্য হইবার অধিকার থাকিবে না, যদি-
(ক) উহা নাগরিকদের মধ্যে ধর্মীয়, সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(খ) উহা ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ, জন্মস্থান বা ভাষার ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করিবার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়;
(গ) উহা রাষ্ট্র বা নাগরিকদের বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী কার্য পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়; বা
(ঘ) উহার গঠন ও উদ্দেশ্য এই সংবিধানের পরিপন্থী হয়।]

একাত্তরে যুদ্ধ পরিচালনার সকল স্বীকৃত নিয়ম কানুনকে অবজ্ঞা করে, মানবিক মর্যাদাকে মাড়িয়ে ধর্মের নামে জামায়াত অসংখ্য যুদ্ধাপরাধের ঘটনা ঘটায়। যুদ্ধশিশুকে ওরা তাচ্ছিল্য করে ‘জারজ‘ নামে ডাকে। যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান। নিশ্চয়ই এ বিচার কার্য শেষ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কপালে আরেক মর্যাদার চিহ্ন জ্বলজ্বল করবে। বাংলাদেশের মানুষ লড়াই সংগ্রামের ভেতর দিয়ে ইতিহাস রচনা করতে জানে। মানুষ কোন না কোনদিন তার অধিকার আদায় করেই ছাড়ে। ভুলে যেও না বন্ধুরা আমাদের কাছে ওরা অস্ত্র সমর্পণ করেছিল সম্পূর্ণ নতজানু হয়ে।

ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে জামায়াত অপরাধী সংস্হা

সংগঠনকে বিচারের আওতায় আনার আইন পাস