ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

‘আম্মা,

সালাম নেবেন।

আমি ভালো আছি এবং নিরাপদেই আছি। দুশ্চিন্তা করবেন না। আব্বাকেও বলবেন। …এখানে গতকাল ও পরশু পুলিশ বনাম আর্মির মধ্যে সাংঘাতিক সংঘর্ষ হয়ে গেলো। শেষপর্যন্ত আমরা জিততে পারিনি।

রাজশাহী শহর ছেড়ে লোকজন সব পালাচ্ছে। শহর একদম খালি। মিলিটারি কামান ব্যবহার করেছে। আড়াই ’শর মতো পুলিশ মারা গিয়েছে। চারজন আর্মি মারা গিয়েছে মাত্র। রাজশাহীর পরিস্থিতি আর্মির আয়ত্তাধীনে রয়েছে।

…আমার জন্য ব্যস্ত হবেন না। যেভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আমাদের বেঁচে থাকাটাই লজ্জার। আপনাদের দোয়ার জোরে হয়তো মরব না। কিন্তু মরলে গৌরবের মৃত্যুই হতো। ঘরে শুয়ে শুয়ে মরার মানে হয় কি?

এবার জিতলে যেমন করে হোক একবার নওগাঁ যেতাম। কিন্তু জিততেই পারলাম না। হেরে বাড়ি যাওয়া তো পালিয়ে যাওয়া। পালাতে বড্ড অপমানবোধ হয়।’

একাত্তরের ২৯ মার্চ মা নূরুস সাবাহ রোকেয়ার উদ্দেশ্যে এই চিঠি লেখেন কাজী নূরুন্নবী। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু পড়াশোনার ইতি আর হলো কই? ঘটে যায় জীবনেরই যবনিকা! মুজিব বাহিনীর রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১ অক্টোবর পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে আটক করে নিয়ে যায় শহীদ জোহা হলে।

গৌরবের মৃত্যু চেয়েছিলেন বলে পালিয়ে যাননি। বুক চিতিয়ে লড়েছেন দেশমাতৃকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে। শেষপর্যন্ত অজানায় মিশে যেতে হলো তাঁকেই।

যুদ্ধে যাবারকালে মায়ের কাছ থেকে ‘শেষ বিদায়টা’ এভাবেই নিয়েছেন তরুণ-যুবকেরা। কেউ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ চাকরিতে। মায়ের আঁচলতলে থাকা সন্তানেরাও গেছেন যুদ্ধে। তাঁদের মাথায় মায়ের প্রার্থনার হাত ছিলো। আর, দূর থেকে আরো দূরে চলে যাওয়া সন্তানদের জন্য ছিলো মায়ের একবুক হাহাকার, আর অবিরত প্রার্থনার অশ্রুধারা।

আমাদের যুদ্ধটা কত বেশি অনিবার্য হয়ে পড়েছিলো তা ৭ মার্চের রেসকোর্সই প্রমাণ। একাত্তরের চিঠিগুলি যেন তার চেয়েও বেশিকিছু! রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ-যুবকেরা স্বাধীনতার নেশায় যেভাবে জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন, যেভাবে তাঁরা মায়ের কাছে লেখা চিঠিতে যুদ্ধের অনিবার্যতা খুবই সংক্ষেপে তুলে ধরেছিলেন, ত্রিশ লাখ শহীদের এক সাগর রক্তেই তার প্রমাণ মেলে।

1

কাজী নূরুন্নবীর চিঠিতে তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত বলেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত সেটিই হয়েছে, যেটি তিনি চেয়েছিলেন। গৌরবের মৃত্যুই হয়েছে তাঁর।

আরেকটি চিঠির উদ্ধৃতি না দিয়ে পারছি না-

‘মা,

দোয়া করো। তোমার ছেলে আজ তোমার সন্তানদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে চলেছে। বর্বর পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী আজ তোমার সন্তানদের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে তোমার সন্তানদের ইজ্জতের ওপর আঘাত করেছে, সেখানে তো আর তোমার সন্তানেরা চুপ করে বসে থাকতে পারে না। তাই আজ তোমার হাজার হাজার বীর সন্তানেরা বাঁচার দাবি নিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করবার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তোমার নগণ্য ছেলে তাদের মধ্যে একজন।’

