ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাকরির অবসরের বয়সসীমা ৫৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫৯ বছরে উন্নীত করা হয়েছে । এর আওতাভুক্ত হতে পারেননি পিআরএল ভোগরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা । গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১১ থেকে অবসরের বয়সসীমা ২ বছর বাড়িয়েছে সরকার । পিআরএল ভোগরতদের বয়স বাড়ানোর সুবিধা ভোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পিআরএল ভোগরতগণ অবসর উত্তর ছুটি ভোগ করছেন অর্থাৎ তাঁরা আর চাকরিতে নেই, তাই বয়স বৃদ্ধির সুবিধা পাবেন না ।

অর্থ মণ্ত্রণালয় কর্তৃক ৬ এপ্রিল ২০১০ তারিখে জারিকৃত পিআরএল এর স্পষ্টীকরণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের ‘খ‘ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে , “ এক্ষেত্রে গণকর্মকর্তা/কর্মচারিগণের অবসর প্রস্ত্ততিমূলক ছুটিকালিন সময়ে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অন্যান্য সকল নির্দেশনা পূর্বের ন্যায় অবসর উত্তর ছুটিকালিন সময়েও বহাল থাকবে“।

পিআরএল ভোগরতগণ এলপিআর ভোগরতগণের সময়ে প্রাপ্ত সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন- যেমন প্রতিমাসে বেতনভাতা নিচ্ছেন, বিদেশে যেতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়, বছর শেষে একটি ইনক্রিমেন্টও দেয়া হবে । এছাড়া ছুটিভোগ শেষে একবছর পর পেনশন-গ্রাচুয়িটি প্রদান করা হবে ।

পিআরএল এর অর্থই যদি হবে আর চাকরিতে না থাকা তাহলে ‘ছুটি‘র প্রসঙ্গ আসছে কেন ? বহাল থাকলেই তো ছুটির প্রসঙ্গ আসে । উপায় হলো পিআরএল থেকে ছুটি শব্দটি বাদ দিয়ে ‘ক্লান্তিভাতা‘ অথবা ‘অবসর পরবর্তী বিনোদন ভাতা‘ এই জাতীয় শব্দ যুক্ত করা্‌ । এই এক বছর উনারা ক্লান্তিভাতা গ্রহন করবেন এবং যথানিয়মে ৫৮ বছর শেষ হবে । আর যদি তা না হয় তাহলে তাদেরকে ৫৭ বছর শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সকল দেনা-পাওনা পরিশোধ করে চাকরি থেকে অবসর দেয়া হোক ।

১৯৭৪ সালে পাবলিক সার্ভেন্ট এ্যাক্ট ও পাবলিক রিটায়ারমেন্ট এ্যাক্ট প্রবর্তন করে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ডিউটি পদে চাকরির বয়স করা হয় ৫৭ বছর এবং ১ বছর LPR ( Leave Preparatory on Retirement) করা হয় । অর্থাৎ ৫৭+১= ৫৮ বছর । PRL ( Post Retirement Leave ) এর ক্ষেত্রেও ৫৭+১= ৫৮ বছর ।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরির বয়স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এলপিআর ভোগরতগণ বয়স বৃদ্ধির সুবিধা ভোগ করেছেন । অথচ পিআরএল ভোগরতগণও ছুটি ভোগ করছেন কিন্ত্ত অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধির আওতায় তাদেরকে আনা হলো না । ছুটির প্রসঙ্গ না থাকলে আজ পিআরএল ভোগরতগণ চাকরিতে পুনরায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পেতেন না ।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে অথবা জানুয়ারি ২০১১ থেকে যে সকল পিআরএল ভোগরতগণ আছেন তাদেরকে চাকরিতে অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে সরকারের ভেবে দেখা উচিৎ । এসকল কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের আনুতোষিক পরিশোধ করতে সরকারের কিছুদিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন পড়বে । বিশ্ব অর্থনীতির মন্দার এই ক্ষণে এতো বিপুল পরিমাণ অর্থব্যয়কে প্রলম্বিত করতে তাদেরকে চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকার ভেবে দেখতে পারে ।