ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সম্বলিত বিভিন্ন মানের ব্যাংক ও সরকারি নোট সম্প্রতি বাজারে এসেছে । ইতোমধ্যে সকলে তা জেনেও গেছে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে সবসময়ই ছিলেন , আছেন এবং চিরদিনই থাকবেন একথা অস্বীকারের উপায় নেই । তারপরও বাংলাদেশের মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভেসে ওঠা অর্থাৎ সকলের কাছে বঙ্গবন্ধুর দৃশ্যমান হয়ে উঠা , এ কারণে কি আমাদের কেউ কেউ হীনমন্যতায় ভুগছি ?

যিনি এই স্বাধীন দেশ বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিলেন, বিদ্বেষের আগুনে জ্বলে তাঁর প্রতিকৃতিতে থু ছোড়ার অভিপ্রায় কারো থাকতে পারে ! যার উদ্দেশে থু নিক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে আনা হলো , পাপ কি তাঁর ? নাকি যিনি বিকারগ্রস্ত হয়ে থু ছুড়বেন, তার ? বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে থু ছোড়া আর সংবিধান ছুড়ে মারা এসবই একই কন্ঠের আওয়াজ বা প্রতিধ্বনি নয় তো !

বাংলাদেশের মুদ্রায় বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রতিস্থাপন নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন , তাদের মনে এ প্রশ্ন কখনো জেগেছে — বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই যে নোটগুলোতে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিদ্যমান ছিল সেটা কে বা কারা নিশ্চিহ্ন করে দিলো ?

আজ নতুন করে ইতিহাস শেখানোর প্রয়োজন হয়ে পড়ল কারণ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের নোটগুলো থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নিশ্চিহ্ন করে ইতিহাস মুছে ফেলার যে গভীর চক্রান্ত ছিলো তা জাতিকে বোঝানোর জন্য । বিশেষ করে বয়সে পঞ্চাশের নীচে যাদের অবস্থান , সেই প্রজন্মকে বোঝানোর জন্য । মুদ্রাব্যবস্থা থেকে যদি ইতিহাস শেখানো বা ভোলানোর বিষয় না থাকবে তবে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের
নোটগুলো থেকে কোন ভয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে নেয়া হলো , সেটা কি আমরা ভেবেছি ?

ফিলাটেলির জগৎ সম্পর্কে নিশ্চয় এখানে অনেকের জ্ঞান সুগভীর । ফিলাটেলি অর্থাৎ ডাকটিকেট সংগ্রহ , মুদ্রা সংগ্রহ ইত্যাকার বিষয়ের সাথে ইতিহাসের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত । এসকল বিষয়গুলো যেসব ইতিহাস সচেতন নবীনদের জানতে বাকি , তারা নিশ্চয় জেনে নেবেন আশা করি । আমরা যেন কোনো কিছুতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভুল না ধরি । তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়া
আমাদের সকলের জন্য সহজ হবে ।