ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

“বন্ধু তোমার নামটা যেনো কী?” “চেহারাটা মনে আছে নামটা ভুলে গেছি হা হা হা” একজনের নাম আরেক জনের কাছ থেকে কৌশলে জেনে নিচ্ছে কেউ কেউ। আবার কারো কারোর মধ্যে ‘টেকনিক খাটিয়ে’ নাম জানার চেষ্টা। “বন্ধু তোমার মোবাইল নাম্বারটা বলো।” “তোমার নামের স্পেলিংটা বলোতো।” “স্পেলিং বলতে হবে না, নামটাই বলে দিচ্ছি।” হাসির রোল।

এদের সঙ্গেই কলেজ জীবনের মহুর্তগুলো কেটেছে। সময়ের ব্যবধানে একে অপরকে ভুলতে বসেছিলাম। ইফতার আমাদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া করার সুযোগ করে দিলো। কোনো বন্ধুর নাম মনে ছিলো না,কারোর চেহারায় এসেছে পরিবর্তন। নাম আর চেহারার মধ্যে সংযোগ ঘটাতে পারছিলাম না অনেকে। প্রায় ৪/৫ বছর পর আমরা একত্রিত হলাম। সবাই নয় গুটি কয়েক।

জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে এমন তিন বন্ধুরই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এখানে এসে তারাও নিজেদের মধ্যে পরিচিত হলো। কি আচানক!!!

২০০৫-২০০৬ সেশনে আমরা ঢাকা কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেরও সায়ন্তে চলে এসেছি। বন্ধু ইমন, মেহেদী আর কয়েক জনের উদ্যোগে আমরা আবার একত্রিত হলাম। ধন্যবাদ উদ্যোক্তাসহ সকল বন্ধুদের। এতদিন পর একসঙ্গে হতে পারবো, এমনটি ভাবনারও অতীত ছিলো। চিন্তা করছি যে বন্ধুদের সঙ্গে দু’টা বছর কাটালাম তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম কী করে? সময় না নগর ভাবনা আমাদের ভিন্ন ভিন্ পথে চালিত করেছে।

আমরা একেকজন একেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ছি। আবার কয়েক জন তো বিয়ে থা করে সংসার পেতে বসেছে। নগর সভ্যতার দোষ দিয়ে লাভ কী? আমরা কেবল ভৌগোলিক দূরত্বে অবস্থান করছিলাম, হৃদয়ের টান টা আমরা সত্যিই অনুভব করি সর্বদা। আর তাইতো দু এক দিনের মঠোফোন যোগাযোগের মাধ্যমেই শুক্রবার ইফতার পার্টিতে মিলিত হলেম শতাধিত বন্ধু। ফেসবুক আর মুঠোফোনের যুগেও এমন বিচ্ছিন্নতা কিভাবে সম্ভব?

একটি ইফতার উপলক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে সবুজ চত্বরে একত্রিত হলাম। সবার মধ্যে কী যে উচ্ছ্বাস তা ভাষায় প্রকাশ করতে আমি ব্যর্থ, সম্ভবও নয় বৈকি।