ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আইনি প্রক্রিয়া মেনে শেষমেশ বাংলাদেশ সমুদ্রসীমার অধিকার আদায় করে নিতে পারল । মিয়ানমারের সমদূরত্ব ভিত্তিক যুক্তি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে অগ্রাহ্য হয়েছে । বাংলাদেশের অভিযোগ ছিল, তার সমুদ্রসীমার ভেতর প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার ও ভারত তাদের সমুদ্রসীমার বিস্তার ঘটিয়েছে । এর আগে বাংলাদেশ সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ব্যবস্থা নিলে দেশ দু‘টি কাজে বাঁধার সৃষ্টি করে । এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে পাশাপাশি সার্বভৌমত্বের ওপর চ্যালেঞ্জ দেখা দেয় ।

জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ UNCLOS ( United Nation Convention of Law of Sea ) অনুযায়ী এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সালিস আদালতে যায় । মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে এই বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের আদালতে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি ছিল অত্যন্ত জোরালো, সুস্পষ্ট এবং ন্যায্য । অনেকের ভাবনা ছিল বাংলাদেশ এ আইনি লড়াইয়ে জিতবে কী না । যেখানে মিয়ানমার সামরিক শাসকের আগ্রাসী নীতি ও একরোখা মনোভাব এবং ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তিশালী চাল সেই সাথে পারদর্শিতা, সেখানে ভাবনা থাকাটা স্বাভাবিক । যদিও ভারতের ক্ষেত্রে ভাবনাটা রয়েই গেছে ।

মূলত মিয়ানমার ও ভারত সমুদ্রসীমা নির্ধারণে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ‘সমদূরত্ব নীতি‘র আশ্রয় নেয় । কিন্তু ‘সমদূরত্ব নীতি‘ ( Principle of Equidistance )- র বিধানে শর্ত রয়েছে, যদি দু‘টি বা ততোধিক দেশের উপকূল রেখা পরস্পর বিপরীত বা বক্রভাবে বিরাজ করে সেখানে সমদূরত্বের নীতি কার্যকর হবে না । কারণ এতে কোনও একটি দেশ তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারে । এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ঐ দু‘টি দেশের সমুদ্র উপকূল পরষ্পর বক্রভাবে বিরাজ করলেও তারা বিষয়টিকে গুরুত্বহীন করতে চেয়েছে । সমদূরত্ব নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে ঐ দু‘টি দেশ বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে, করে চলেছে ।

অবশেষে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের মৎস্য সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদের মালিকানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত পেল বাংলাদেশ । এখন ভারতের সাথেও বিরোধ নিষ্পত্তির কাজে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ । আরেকটি আন্তর্জাতিক সালিস আদালতে তার নিষ্পত্তি হবে । এতে দু‘দেশের সম্পর্কে চিড় ধরুক আমরা তা চাই না । আশা করি বাংলাদেশ তার প্রাপ্য অধিকার আদায়ের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের সাথে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেও সক্ষম হবে । এ দুনিয়ায় বেশীরভাগ সময় রাজনীতির বা কূটনীতির চাল ন্যায়নীতির ধার ধারে না । প্রভাবশালীরাই শেষে কিস্তিমাত করেন । এক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের প্যাঁচানো চাল ঘায়েল করতে বাংলাদেশ সক্ষম হয়েছে বা অর্জন করতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতেও পারবে বলে মনে হয় ।