ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

গণহত্যা, জেনোসাইড, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়গুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে । বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে বিষয়গুলো জড়িত । ইতিহাসের কাঠগড়ায় বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের অপরাধীদের দাঁড় করানো হয়েছে । বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । এমনি মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একটি পক্ষ বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করে চলেছে ।

প্রশ্ন তোলা হচ্ছে দেশীয় ট্রাইব্যুনাল হলে সেটা আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল হয় কীভাবে ।

আসলে দেশীয় ট্রাইব্যুনালে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধের‘ বিচার করা হচ্ছে । তাই সেটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল । যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, শান্তির বিরুদ্ধে অপরাধ বিশ্বের যেখানেই ঘটুক না কেন, সারা বিশ্ব এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে যায় । এ ধরনের অপরাধ কঙ্গো, রুয়ান্ডা বা ইরাকে হোক, দৃশ্যত তাদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই । কিন্তু এ অপরাধগুলো সারা পৃথিবীর সকল মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ ।

এ অপরাধগুলো হচ্ছে মানুষের মৌলিক ধারণার বিরুদ্ধে আক্রমণ । যারা পৃথিবীর এক অঞ্চলের একটা জনগোষ্ঠী বা জাতিকে হত্যা করছে, তাদের বিশ্বাসের জন্য মারছে বা মারার পরিস্হিতি তৈরি করছে, সুতরাং তারা এ ধরনের অপরাধ সারা পৃথিবীর বিরুদ্ধেই করছে, পৃথিবীর সকল মানুষের বিরুদ্ধেই করছে । সে কারণেই এটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ।

চল্লিশ বছর আগে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে দুষ্কর্ম ঘটিয়ে তারা যে আন্তর্জাতিক অপরাধ করেছে তার প্রতিবিধান করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, দুর্ভাগ্য রাষ্ট্র এতোকাল সে দায় গ্রহণ করেনি । এখন গ্রহণ করেছে তাই এ বিচার আমাদের এড়িয়ে গেলে চলবে না । এ বিচারে বাংলাদেশের জনগণকে জয়ী হতে হবে ।