ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

ভেড়ামারা উপজেলার গণকবর ২

বেয়নেটের আঘাতে জর্জরিত শহীদ মীর ছফিরউদ্দিন আহমদকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে পাক হানাদার বাহিনী।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরে পুরাতন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে মীর ছফিরউদ্দিন ও তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মীর আসাদুজ্জামান তৃতীয় পুত্র মীর আব্দুর রশিদকে ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর নৃশংসভাবে হত্যা করেছে হায়েনারা । হত্যার পর একই কবরে তিন শহীদকে সমাহিত করা হয়েছে । তাদের অপরাধ ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্খা প্রকাশ করা এবং মুক্তিযুদ্ধকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়া ।

শহীদ মীর আসাদুজ্জামান তৎকালিন পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত থেকে জীবনবাজি রেখে সংগ্রাম করেছেন । মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে একনিষ্ঠ থেকে কর্ম পরিচালনা করেছেন । হায়েনারা সমাজসেবক মীর ছফিরউদ্দিন আহমদের বাড়ি মর্টার শেলের আঘাতে আঘাতে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন ও লুঠতরাজ চালিয়ে নিঃস্ব করে দেয় পুরো পরিবারকে । শহীদ মীর ছফিরউদ্দিন আহমদ অধিকাংশে বয়সে তরুণ ও নাবালক সন্তানগুলো পৃথিবীতে রেখে যুবক দুই পুত্র শহীদ মীর আসাদুজ্জামান ও শহীদ মীর আব্দুর রশিদসহ দেশের জন্য রক্ত দিয়ে নিজেদের জীবন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উৎসর্গ করে যে নতুন মানচিত্র নতুন পতাকা দিয়ে গেছেন, তাদের অবদান কেউ মনে রাখেনি । এ যে কত কষ্টের কত বেদনার !

বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে ত্রিশ লক্ষ শহীদের মধ্যে এই পিতা-পুত্রেরা দেশের জন্য জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে তারাও শহীদ । এদেরই রক্ত দিয়ে তৈরি হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা কিন্ত রাষ্ট্র এই পরিবারকে স্বীকৃতি দেয়নি । এ গ্লানি তো রাষ্ট্রের ! রাষ্ট্র যদি এ গ্লানি সইতে পারে তবে সহ্য করুক ।

শহীদ মীর ছফিরউদ্দিন আহমদের বেঁচে থাকা তিন পুত্র ও কন্যাদের যাপিত জীবন বড্ড সাদামাটা , একেবারেই সাধারণ । এক পুত্র মীর মোশাররফ হোসেন সরকারি কর্মকর্তা । কয়েকমাস হলো অবসর উত্তর ছুটি ভোগ করছেন । নিপাট ভদ্রমানুষ । সততা প্রশ্নাতীত । এধরনের গুনী পরিবার গুনী মানুষগুলোকে কেন রাষ্ট্র চেনে না ! কেন চিনতে পারে না !