একাত্তরের ২৩ এপ্রিল চিঠিটি লিখেছিলেন তরুণ খোরশেদ। মা রাহেলা খাতুনের কাছে দেওয়া এই চিঠি যেন একাত্তরের সকল মুক্তিযোদ্ধার ভেতরে দেশপ্রেম আর বিজয়ের ব্যাকুলতা ফুটিয়ে তোলে। তাঁরা সত্যিই ব্যাকুল ছিলেন একটি স্বাধীন দেশের প্রতীক্ষায়। যুদ্ধের শুরুতে, মাঝপর্যায়ে কিংবা প্রায় শেষদিকেও একাত্তরের রণাঙ্গন থেকে চিঠি লিখেছিলেন তাঁরা। বেশিরভাগ চিঠিই মায়ের উদ্দেশ্যে।

মায়ের উদ্দেশ্যেই কেন লিখলেন সবাই? তাঁদের তো বাবাও ছিলো, কারো ভাই-বোন কিংবা সন্তানও। তাহলে শুধুই মায়ের কাছে কেন চিঠি লিখেছিলেন তাঁরা।

আমার ধারণা, যুদ্ধের ময়দানে তাঁরা আরো বেশি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন জীবনে মা কত বেশি গুরুত্বের। যে দেশকে বাঁচাতে জীবন বাজি রেখেছিলেন, সেই দেশটাকে হয়তো মায়ের সমানই ভেবেছিলেন। সেই থেকেই তো দেশমাতৃকা। তাঁদের কাছে তখন হয়তো দেশই মা। দেশই জননী। এই মাকে বাঁচাবার নেশা তাই পেয়ে বসেছিলো। এক মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্য মাকে বাঁচাবার যুদ্ধে নেমে তাঁরা আরো বেশি আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। সেই আবেগ তাঁদের চেতনাকে আরো শাণিত করেছে। মায়ের প্রতি আবেগ-ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতার এই যুদ্ধ জয় করতে গিয়ে তাঁদের অনেকেই আর ফিরতে পারেননি।

একাত্তরের চিঠিগুলি পড়তে গিয়ে পেয়েছি শ্রীনগরের মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনকে। পেয়েছি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার চিঠি প্রাপক আনোয়ারা বেগমকেও। এই মায়ের ছেলে মোস্তফা আনোয়ার কামাল লিখেছিলেন মায়ের কাছে। তাদের পিতা-পুত্র দুজনকেই ধরে নিয়ে যায় পাকবাহিনী। মাকে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে লেখা চিঠিতে ছেলেকে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। শেষপর্যন্ত এই ছেলে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু সঙ্গে আনতে পারেননি জীবিত বাবাকে।

এই মায়ের কাছে লেখা চিঠি পড়ে আমার মাকে মনে পড়ে যায়। আমার মা-ও আনোয়ারা বেগম। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি টগবগে কিশোরী। সেই দিনগুলির করুণ ইতিহাস মায়ের মুখে শুনেছি বহুবার। পাক বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন আর বর্বরতার গল্পগুলোই ঘুরেফিরে এসে যায়। মুক্তিযুদ্ধ ছোঁয়া জননী আমার সেই ইতিহাস বলতে গেলেই চোখ দুটো ভিজে আসে। চোখ ভিজে যায় গল্প শুনলেই।

ফজরের আজান তখনও হয়নি। দুয়ার খুলতেই ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাবার ডাকে আচমকা ঘুম ভাঙে আনোয়ারার। চোখ মেলে দেখেন, সামনে কেবল বাবা নন, মা-ও দাঁড়িয়ে। বাবা ফিসফিসিয়ে বলেন- তাড়াতাড়ি ওঠ। আমাদের এক্ষুণি বেরোতে হবে।

