ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

ঈদের শুভেচ্ছা ও ভালবাসা সারা বিশ্বের সব মানুষকে! ব্লগারদের সকলকে ঈদের অফুরন্ত শুভেচ্ছা!
ভালবাসা জানাই গর্বের প্রতিষ্ঠান বিডিনিউজ পরিবারের সকলকে। ঐকান্তিক কামনা বিডিনিউজের সুচিন্তিত সংবাদ প্রচার অব্যাহত থাকুক। সুস্হ ধারার রিপোর্টিং অন্তত মানবাধিকারের প্রাথমিক পর্যায়কে কিছুটা হলেও এগিয়ে নিতে পারে বলে ধারণা করা যায়।

বিশেষ করে ঈদ শুভেচ্ছা ও ভালবাসা ঐসকল তরুণ-তরুণী ও অসহায় শিশু ও পথশিশুদের জন্য যারা তাদের শ্রম দিয়ে গার্মেন্টস শিল্পকে উন্নত করেছে, কলকারখানাকে টিকিয়ে রাখতে নিত্যদিন সংগ্রাম করে চলেছে, নিজেরা গৃহকর্মী (গৃহদাসী!) হয়ে কত সুখে রেখেছে আমাদের।

যাতে গৃহদাসী না হয়ে থাকতে হয় সেজন্য গৃহকর্মীদের চাকুরি সংক্রান্ত তাদের নিয়োগের বিধিবিধান, বেতন-কাঠামো, ছুটি ইত্যাকার বিষয়ে বিগত সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করল এবং কার্যক্রমটি অনেকখানি এগিয়েও গেল। পরবর্তীতে কী এমন হলো, নাকি উদ্যোগটি নির্বাচনী ডামাডোলে চাপা পড়ে গেল তা আমরা জানি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আপনি গৃহকর্মীদের জন্য যথাযথ আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিন। আমরা কর্পোরেট ঠাট্টা দেখতে চাই না। পথশিশুদেরকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে দু‘দশটা লাল জামা তাদের গায়ে পরানোতে আমরা আনন্দে আটখানা হতে পারি না।

যাঁরা রাষ্ট্রের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, গৃহকোণে থাকুন বৃদ্ধাশ্রমে থাকুন হাসপাতালে থাকুন আর ফুটপাথ-বাস টার্মিনালেই থাকুন সকলকে শ্রদ্ধা জানাই। সকল বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক মা-বাবার কপালে ভালবাসার চুম্বন। যারা রাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ নাগরিক,এই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ, তোমাদেরকেও ঈদ শুভেচ্ছা ও ভালবাসা। পবিত্র ঈদে পবিত্র হয়ে উঠুক সবাই।

খুদ ছিটানোর মতো করে লোক দেখানো যাকাতের কাপড় বিলি করা, যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পিষ্ট হয়ে মারা যাওয়া- আমাদের সামাজিক বৈষম্যের করুণ চিত্র। এ সামাজিক বৈষম্যকে আমরা আমাদের মগজে টিকিয়ে রেখেছি সমাজে নিজের অবস্হান জানান দিতে।

কার্বাইড সন্ত্রাস আর ফরমালিন সন্ত্রাসকে ছোট করে দেখার উপায় নেই। বিষযুক্ত এন্টিবায়োটিক ওষুধ কিনে ঘরে ফেরা, আমাদের মৌলিক অধিকারকে নিষ্পেষিত করে। ফেন্সিডিল কারখানার মতো এতো ওষুধ কারখানা আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। রোগীদের প্রতি অধিকাংশ চিকিৎসকের অবহেলা জনগণের অস্তিত্বের ওপর আঘাত হানে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাতে চিকিৎসকরা বিচলিত বোধ করেন কিনা জানি না, তবে ইচ্ছাকৃত দুর্ভোগের পরিস্হিতি সৃষ্টি করা অপরাধ।

সামাজিক নিরাপত্তার কতটুকু অর্জন করেছে বাংলাদেশ? যদি ধর্ষনের কথায় ধরি, ধর্ষক শাস্তি পায় না অথচ ধর্ষিতা তথাকথিত সামাজিক বিচারে দন্ডিত হয়, নিগৃহিত হয়,বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করে। সকল নাগরিকের অধিকার এবং মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আর কত সময় অপেক্ষা করা লাগবে? শিক্ষা, চিকিৎসার বৈষম্য আর সহ্য হয় না।

বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা থেকে নিরাপদে থাকুক আমাদের দেশ। সন্ত্রাস কবলিত জনপদের বাসিন্দা হয়ে থাকতে কোনো মানুষই স্বস্তিবোধ করে না। সন্ত্রাসবাদের থাবায় আমাদের জন্মভূমি যেন আবার রক্তাক্ত না হয়। ধর্মের নামে বোকো হারাম,আনসারু,আল-শাবাব এর সন্ত্রাসবাদ আর গোষ্ঠীগত সন্ত্রাসে নিরন্ন বুভুক্ষ আফ্রিকার জবুথবু দশা। বর্তমানে ইরাক সিরিয়া এর জলজ্যান্ত উদাহরণ। দখলবাজির খেলায় রক্তাক্ত ইরাক। ইরাকের জনগণ এখনমৃত্যুকূপে বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের গোলায় জ্বলছে অন্যান্য দেশ, সেখানে খাবারের সমস্যা পানির সমস্যা। সারা বিশ্বে পানিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায়নি আজও। বাংলাদেশের জনগনও পানির ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। পাক-ভারত স্হায়ী শান্তি কতদূর! মোদী নওয়াজের শাড়ি-শাল বিনিময় উপমহাদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনবে তো!

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত উত্তেজনা ও মানুষ হত্যা বন্ধের স্হায়ী সমাধান, সীমান্তের জনগণের নির্বিঘ্ন জীবন যাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সীমানা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য প্রাপ্তি পেতে আর কত কূটনৈতিক ছাঁচ অতিক্রম করবে বাংলাদেশ? বাংলাদেশ নিশ্চয়ই সকল ধাপ পেরিয়ে ক্রমান্বয়ে এগিয়েছে। ভারত তার প্রতিবেশীর প্রাপ্ত অধিকার স্বীকার করতে যেন ভুল না করে।

ইতোমধ্যে উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্লাবন দেখা দিয়েছে। গো-চারণ ভূমি, ফসলের বহু জমি, আমনের বীজতলা ডুবে গেছে। অবর্ণণীয় দুর্দশা সে অঞ্চলগুলোতে। কোথায় তাদের ঈদের আনন্দ! প্রশাসন কাজ করলেও বিগ বিগ কর্পোরেট হাউজগুলো প্লাবিত অঞ্চলের মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সহযোগী হলে উৎকন্ঠা থেকে আপাত মুক্তি মিলবে।

আমাদের সুখের কমতি নেই। দুঃখও আমাদের বিস্তর। নিরন্তর দুঃখের মাঝেও ঈদ এসেছে মাত্র একটা দিনের জন্য। কিছু সময়ের জন্যে, মুহূর্তের জন্যে হলেও কোটি কোটি মানুষের জীবন ফিরে পাক একটি মাহেন্দ্রক্ষণ যেখানে ধনী-নির্ধন পরিচিত-অপরিচিত মিলে মিশে একাকার হবে।
সকলকে ঈদ শুভেচ্ছা। ঈদ মুবারক!

(অসমাপ্ত)