ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মোবাইলের রিংটোন বাজছে! ফোন ধরলেন আর কেউ নন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা। ওই প্রান্ত থেকে নার্ভাস গলায় একজন জানতে চাইলেন “হ্যালো, প্রধানমন্ত্রী বলছেন”! (জনকন্ঠ, ৭ জুলাই)

দেশী অপারেটক ”টেলিটক

দেশের সাধারণ জনগণ শত চেষ্টা করে একজন মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি বা নেতাদের সঙ্গে কথা পারেন না সেখানে খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারা বিরাট বিষয়। প্রধানমন্ত্রী সেটিই করে দেখালেন।প্রধানমন্ত্রীকে এ জন্য ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, সংসদে প্রধানমন্ত্রী দু’টি মুঠোফোন নম্বর দেন। নম্বর দুটো হলো- ০১৭১১-৫২০০০০ এবং ০১৮১৯-২৬০৩৭১।

দুর্নীতি বিষয়ক তথ্য জানাতেই জনতার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নম্বর দুটো দিয়েছেন। তবে জনতা শুধু দুর্নীতি নয় দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।রাজনীতিক বিশ্লেষকরা এটাকে বেশ ইতিবাচক ভাবে দেখছেন।তারা আশা প্রকাশ করছেন যে, অন্যান্য রাজনীতিবিদরাও এরুপ পথেই হাটবেন। আমরা আম পাবলিক তাই আশা করি।স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হলে আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা পাইনি। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ইহা ভালো ফল দেবে বলে আশা রাখি।

কিন্তু সমস্যা হলো প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত মুঠোফোন নম্বর দুটো যথাক্রমে গ্রামীনফোন ও রবি’র।তিনি কি পারতেন না একটি টেলিটক নম্বর দিতে।কিন্তু দেন নি। তিনি হয়তো মনে করেছেন টেলিটকের নেটওয়ার্ক থাকে আম পাবলিককে টেলিটক নম্বর দিয়ে কি লাভ! জনশ্রুতি আছে, টেলিটক ব্যবহারকারীদের বিরাট অংশই শিক্ষার্থী এবং ‘সরকারি’ লোক। প্লিজ একটি টেলিটক নম্বর দেন!
এক সময় টেলিটক রিমের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে দেশের জনতা। এখন টেলিটক অন্তিম যাত্রার পথে।আর এর পেছনে আছে দুর্নীতির করাল গ্রাস।অনেকে ধারণা করছেন, কর্পোরেট হাউজগুলো ঘুষ দিয়ে টেলিটককে মাটিতে শুইয়ে রেখেছে। আর এ ঘুষ নিয়ে পেট ভারি করেছেন মন্ত্রী, আমলা এবং টেলিটকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

আমরা আম রিপাবলিক আশা করি দেশের মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর ‘টেলিটক’এর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত টেলিজগতকে উদ্ধার করা ব্যবস্থা নেয়া হবে (বিশেষত টেলিটকের ক্ষেত্রে)।

দেশ প্রেমিক প্রতিটি জনতা দেশের টাকা দেশেই রাখতে চায়। ব্যবহার করতে চায় টেলিটক।প্লিজ প্লিজ প্লিজ, একটি টেলিটক নম্বর দেন (যদি ব্যবহার করে থাকেন)।