ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
জঙ্গিবাদ নিয়ে শাসকদলের মুখে খই ফুটেছিল।  যার খেসারত আমরা ইতোমধ্যে দিতে শুরু করেছি।  বিশেষ করে ক্রিকেটে এর নেতিবাচক প্রভাব প্রমাণিত।  নেতারা যতই জঙ্গিবাদের কথা বলুন না কেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে প্রশাসন তার প্রমাণ পাচ্ছে না। সর্বশেষ রাতে শিয়াদের ওপর বোমা হামলার ঘটনায়ও না!
আইজিপি বলেছেন, পুরান ঢাকার হোসনি দালানের ঘটনা পরিকল্পিত হামলা, কোন জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা নেই।  এর আগে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও জঙ্গিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।  তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে না আসায় অস্ট্রেলিয়ার অজুহাতের ভিত্তি কী?
দেশে সম্প্রতি স্পর্শকাতর ঘটনা বেড়েছে।  কয়েকজন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পর বড় ঘটনা হলো দুই বিদেশি নাগরিক খুন।  এরপর গতরাতের ঘটনা।  শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় সাজ্জাদ নামে এক কিশোর মারা যায়।  আহত অন্তত ১০০।  এই ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে কচ্ছপগতিতে!
গতরাতের হামলার তদন্ত শুরুর আগেই সরকারি দলের নেতারা কথা বলতে শুরু করেছেন।  অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এবং মাহবুবউল আলম হানিফ আঙুল তুলেছেন বিএনপি-জামায়াতের দিকে।  তাদের দাবি, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ওই গোষ্ঠী একের পর এক নাশকতা ঘটিয়ে যাচ্ছে।  তদন্তে সাম্প্রতিক হামলাগুলোয় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না বলেই কী সরকারি দলের নেতাদের সুরটা বিএনপি-জামায়াতের দিকে যাচ্ছে?
দলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নেতা কিসের ভিত্তিতে এত বড় অভিযোগ তুলেছেন সেটা পরিস্কার নয়।  তবে তাদের দাবির ভিত্তি যদি সঠিক থাকে, তাহলে এর চাইতে মারাত্মক আর কিছু থাকতে পারে না।  তদন্তে এই অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে হামলাকারী বা গোষ্ঠীর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।  আর যদি ঘটনা অন্যরকম হয়, তবে এই নেতাদের কাছে অহেতুক বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করছি।  একইসঙ্গে এ ধরনের বক্তব্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে প্রভাব ফেলে কি না সেই সংশয়ও থেকে যায়।
এ ধরনের ঘটনায় স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যই প্রত্যাশিত।  অন্যরা অকারণে মুখ নাড়েন কেন বুঝি না।  মানুষের কান এখন আগের মতো নেই। দেশে এমন কোনো পরিবেশ এখন নেই যে, নেতারা একটা বাণী ছড়ালেন, অমনি জনগন সেটি কানে তুলে নিল! স্বরাস্ট্র মন্ত্রী আজ বলেছেন, হামলায় শক্তিশালী গ্রেনেডের ব্যবহার হয়েছে।  আর এটি জঙ্গি হামলা নয়, পরিকল্পিত নাশকতা বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক।
ঢাকার ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানেও শিয়াদের শোভাযাত্রায় আত্মঘাতি হামলা হয়। ওই ঘটনায় মারা গেছেন ২২ জন। আগেরদিন আরেক ঘটনায় মারা যান ১০ জন। আমাদের দেশে এ ধরনের খবরগুলো তীব্র হুমকিস্বরূপ।  আমরা পাকিস্তানের পথে এগোচ্ছি না তো?
স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর তদন্তে জঙ্গিবাদের প্রমাণ মেলেনি।  অন্যদিকে সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা প্রায় সবগুলো ঘটনার সঙ্গেই বিএনপি-জামায়াতের দিকে তীর ছোড়েন।  তাহলে আমরা কী মুখোশধারী জঙ্গিবাদে আক্রান্ত? নাকি জঙ্গিবাদের বক্তব্য বাস্তবতা নয়, রাজনৈতিক! নইলে রাষ্ট্রের মাথার ওপরে বসে থাকা ব্যক্তিরা জঙ্গিবাদের খই ফোটানোর পরও এ সংক্রান্ত তদন্তে প্রশাসনের অনীহা কেন?
লেখক : সাংবাদিক, news.joynal@gmail.com