ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

প্রিয় পাঠক, আপনি যদি উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে মাসকাট প্লাজার আশেপাশের বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে তো বলার অপেক্ষাই রাখে না । আর যারা মাঝে মধ্যে সেখানে যাতায়াত করে থাকেন তারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন ৭ নম্বর সেক্টর যখন বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকে তখন মাসকাট প্লাজা থেকে কী দানবীয় শব্দ ছড়াতে থাকে । মাসকাট প্লাজার নিজস্ব জেনারেটর থেকে এই দানবীয় সুর ছড়ানো হয় । অবশ্য এই সুরের (!) মূর্চ্ছনায় স্হানীয় নিরীহ মানুষ মূর্চ্ছা যেতে পারে কিনা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই তাদের ।

শিশু-কিশোর, প্রবীণ নারী-পুরুষ ও অসুস্হ মানুষের কাছে এই শব্দের ভয়াবহতা ইস্রাফিলের বাশিঁর শব্দের মতোই যে কঠিন মনে হয় তা ঐ অর্বাচিন কর্তৃপক্ষ আমলে নেয় না । কারণটা কী তাদের বুদ্ধির অপরিপক্বতা ! হয়তো নিজেদের বুদ্ধিটাকে তারা পাকতেই দেয় না । দু‘বছর বয়স থেকেই নাকি মানুষের মস্তিষ্কে ৮০ ভাগ বুদ্ধি তৈরি হয়ে যায় আর এদের বুড়ো বয়সেও বুদ্ধি গজায় না ! এদের না গজানো বুদ্ধি দিয়ে যদি প্রশাসনিক তাবৎ কাজকর্ম চলে তাহলে তো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শব্দ দূষণের ফলে বধির, মস্তিষ্কের বিকৃতি ও বিকল হৃদযন্ত্র নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বড় হবে । তখন ভবিষ্যতের রাষ্ট্রযন্ত্রের হাল কারা ধরবে, কীভাবে চলবে রাষ্ট্রের কার্যক্রম !

স্হানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছে কিন্ত্ত তাতে কী আসে যায় । পরিবেশ অধিদপ্তর তো এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবে না । মনে হয় তাদের কাজ শুধু এধরনের দানবীয় শব্দযন্ত্র স্হাপনের ছাড়পত্র দিয়ে যাওয়া । কোনো না কোনো অদৃশ্য শক্তিবলেই তো মাসকাট প্লাজা থেকে অসভ্য যাতনা ভরা শব্দ ছড়ানো হয়, তাতে মানুষ মরুক না হয় আধমরা হোক তাতে মাসকাট প্লাজা কর্তৃপক্ষেরই কী, পরিবেশ অধিদপ্তরেরই বা কী ।

এধরণের দৈত্য সুর ছড়িয়ে যারা নিরীহ জনগণকে অস্থির করে তোলে, তাদের শাস্তি কেন হয় না, একি জনগণ একেবারেই বোঝে না । বোঝে । নগদ নারায়ণই যে সকল ক্ষমতার উৎস !