মেয়ে জানতে চান কেন গভীর রাতে বেরোতে হবে। তখন আর উত্তর দেবার সময় নেই।
খানিক বাদে কানে আসে মুয়াজ্জিনের আজান। স্ত্রী আর কন্যাকে নিয়ে হেঁটে চলেছেন নূরুল ইসলাম। আঁকাবাঁকা মেঠোপথ পেরিয়ে ধানি জমিতে তাদের পা। পথিকের রোজকার চলাচলে জমির মাঝখানে সরু রাস্তা হয়ে গেছে। সেই পথ ধরেই এগোন তারা।

আনোয়ারা ভাবতে থাকেন- পশ্চিমে নানার বাড়ি, উত্তর-দক্ষিণও আত্মীয়-স্বজনে ভরা। অথচ তারা ছুটলেন পূবে। ওদিকে তো পাহাড় আর গহীন বন। আনোয়ারা কোনমতেই হিসাব মেলাতে পারছেন না।

মনে মনে বাবাকে বকছেন তো বকছেনই- ‘আব্বা বোধোয় পাগল হয়ে গেছে। পাহাড় জঙ্গলের দিকে কই যে নিয়া যায়, আল্লায় জানে…।’

কমপক্ষে ছয় কিলোমিটার হেঁটেছেন। যেদিকে যাচ্ছেন, সেদিক থেকে সূর্যটা ততক্ষণে উঁকি মেরেছে। সবুজ প্রকৃতি ধীরে ধীরে জাগছে। পখিদের ঘুমও ভেঙেছে। আশেপাশের ছোটখাটো টিলা-পাহাড় থেকে নানা রকমের পাখপাখালির কলতান।

আরো কিছুক্ষণ হাঁটার পর থামলেন নূরুল ইসলাম। আনোয়ারা দেখলেন, সেই জায়গাটি আগে থেকেই মুখর অনেক মানুষে। পাহাড়ের ভেতরেই মাথা গুঁজে আছেন বহু মানুষ।

পাহাড়ের মাঝামাঝিতে এক পাশে বানানো হয়েছে বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ। ভেতরে কোনমতে থাকার বিশাল জায়গা। বাইরে থেকে বোঝাই যায় না, ভেতরে কেউ থাকতে পারে। এ রকম এক সুড়ঙ্গের ভেতরেই জায়গা হলো আনোয়ারাদের।

কিশোরী মেয়েটি ততক্ষণে বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছেন। কেন ঘুটঘুটে অন্ধকার না কাটতেই ঘর ছেড়ে বেরোতে হলো তাদের। স্ত্রী-কন্যা নিয়ে নূরুল ইসলামের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল কেন, সেটিও এখন পানির মতো সহজ।

তখন যেটি চলছিল সেটি যুদ্ধ নয়, অত্যাচার। আসল যুদ্ধ শুরু হয়েছে নিরস্ত্র বাঙালিরা যেদিন থেকে অস্ত্র ধরতে শিখেছে। যেদিন থেকে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে বুকে বল পেয়েছে।

তার আগে পরিস্থিতিটা ছিল একচেটিয়া পাকিস্তানিদের। সুযোগ নিয়ে তারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। বাড়িঘর পুড়িয়েই থেমে থাকেনি, ঘরের বউ-কন্যাদের ধরে নিয়ে নির্যাতনের মতো বিভীষিকাও শুরু হয়।

রাতে চায়ের আড্ডায় খবরটি শুনে আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি। ঘরে ঢুকেই প্রথমে মেয়ের কক্ষে যান নূরুল ইসলাম। মেয়ের নিষ্পাপ মুখটি দেখে তিনি চোখের পানি ফেলে দেন। ওই রাতেই নিজের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন।

প্রতিবেশীদের অনেকে আগেই বাড়ি ছেড়েছেন। নূরুল ইসলাম বাড়ির মায়া ছাড়তে চাননি। ভেবেছেন, তাঁদের কিছুই হবে না। শেষপর্যন্ত পরিবর্তিত পরিস্থিতির কাছে তিনি নত হলেন। স্ত্রী-কন্যাকে রক্ষা করতে ধরলেন পাহাড়ের পথ।

এর মধ্যে খবর এলো- নূরুল ইসলামের বাড়িতে হানা দিয়েছে পাক হানাদারের দল। পুরো বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধানের গোলা জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেওয়া হয়েছে। আশেপাশে সবগুলো বাড়িই জ্বালিয়ে ছাই করে দিয়েছে পাকবাহিনী।

