ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপণ লড়াই করে স্বাধীন বাংলাদেশ এ জাতিকে উপহার দিয়েছেন । আমরা কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে । জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করেছেন তাঁরা । এ ‍ঋণ আমরা শোধ করার কথা ভাবতেও পারি না । অপরিশোধ্য এ ঋণ ।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো যখন আমরা তাদের মুখ থেকে শুনি, আঞ্চলিক ইতিহাস পড়ে জানি তখন সত্যিই শিহরিত হই । গর্ববোধ করি । স্বীকার করতেই হবে- অসাধারণ এ বীরত্ব !
কিন্তু এ বীরত্বের কাহিনীতে অসত্য কাল্পনিক তথ্যও স্হান পায় যা ভেবে দেখা উচিৎ ইতিহাসের গ্রন্হ যারা সম্পাদনা করেন, অনুষ্ঠান উপস্হাপনা করেন এবং এ কাজে যিনি বা যারা সংশ্লিষ্ট থাকেন ।

মুক্তিযুদ্ধকালিন দুই স্হানের দু‘টি ঘটনা যার একটি আঞ্চলিক ইতিহাস বই থেকে অন্যটি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে । ঘটনাটি তুলে ধরব যা প্রায় একই রকম কিন্তু যৌক্তিকতায় ব্যবধান অনেক । অন্তত এক জনের পরিচয় গোপন রেখে শুরু করা ভাল ।

প্রথম ঘটনা:

৩ এপ্রিল সকালে পাকিস্তানি বাহিনী চুয়াডাঙ্গার উপর অতর্কিতে বিমান হামলা চালায় । বিমান থেকে ইপিআর ক্যাম্প, সরকারি কলেজ, বড় বাজার ও রেলস্টেশনের উপর বোমা বর্ষণ ও মেশিনগানের গুলি ছোঁড়া হয় । আমাদের কাছে থ্রি-নট-থ্রি বোল্ট এ্যাকশন রাইফেল ছিল ; তাই দিয়েই বিমানের দিকে গুলি ছুঁড়েছিলাম, যা মনে হলে এখন হাসি লাগে । (লেখক: গেরিলা কমান্ডার, চুয়াডাঙ্গা ; মুক্তিযুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা:দলিল ও ইতিহাস, রাজিব আহমেদ সম্পাদিত )

দ্বিতীয় ঘটনা:

সন্মানিত বীর ‍মুক্তিযোদ্ধা তাঁর জবানে এভাবে বর্ণনা দিচ্ছেন যে তিনি একটি পাকিস্তানি বিমান উড়ে যেতে দেখলেন । সাথে সাথে তিনি একটি ইউক্যালিপ্টাস গাছে উঠে থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল দিয়ে গুলি করে বিমানটি ভূপাতিত করেছিলেন ।

সুপ্রিয় ব্লগার এবং পাঠকবৃন্দ লক্ষ্য করুন, প্রথম ঘটনাটি জেনে মনে হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধার অল্প বয়স, দ্রোহের আগুনে কোনো কিছু না ভেবে কাজটি করেছিলেন, সম্ভব হবে ভেবেই গুলি চালিয়েছিলেন । কিন্তু সম্ভব হয়নি । মুক্তিযোদ্ধা লেখক “হাসি“ পাবার ভেতর দিয়ে সেটি স্বীকারও করে নিয়েছেন । এতে মোটামুটি প্রমাণ হচ্ছে ঘটনাটি সত্য ।

কিন্তু দ্বিতীয় ঘটনাটি সস্মানিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সন্মান রেখে বলতে ইচ্ছে করছে ঘটনাটি অবাস্তব না তো ! প্রথমত, ইউক্যালিপ্টাস গাছের মাথায় উঠতে পারা কী সম্ভব ! দ্বিতীয়ত, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল দিয়ে কী বিমান ভূপাতিত করা যায় !

স্বীকার করি বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনেক অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন । মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছেন জীবনের । তারপরও বলব ইতিহাসের বয়ান দিতে গিয়ে যেন নির্মোহ থাকেন তাঁরা । ইতিহাসের সাক্ষী তাঁরা । তাঁদের সাক্ষ্যে যেন অবাঞ্চিত কিছু না আসে । মুখ ফসকে যাওয়া জবানিতে ইতিহাস তৈরি হয় না । গবেষক যারা আছেন নিশ্চয় পূর্বাপর বিষয়টি তাঁরা নজরে রাখবেন । ইতিহাস গ্রন্হিভূক্ত করতে গেলে ত্রুটি-বিচ্যূতি খুব স্বাভাবিক । হয়ত এ সামান্য ভুল থেকেও আমরা উতরে যাব একদিন ।