ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যাকে সমর্থন করে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র ৮মে তারিখের সংখ্যায় বলে-

শেখ মুজিব ২৬ মার্চ সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা কায়েমের পরিকল্পনা এঁটে ছিলেন।সেনাবাহিনী তা জানতে পেয়ে ২৫ মার্চ হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে আমাদের পাকিস্তানকে বাঁচিয়েছে।

অর্থাৎ জামায়াত দল হিসেবে সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫ মার্চের মধ্যরাতে বাংলাদেশের নিরীহ জনগণের ওপর নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে।তাদের মুখপত্রের বয়ানেই প্রমাণ হয় স্বাধীনতাবিরোধীদের গোপন ইন্ধনে হানাদাররা নিরস্ত্র বাংলাদেশের জনগণের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।এই গণহত্যার ভুরিভুরি প্রমাণ তো সারাবিশ্বের সকল পত্রপত্রিকায় রয়ে গেছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানের এই নৃশংস সমরাভিযান ১৯৪৮ সালের জেনেভা গণহত্যা কনভেনশনের লঙ্ঘন।পাকিস্তান বাহিনীর সাথে গোলাম আযম সাহেবরা মানবিক নীতি সংক্রান্ত হেগ কনভেনশন-৪, ১৯৬৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদের ৬০৩-ক(২৭)নং সিদ্ধান্তের সঙ্গে গঠিত ১৯২৫ সালের ১৭ জুন তারিখের খসড়া চুক্তি,১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন, ন্যুরেমবার্গ আইনের সনদ,১৯৬৮ সালে সাধারণ পরিষদে গৃহিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের নিষেধাজ্ঞা এবং সশস্ত্র সংঘাতকালে নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য ১৯৭০ সালে সাধারণ পরিষদের গৃহিত ২৬৭৫(২৫), ২৬৭৬(২৫)ও ২৬৭৭(২৫) নং সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছে।এতোকিছুর পরও জাতিসংঘের কেন বোধোদয় হয় না যে একাত্তরে বাংলাদেশে নয় মাস ধরে গণহত্যা,গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তা স্বীকার করতে।গণধর্ষণও জেনোসাইডের আওতায়।কারণ তাদের উদ্দেশ্য ছিল অন্যরকম, একটি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বদলে দেওয়া।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঐ রাতে নিরস্ত্র ছাত্র-শিক্ষকদের নির্বিচারে হত্যা করেছে।পুরোনো ঢাকায় ধর্মের বাতাবরণে হিন্দুদেরকে টার্গেট করে হত্যা করেছে। সেই সময়কার আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার স্বীকৃত নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তারা বর্বর হত্যাযজ্ঞে মেতেছিল, যুদ্ধাপরাধের অসংখ্য ঘটনা তারা ঘটিয়েছিল।ধর্মান্তরেও বাধ্য করেছে তারা। গণধর্ষণ তো তাদের কাছে মামুলি ব্যাপার।

International Conference on Genocide,Truth and Justice
March 1 to March 2,2008
Organized by
Liberation War Museum,Bangladesh এর Proceedings এর Plenary Session-3 তে Trauma and Tribulation of Victims সম্পর্কে উপস্হাপন করে Dr.M A Hasan Justice সম্পর্কে বলেন- Justice must not be a part of political motivation or it should not be an integral component of an economic equation.Let us see, what justice means. For individuals, justice means relief; assertion of dignity and rights; for society,it is a methodology to keep order and stop repetition of crimes.

তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপার রিজিয়া খাতুনের সাক্ষ্য নেন।
Testimony of a Rape Victim
Rizia Khatun
Shailakupa,Jhenidah

Rizia Khatun told the name of a few soldiers who assaulted her sexually like animals.In her language “many soldiers tortured me,it was not possible to know all their names.But I specially remember the name of Major Jubly. He was a complete devil-horrendously cruel and perverted.It was he who tortured the most.Day after day and night after night, he preyed on me to satisfy his carnal desire.I also remember one Malek,who also assaulted me several times.Besides them, I cannot remember the other names. How helpless I was! I had nothing to do but shed tears silently.After nine long months,when Shailakupa was freed,the freedom fighters rescued me.”

It is said, “History of Civilization is written in blood and tears”.But how much blood is necessary for that,and for how long?

জাতিসংঘের জেনোসাইড কনভেনশন গৃহীত হয় ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর। এই কারণে ওই দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস‘ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয় ২০১৫ সালে। বাংলাদেশের গণহত্যাকে স্বীকার না করার প্রবণতা থেকেই এই সিদ্ধা্ন্ত নেয় তাঁরা।এই জঘন্যতম ঘৃণ্য গণহত্যাকে বিশ্বের বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আড়াল করতেই ৯ ডিসেম্বরকে বেছে নেয়া হয়েছে।৯ ডিসেম্বরের আলাদা কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা গণহত্যা দিবস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।বরং এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গণহত্যাগুলো সম্পর্কে থাকবে অন্ধকারে।সুখের বিষয় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিশ্বের শান্তিপ্রিয় জনগণ বাংলাদেশের স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়ে ২৬ মার্চ তাঁর স্বাধীনতা ঘোষণার বৈধতাকে যেমন স্বীকার করে নিয়েছে তেমনিভাবে এই স্বীকারোক্তির মধ্য দিয়ে ২৫ মার্চের ভয়াবহ গণহত্যাকেও স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে।স্বীকার করছে না শুধু জাতিসংঘ।আমরা বাংলাদেশের জনগণ এর প্রতিকার চাই।

 

***
আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের আহবান

‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা‘ দিবস পালনের আবেদন