ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গোরান হাজিচ কে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি তে পাঠালো সার্বিয়া । যুদ্ধের পর থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশ্যে ঘুরেছেন হাজিচ । পরবর্তীতে আইসিসি অভিযোগ গঠন করলে আত্মগোপনে চলে যান তিনি । চুরি করা শিল্পকর্ম বিক্রি করতে যেয়ে গত ২১ জুলাই ধরা পড়েন হাজিচ ।

হাজিচের বিরুদ্ধে চৌদ্দটি অভিযোগ খাড়া হয়েছে । এর একটি হলো হাসপাতালে থাকা আড়াই শ’র বেশী মানুষকে হত্যা করা । হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৬১ জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনে আইসিসি । এদের মধ্যে হাজিচ ছিলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যাকে সার্বিয়া গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠালো ।

গত শুক্রবার হাজিচকে হেগ এ পাঠানো হয় । এর আগে হাজিচ তাঁর অসুস্হ মার সাথে দেখা করার সুযোগ পান । আত্মগোপনে থাকা অবস্হায় এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতিতে কন্যা সন্তানেরও পিতা হন হাজিচ । হাজিচের ঔরসে জন্মলাভ করা কন্যাকে নিয়ে মহিলাটি হাজিচের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন ।

হাজিচকে গ্রেফতার এবং তাঁকে বিচারের জন্য হেগ এ পাঠানো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সার্বিয়ার জন্য বড় ঘটনা । হাজিচকে হেগ এ পাঠিয়ে সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ পেতে কতটা এগিয়ে গেল তা সময়ই বলে দেবে । অবশ্য ইউরোপীয় কমিশন সার্বিয়ার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে । বছর তিনেক আগে রাদোভান কারাদিচ , দু’মাস আগে বসনীয় সার্ব সেনাপ্রধান রাতকো ম্লাদিচকে একই অভিযোগে আইসিসি তে পাঠিয়েছে সার্বিয়া । রাতকো ম্লাদিচের বিরুদ্ধে আট হাজার মুসলমানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে ।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কিছু দেশ সার্বিয়াকে ইইউ’র সদস্যপদ দেয়ার বিরোধিতা করেছিল । তাদের বক্তব্য ছিলো, সার্বিয়া যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতারে আন্তরিক না । এখন এই দোষ থেকে সার্বিয়া অনেকটাই মুক্ত হলো । কিন্তু সমস্যা আরো রয়েছে ।

যার মধ্যে একটি হলো সার্বিয়া এখনও কসোভোর স্বাধীনতা মেনে নেয়নি । বর্তমান বিশ্বে টেনিসের এক নাম্বার খেলোয়াড় নোভাক জকোভিচ । জকোভিচের দেশ সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ
পেতে হলে আর কত দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে সেটা দেখার জন্য বিশ্ববাসীকে অপেক্ষার প্রহর গুনতেই হবে ।

***
খবরসূত্র: শেষ যুদ্ধাপরাধীকেও হেগ’এ পাঠালো সার্বিয়া