ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
RU2

[ছবি: http://www.campuslive24.com]

যখন আলমডাঙ্গা উপজেলা হলরুমে আন্তর্জাতিক ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস‘ উদযাপন উপলক্ষে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে , সেই সাথে আলমডাঙ্গার পাঁচ জন জয়িতাদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া হচ্ছে তখন আলমডাঙ্গাতে প্রলয় ঘটে গেছে।ব্লগার মোস্তাফিজ ফরায়েজীর লেখা [লিংক] থেকে এ সম্পর্কে আপনারা কিছুটা জেনেছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ছত্রপাড়ার শাজাহান আলীর মেয়ে তাহেরা। মেয়ের লেখাপড়ার জন্য বাবা আলমডাঙ্গা শহরের আনন্দধামের আব্দুল কাদের মিয়ার বাড়ির দু‘কামরা ভাড়া নিয়ে বাস করেন। সোমবার অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে তাহেরার নানি তাহেরাকে ওই বাড়িতে একা রেখে আরেক মেয়ের বাড়ি যান। ঐদিন তাহেরার মা-বাবা গ্রামে ছিলেন। নানি দুপুরে ফিরে দরজার কড়া নেড়ে সাড়াশব্দ না পেয়ে আবার ওই মেয়ের বাড়ি ফিরে যান। বেলা দুটোর দিকে ফোনে তাহেরার বাবাকে কে বা কারা জানায় যে তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। অথচ তাহেরার নানি পরে সেখানে হাজির হয়ে দরজা ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায়। ঘরের ভেতরে তখন ঝুলে আছে লাশ। স্থানীয়দের কেউ কেউ এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে জিন ধরেছে জিন মেরেছে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে রাতে পুলিশ হেফাজতে রাখে। মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। দুপুরে মৃতদেহ নেয়া হয় আলমডাঙ্গায়।

এ বর্বর ঘটনায় জড়িত সন্দেহের তালিকায় ৩-৪ জন বখাটের নাম উঠে এসেছে। বাড়ির মালিক আব্দুল কাদেরের ছেলে মাসুদ রানা বাচ্চুর নাম প্রকাশ পেয়েছে।তবে পড়শিদের অনেকেই নাকি বলছেন- বাচ্চু ঘটনার পরে ঘরেই ছিলো।আলোচনায় কলেজপড়ুয়া প্রতিবেশি আরো দুই বখাটের নাম উঠে এসেছে। তাহেরাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে । ডান হাতে কেটে লেখা হয়েছে -লাভ ইউ। কাঁচ বা ধারালো কিছু দিয়ে চিরে দেয়া হয়েছে বুক। তাহেরা আত্মহত্যা করেনি। তার শরীরে হত্যার যথেষ্ট আলামত রয়েছে। মঙ্গলবার তাহেরার মৃতদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। মনে হয় ধস্তাধস্তির কারণে দুই হাতে কালো দাগের চিহ্ন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে,এটা আত্মহত্যা!

অপমৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আলমডাঙ্গায় তাহেরা হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে স্কুল ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষ সোচ্চার। মিছিল মিটিং চলছে। আলমডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তাতে কী হলো? ফলাফল শুন্য।সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের কয়েকজন বাচ্চু, সুমন, শিহাব আত্মগোপন করেছে। তাহেরার বাবা জিনে হত্যার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে মামলায় অনাগ্রহ দেখালেও শেষে তিনি মামলা করে হত্যাকারীদের বিচারে শাস্তি চাইবেন বলে আগ্রহ দেখিয়েছেন তবে শেষ পর্যন্ত হোমরাচোমরাদের ভয়ে মামলা করবেন কিনা সন্দেহ।

তাহেরার পিতা প্রথমে মামলা করতে রাজি না হলেও পরে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আলমডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেন বলে জানা গেছে। তবে এজাহারে আসামীদেরকে অজ্ঞাত বলা হয়েছে। বাচ্চু নাকি বাংলাদেশ নেভিতে যোগদান করবে। অন্যজনের নাকি মালেয়শিয়াতে যা্ওয়ার বন্দোবস্ত পাকাপাকি।এই জন্য নাকি তাদের নামে মামলা নেয়া হয়নি বখরার বিনিময়ে। এখন পর্যন্ত আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ তাহেরা হত্যার কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি নাকি করেনি সে ব্যাপারে আলমডাঙ্গার জনগণ অন্ধকারে।

তাহেরার বাবা আবার ময়নাতদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করবেন বলে জানা গেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসানের সাথে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কথা বলবেন এমনটা শোনা যাচ্ছে। তাহেরার মতো কন্যাশিশুদের স্বপ্ন বারবার লুটোপুটি খায়, আমরা যারা লিখিয়ে তাদের লেখার প্লট তৈরি হয়। পাঠক,বিশ্বাস করুন আমরা লেখার এ প্লট চাই না।এ সম্পর্কে লিখতে বসলে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে,মাথা ভারি হয়ে যায়,হাতের কব্জি যেন ছিঁড়ে যেতে চাই!

আজ তাহেরা ধর্ষণের শিকার হয়ে খুন হয়েছে,কয়েক ঘন্টা আগেও নিশ্চয় অন্য জায়গায় আরেক তাহেরা ধর্ষিত হয়েছে! গতকাল হয়েছে আরেক তাহেরা! অন্যদিন কার বোন বা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হবে কেউ জানে না। কিন্তু এতো বড় ঘটনা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যথা নেই। বরং ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন?

তাহেরাকে ধর্ষণ করে লাশের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। পুলিশ কি বোঝে না এটি আত্মহত্যা নাকি খুন? স্হানীয় প্রশাসন কি বোঝে না? জনগণের করের টাকায় দ্বিগুন বেতন বাড়িয়ে কিসের লাভ জনগণের? কোথায় পৌর মেয়র! কোথায় উপজেলা চেয়ারম্যান! কোথায় এমপি মহোদয়? হরিণের মতো মুখ লুকিয়ে পেছন দিকটা বের করে তারা যেন না ভাবেন কেউ তাঁদেরকে দেখছে না। উনারা বুঝতে চেষ্টা করছেন না এটা সাইক্লোনের পূর্বাভাস।আজ যারা সাধারণ একজন কৃষকের কন্যাশিশুকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, কাল ওরাই ওপর তলার পতিকন্যাদেরকেও বাদ দেবে না।

বাংলাদেশের সমাজ কি তবে ধর্ষণ প্রবণ হয়ে উঠছে! ভালোই তো। আমরা মানববন্ধন করব আর ধর্ষক শিস বাজিয়ে আমাদেরকে টেক্কা দিয়ে চলে যাবে। প্রশাসন তাদেরকে বাঁচাবে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় কমিশনার,জেলা প্রশাসকবৃন্দকে নির্দেশ দেবেন অপরাধীদের ধরতে সে যে দলেরই হোক আর পুলিশ , স্হানীয় নেতারা জামার আস্তিনে অপরাধীকে লুকিয়ে রেখে অপরাধী ধরতে মাঠ ঘাট চষে বেড়াবেন তা তো হয়না। আমরা ঘাস খাই না, ধান গমের ভাত রুটিই খাই। বাচ্চু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের খোঁজ পেতে প্রশাসনকে এতো বেগ পেতে হয় কেন? যারা এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড আড়াল করার অপচেষ্টা করছে, তারা কি সকল জবাবদিহিতার অনেক ওপরে?