নূরুল ইসলাম এবং তার মতো আরো কয়েকজন পুরুষ অবর্ণনীয় কষ্ট করেন তাদের স্ত্রী-কন্যাদের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দিতে। এক, দুই মাস না, টানা নয় মাস তাদের কাটে গহীন পাহাড়েই। তারপর একদিন বিজয়ের ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখর হয়ে উঠলে আনন্দ মিছিল নিয়ে বাড়ি ফেরেন আনোয়ারাদের দল।

আমার মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প শুনেছি। এসব গল্প মনভরে শুনতে ইচ্ছে করে। মুক্তিযুদ্ধ যে আজো মিশে আছে মস্তিষ্কে।

দেশ, মুক্তিযুদ্ধ আর মা- একই সুতোয় গেঁথে যাওয়া পরিস্থিতিতে মাকে নয়, মামাকেই চিঠি লিখেছিলেন শাফী ইমাম রুমী। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা রুমীকে সবার চেনার কথা। জাহানারা ইমামের সন্তান। একাত্তরের ১৬ জুন চিঠি লিখেছিলেন-

‘প্রিয় পাশা মামা,

অবাক হয়ো না! এটা লেখা হয়েছিলো আর তোমার কাছ পর্যন্ত পৌঁছালোও। পড়ার পর চিঠিটা নষ্ট করে ফেলো। এ নিয়ে আম্মাকে কিছু লিখে জানানোর চেষ্টা কোরো না। তাহলে তাদের বিপদে পড়তে হবে।

তাড়াহুড়া করে লিখলাম। হাতে সময় খুব কম। বেস ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে কাল এখান থেকে চলে যেতে হবে।

আমরা একটা ন্যায়সংগত যুদ্ধ লড়ছি। আমরা জয়ী হব। আমাদের সবার জন্য দোয়া করো। কী লিখব বুঝতে পারছি না- কত কী নিয়ে যে লেখার আছে। নৃশংসতার যত কাহিনি তুমি শুনছো, ভয়াবহ ধ্বংসের যত ছবি তুমি দেখছো, জানবে তার সবই সত্য। ওরা আমাদের নৃশংসতার সঙ্গে ক্ষতবিক্ষত করেছে, মানব-ইতিহাসে যার তুলনা নেই। আর নিউটন আসলেই যথার্থ বলেছেন, একই ধরনের হিংস্রতা নিয়ে আমরাও তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বো। ইতিমধ্যে আমাদের যুদ্ধ অনেক এগিয়ে গেছে। বর্ষা শুরু হলে আমরা আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেব।

জানি না আবার কখন লিখতে পারব। আমাকে লিখো না। সোনার বাংলার জন্য সর্বোচ্চ যা পারো করো।

এখনকার মতো বিদায়।’

বিজয়ের ৪৫ বছর পূর্ণ হয়ে গেলো। সেই সময়কার চিঠিগুলি পড়লে মনে হয় এই তো আছি যুদ্ধের মাঠে। হাতে অস্ত্র, মনে বল; সামনেই পাক হানাদার। যুদ্ধে আছি। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। চিঠিগুলি পড়তে গিয়ে মনে হয়, সামনেই হয়তো জিত, নয়তো মরণ। খুবই মনে পড়ছে মাকে। গাঁয় বুঝি আর ফিরে যেতে পারবো না। দেখতে পারবো না মায়ের মুখখানি।

গৌরবের মৃত্যু প্রত্যাশীদের অনেকেই মায়ের বুকে ফিরেছিলেন। ‘সামনের সপ্তায় ফেরার’ প্রত্যাশা নিয়ে চিঠি লেখা ছেলেদের অনেকেই আর ফিরতে পারেননি। এমন সব গল্পে ভিজে আছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। সেই নয়টা মাস শুধু বাঙালি বনাম পাকিস্তানির লড়াই ছিলো না, যেন একটি মহাকাব্য। যার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে মিশে আছে অশ্রু আর গৌরবের ইতিহাস।

জয়নাল আবেদীন, সংবাদকর্মী, news.joynal@gmail.com