ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

সৌদি আরবে নতুন সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে , যা অন্য কোন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পথকেও রুদ্ধ করবে । এমনটাই জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল । অ্যামনেস্টি বিবিসি কে খসড়া আইনটি দেখিয়েছে ,যেটা সৌদি আরবে মানবাধিকারকে সীমিত করবে । এই আইনে বিনা বিচারে কোন মানুষকে দীর্ঘদিন আটক রাখা যাবে , আইনি সহায়তা পাওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে যাবে এবং মৃত্যুদণ্ডের হার বেড়ে যাবে । তবে এক সৌদি কর্মকর্তা বলেছেন– আইনটি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে , ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না । সৌদি সরকার এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করেনি । তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সে কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন এ ধরনের একটি আইনের খসড়া তৈরি হয়েছে ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য তথ্য কর্মকর্তা জেমস লিন্চ বলেন , খসড়া আইনের একটি কপি তাদের হাতে এসেছে । সেখানে এমন কিছু নিপীড়নের সুযোগ রয়েছে যার বিরুদ্ধে অ্যামনেস্টি বহু বছর যাবৎ লড়াই করে চলেছে । এই আইনে সন্ত্রাসের সংজ্ঞার পরিধি আরো ব্যাপক করা হয়েছে । রাষ্ট্রের সুনাম নষ্ট কিংবা সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন বিষয়গুলোকে সন্ত্রাস বলা হয়েছে । সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিনা বিচারে ১২০ দিন আটকে রাখা যাবে । এ সময়ে কোন ব্যক্তি তার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবে না । আদালতের অনুমতি নিয়ে আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানো যাবে । বন্দিকে আইনি সহায়তাও দেয়া হবে না । সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান নিলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকছে এই আইনে ।

অ্যামনেস্টি বলেছে , নতুন এই খসড়া আইন সৌদি আরবের বিদ্যমান আইন এবং জাতিসংঘের কনভেনশন বিরোধী । অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী ফিলিপ লুথার বলেছেন– এতে সন্ত্রাস প্রতিরোধের নামে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করা হবে ।শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ছোট কর্মসূচির পথও বন্ধ হবে । শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে ।

বিবিসি’র নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনার বলেছেন– সৌদি আরব বিগত বছরগুলোতে আল কায়েদার সন্ত্রাস দমনে সফল হয়েছে ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সমালোচনার মূল বিষয় হলো , এ আইনটি যতোটা না সন্ত্রাস দমনের জন্য তারচেয়ে বেশী ভিন্ন মতাবলম্বীদের শায়েস্তা করার জন্য ।

***
Amnesty: Saudi terror law ‘would strangle protest’