ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

বাংলাদেশের মাটির নীচে নাকি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘূর্ণন সৃস্টি হচ্ছে । পরবর্তী কোন দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে, এসব নিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে লিখেছেন Kevin Krasick । দীর্ঘদিন
সাংবাদিকতার সাথে জড়িত । তিনি Earth Institute এর উর্ধ্বতন বিজ্ঞান লেখক । দ্য নিউ ইয়র্কার , ‍নিউজউইক ও ন্যাশনাল জোগ্রাফিক পত্রিকায় লেখেন তিনি । সাড়া জাগানো এ বিষয় নিয়ে এগিয়ে এসেছেন কিছু খ্যাতনামা সিসমোলজিস্ট । এসকল বিজ্ঞানীরা হাইতি , জাপান ও সুমাত্রার উপকূলীয় অঞ্চল ও শহরজুড়ে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প সংঘটনের প্রেক্ষাপটে নজরদারি করে চলেছেন । হিসাব মেলাচ্ছেন — পরবর্তী আঘাত কোথায়?

এ পূর্বাভাষ শুধু Kevin Krasick এর প্রতিবেদন থেকে উঠে আসেনি । যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমষ্টিগত ধারণা এটা । কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইন্সটিটিউট এর ওয়েবসাইটে বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে — BENEATH BANGLADESH : The Next Great Earthquake?

বিপর্যয় পরিমাপ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন এ বছরে পাঁচ বছর মেয়াদী ৫০ লাখ ডলার ব্যয় সাপেক্ষ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে । এ প্রকল্পে অংশ নেয়া বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে — Venderbilt University, University of Minnesota , Queens College , ভারতের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরী , জার্মানি ও ইটালির দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের Earth Observatory গ্রুপের কিছু গবেষক বর্তমানে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ ইন্সটিটিউট এ অবস্হান করছেন । Kevin Krasick এর উল্লিখিত নিবন্ধ ও একটি ডকুমেন্টারি গত ১৩ জুলাই যৌথভাবে প্রকাশ করেছে আর্থ ইন্সটিটিউট । তারা গবেষণায় দেখিয়েছে , অতীতে পৃথিবী কিভাবে ঘূর্ণন সম্পন্ন করেছে , আকস্মিক নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার তথ্য , বিশ্লেষণ ইত্যাদি ।

Kevin Krasick লিখেছেন — ষোল কোটির বেশী জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতি অঞ্চল , বিশ্বের বৃহত্তম নদী অববাহিকা এবং সমুদ্র উচ্চতার একেবারেই কাছে । এর ফলে দেশটি সুনামি হুমকিতে রয়েছে । ভূমিকম্পের ফলে নদীগুলোর তীর লাফিয়ে লাফিয়ে তার গতিপথের পরিবর্তন ঘটাবে । বড় ব্রিজ ও বহুতল ভবনগুলোর ধ্বসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হবে ।
অন্য বিজ্ঞানীরা এটা স্বীকার করে বলেছেন , এ মুহূর্তে কিছু সক্রিয় *টেকটনিক প্লেট বাউন্ড্রি* ঘেঁসে আছে বাংলাদেশ । সাথে যুক্ত আছে ২০০৪ সালে ঘটে যাওয়া সুমাত্রার প্রলয়ঙ্করী সুনামির পুচ্ছ । ঐ পুচ্ছ থেকে বাংলাদেশ এক হাজার তিনশত কিলোমিটার দক্ষিণে । আর্থ অবজারভেটরির সিসমোলজিস্ট সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছেন — বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীর কাছে ভূমিকম্প আঘাত
হানলে তা আধুনিককালের অন্যসব বিপর্যয়কে ম্লান করে দেবে ।

LAMONT-DOHERTY আর্থ অবজারভেটরি তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসমোলজিস্টও রয়েছেন । বিজ্ঞানীরা এমন একটি সিসমোমিটার কার্যকর করে তুলছেন যাতে মাটির যথেষ্ট নীচে সংঘটিত মৃদু কম্পনও রেকর্ড করবে । হিমালয় থেকে ধেয়ে আসা বিপুল পরিমাণ বালু ও মাটি যেখানে জমাটবদ্ধ হয়েছে , তার বারো মাইল নীচ পর্যন্ত সক্রিয় *ফল্ট* সনাক্ত করে উপযুক্ত ম্যাপ তৈরিতে সাহায্য করবে । রিভারবেডের কাছে বিজ্ঞানীরা ২৫০টি কূপ খনন কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন , সেডিমেন্ট স্যাম্পল সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে ।

চলমান গবেষণার লক্ষ্য হচ্ছে , বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্তের যোগান দেয়া ,যাতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে তারা উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন । এ প্রকল্পে কর্মরত লেমন্ট সিসমোলজিস্ট Leonardo Seeber এর মন্তব্য হচ্ছে — আর্থ সায়েন্স , ন্যাচারাল হ্যাজার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে কৌশলগত ঐক্যসূত্র
খুঁজে পাচ্ছি । এদিকে ওয়াশিংটনে এসেছেন প্রকল্পের মূল অনুসন্ধানী Michael Steckler ।

নতুন কর্মসূচি শুরু করতেই তার এই সফর । এনএসএফ এবং ইউএসএইড যৌথভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ।

***
তথ্যসূত্র