ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ছিনতাই সারাদেশেই হয়, হচ্ছে।সম্প্রতি বেড়েছে মিরসরাইয়ে।

 

এক.

৬ আগস্ট, ইসলামী ব্যাংক মিরসরাই শাখা থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা তুলে বাড়ির উদ্দেশ্যে অটোরিক্শায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই স্কুল শিক্ষক সালেহিনকে তুলে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চক্র। কিছুদূর গিয়ে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেওয়ার পর ওই শিক্ষককে ফেলে যায় চক্রটি।

 

দুই.

১৯ আগস্ট, বারইয়ারহাটের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ ও বিকাশ থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ফিরোজ খান। পথিমধ্যে তিনিও আক্রান্ত। টাকা ছিনিয়ে তাকেও ফেলে দেওয়া হয় দূরে কোথাও।

 

তিন.

২৪ আগস্ট, ইসলামী ব্যাংক মিরসরাই শাখা থেকে তিন লাখ টাকা তুলে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নুরুল বারী। মাঝপথে তাকেও ঘিরে ধরে ছিনতাইকারী চক্র। একই স্টাইলে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে টাকা ছিনিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।

 

সর্বশেষ.

আজ ৩০ আগস্ট, মিঠাছড়ায় রংধনু ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজনকে গুলি করে প্রায় কোটি টাকা ছিনিয়ে নেয় একটি চক্র। তিনজনই এখন আশংকাজনক, হাসপাতালে। টাকা জমা দেওয়ার জন্য পূবালী ব্যাংকের নিচে পৌঁছামাত্রই দুটো মোটরবাইকে করে একটি চক্র তাদের ঘিরে ধরে। এরপর তিনজনকেই গুলি করে টাকা ছিনিয়ে ছিটকে পড়ে।

 

stripped

 

২৫ দিনের ব্যবধানে মিরসরাইয়ের একই স্টাইলে ঘটিত এই চারটি ঘটনা সারা দেশের এখনকার একটি অংশের প্রতিচিত্র। প্রথম এবং দ্বিতীয় ঘটনার পরও পুলিশ নীরব ছিল! তৃতীয় ঘটনার পর কিছুটা তৎপর হলে প্রথম ঘটনায় জড়িত দুজন গ্রেপ্তার হয়। ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পাওয়া ছবির সূত্র ধরে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তারা আবার যুবলীগের রাজনীতি করেন। নাম- ফারুক ও আরমান।

 

তারা ক্ষমতাসীন দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, বিষয় সেটি না। বিষয় হলো- একদিকে তারা দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন, অন্যদিকে থানায় গিয়ে তাদের সাধু বানানোর অপচেষ্টা! ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতা ওসিকে বললেন- দলের ভেতরে কিছু ‘অপরিচ্ছন্ন’ লোক থাকতে পারে, কিন্তু কোনভাবেই ‘ছেঁচড়া’ লোক নেই। তিনি বোঝাতে চাইলেন যে- ফারুক ও আরমান কেবলমাত্র যুবলীগের নেতা বা কর্মী; তারা কোনভাবেই ছিনতাইকারী হতে পারেন না!

 

অদ্ভুত এক উটের পিঠে চলছে স্বদেশ- বিস্ময় জাগানো এই প্রবাদটিই যেন চিরকালীন ধ্রুব সত্যে পরিণত হতে চলেছে। চোরকে চোর বলতে অসুবিধা হয় কোথায়? দলের ভেতরে ছিনতাইকারী থাকলে দলও তো টিকবে না। কৌশলে সে গোটা দলটাকেই ছিনিয়ে নেবে! এটা কেন বোঝেন না তারা? চোরকে সাধু বানানোর চেষ্টা সফল হলেই তারা অনেক লাভবান হবেন?

 

থানা পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। অভিযোগ ওঠে- মিরসরাইয়ের প্রথম ঘটনাটি আমলেই নিচ্ছিল না পুলিশ। ব্যাংকের তৎপরতায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চক্রটিকে প্রথমে আবিস্কার করা হয়। পরে পুলিশ তাতে সম্পৃক্ত হয়। এখন আধুনিক যুগ। মোটামুটি সবখানেই প্রযুক্তিগত সুবিধা আছে। ৬ আগস্ট ঘটনার পরপর সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে সেদিনই ওই চক্রটিকে শনাক্ত এবং পর্যায়ক্রমে আটক করা সম্ভব হতো। এরপর হয়তো দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঘটনাগুলো ঘটতো না। ওই দুটো ঘটনায়ও এই চক্রটির সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়। এসব ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নের দাবি রাখে।

 

আজকের ঘটনাটির সঙ্গে কারা জড়িত, সেটি এখনো কেউ জানে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একজন এমরান, যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। আর, এই ঘটনায়ও যদি পুরনো চক্রটি জড়িয়ে থাকে, তাহলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য মুখিয়ে আছি। তারা এখন আর কাউকে সাধু বানাতে চাইবেন কি না সেটিও জানার আগ্রহ আছে।

 

ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০১৫

লেখক : সাংবাদিক।