ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

সবসময় তাত্ত্বিক কথা বলে লাভ হয় না । তত্ত্বকথা আর ব্যবহারিক ভাষা এক হয় না কখনো কখনো । অনেক সময় তত্ত্বকথায় মানুষের
মন ভরে না , চটজলদি বুঝতেও কষ্ট হয় । এক্ষেত্রে সাদামাটা কথা প্রয়োগ করা ভাল তাতে বুঝতে পারা সহজ হবে । সরাসরি সহজ
কথায় বলতে গেলে স্বাধীনতা আমাদের যা কিছু দিয়েছে তার অন্যতম একটি হলো পতাকা। স্বাধীনতা দিয়েছে আমাদের আত্মসম্মানের
সাথে বেঁচে থাকার অধিকার ।

সেই আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে জাতিকে তুচ্ছ ভেবে , বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা বাংলাদেশের পতাকা যুদ্ধাপরাধীদের বাড়িতে ও
গাড়িতে উড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন তারা স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হতে পারে না ।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর যিনি সামরিক উর্দি পরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলে নিয়ে দালাল আইন বাতিল করে কারাগারে আটক
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সকল অভিযুক্তদের ছেড়ে দিলেন,শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করে
দিলেন তিনি বা তারা স্বাধীনতার পক্ষের নন ।

যিনি সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাস করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য হলেন পরবর্তীতে
মুক্তিযুদ্ধকালিন প্রধান সেনাপতিকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ঘোট পাকাতে ব্যস্ত ছিলেন , সেই তিনি
বা তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নন ।

মুক্তিযুদ্ধের ভাবধারায় রচিত সংবিধানের শ্লীলতাহানি করলেন যিনি বা যারা তারা স্বাধীনতার পক্ষের না ।

স্বাধীনতার মহানায়কের হত্যাকারীদের যিনি নানাভাবে পুরস্কৃত করলেন , হত্যাকারীদের যাতে শাস্তি পেতে না হয় সেজন্য তিনি
তাদেরকে আইনি সুরক্ষা দিলেন , সেই তিনি বা তারা স্বাধীনতার পক্ষের নন ।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীকে যে বা যারা সংসদে গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা বানায় তারা স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি হয় কি করে ?
বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন । বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকার যারা করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না ।

জাতির মহানায়কের হত্যাকান্ডের দিনে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ভরে যারা নকল জন্মদিন উদযাপন করে শুধুমাত্র তরুণ প্রজন্মের সামনে
বঙ্গব্ন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে হেয় করে উপস্থাপনের জন্য , তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের হতে পারেন না ।

যারা সন্ত্রাসের জন্ম দেয় জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে এবং লালন করে যা মুক্তিযুদ্ধের ভাবধারার সম্পূর্ণ উল্টো , তারা স্বাধীনতার পক্ষের না ।

যারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কে নিঃশেষ করে দিতে জঙ্গি হামলা চালায়
তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না ।

বাংলাদেশের সংবিধানকে যারা ছুড়ে ফেলে দিতে চায় প্রমাণ হয়েছে তারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকেই মানতে পারেনি ,মানেনি । তারা
স্বাধীনতার পক্ষ না ।

এখনো যারা যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচাল করতে সচেষ্ট তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না ।

মুক্তিযুদ্ধকে যারা গৃহযুদ্ধ বলে তারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না ।

মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তিকে নির্ণয় করা গেলে পক্ষ শক্তিকে চিহ্নিত করতে অসুবিধা হওয়ার কথা না ।