ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বেশকিছু দিন ধরেই পুঁজিবাজার নিয়ে হইচই চলছে । যে সে হইচই না । একেবারে মার মার কাট কাট । বিপুল সংখ্যক নাগরিকের লগ্নি ছিল এই বাজারে । ব্যবসা করার মানসিকতা নিয়ে লগ্নি করেছিলেন নাকি রাতারাতি কোটিপতি হতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্ন করা হলে নিশ্চিত উত্তর আসবে ব্যবসা ছাড়া আর কি । ৯৬ তে তো দেখলাম । শুধু দরবেশ না , বহু চুনোপুটি লাখ লাখ টাকা , কোটি টাকার ব্যাপারি হয়েছে । একটা ব্যাপার লক্ষ্য করার মতো । যখন বড় দরপতন হয় তখন বিক্ষোভ জ্বালাও পোড়াও শুরু হয় । কিন্তু অতি মূল্যায়িত হলে আমরা কি দেখি ! নাচানাচি আর ক্যালকুলেটরের হিসাবে লাখো কোটি টাকার মালিক বনে যাবার দুঃস্বপ্ন ।

আমরা কি এমন বিক্ষোভ করেছি কখনো — আকাশচুম্বি লাভ আমরা চাই না , সকালে দশ টাকার শেয়ার কিনে বিকালে পাঁচশ টাকায় বিক্রি করে এতো লাভ চাইনা । করিনি । কারণ আমরা ফটকা উপায়েই কোটিপতি হতে চাই যে ! হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা দেয়ার মতো । এক লাখ টাকায় মাসে দশ হাজার টাকা লাভ । শুধু লাভ আর লাভ , ক্ষতি আবার কি ? ক্ষতি মানতে নারাজ ।

তাহলে যারা ছোট্ট পুঁজি নিয়ে ভুষিমালের ব্যবসা করতে নামে , তারা তো লাভের আশায় ১০০/২০০ মণ ভুট্টা বা ডাল কিনে রাখে । বিক্রি করতে গিয়ে লাভ তো দূরের কথা যখন পুঁজিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় , তখন কি তারা রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালায় !

আমি বলছি না পুঁজিবাজারে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারা নির্দোষ বা দুধে ধোয়া । আমরা ব্যবসা করব অথচ হিসেব নিকেশ করব না সেটা কিন্তু হয় না । ব্যাংকের আমানত ভেঙে অতি মূল্যায়িত শেয়ার কিনে দু’দশ দিনে ধনী হবার বাসনার ফলাফল এমনই হয় । যারা জীবনভর শেয়ার ব্যবসা করেন তারা ক*জন খুব বেশী ক্ষতির শিকার হয়েছেন খুঁজে দেখুন , অল্পই পাবেন । সারা
বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বিগত একবছরের এবং বর্তমানের স্টক একচেঞ্জ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভালো মনে করলে পুঁজিবাজারে আমরা থাকতে চেষ্টা করি নইলে আপাতত বিরতি দিই । তাতে আখেরে আমাদেরই মঙ্গল ।