ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

যেকোনো বিষয়ে বিরোধীতা করা এ জাতির অভ্যাস জাত কর্মপন্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষা ছাড়াই ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির সরকারি সিদ্ধান্তকে বানচাল করতে মাঠে নেমেছে কোচিং সেন্টারগুলো, কিছু ব্যবসায়ী শিক্ষক যারা কোচিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং কতিপয় বাম ছাত্র সংগঠন।

মেডিকেল কলেজেগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা না নেয়ার সরকারি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা তাদের দাবী- দাওয়া আদায়ের জন্য আন্দোলন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার পেছনে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা জরুরী।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উসকানি দিয়ে মাঠে নামিয়েছে কোচিং সেন্টারগুলো। জিপিএ-র ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলে কোচিং ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ‘মাচাঙ’এ ওঠবে। খুব দুঃখ জনক বিষয় হলো এ কোচিং ব্যবসার সঙ্গে ‘মহানুভব’ শিক্ষকরাও জড়িত। কোচিং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাথায় হাত ওঠেছে ঐ শিক্ষকদেরও। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে কোচিং সেন্টারগুলো জমজমাট ব্যবসা করে আসছিলো। প্রতি বছরই প্রশ্ন ফাঁস, আর্থিক লেনদেনসহ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ আছে ভর্তি কোচিং সেন্টারগুলোর দিকে। প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

সন্তানদের ডাক্তার হিসেবে দেখতে চান এমন অভিভাবকদের কেউ কেউ না বুঝেই ধরনা দিচ্ছেন কোচিং সেন্টারগুলোর কাছে। ফাঁস প্রশ্নপত্র দিয়ে মেডিকেলে ভর্তি করানোর ধান্ধায় ঘুরেন কোনো কোনো অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। প্রশ্ন ফাঁসের জন্য ১.৫/২ লক্ষ টাকা করে লেনদেন হয় বলে জানা গেছে। এটাও কোচিং ব্যবসায়ীদের বড় ব্যবসা। প্রতারণা ফাঁদে পা দিচ্ছেন ‘সহজ সরল’ মানুষগুলো। আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মেডিকেল প্রশাসনকে তটস্থ থাকতে হতো সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করা নিয়ে।

কোচিং সেন্টারগুলোর জমজমাট ব্যবসাকেন্দ্র রাজধানীর ফার্মগেট। সোমবার বেলা ১১টার দিকে কিছু শিক্ষার্থী ঐ এলাকা থেকেই মিছিল বের করে। (প্রথম আলো, ১৪ আগষ্ট ২০১২; প্রথম পাতা, কলাম- ২)। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এরপর ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভর্তিইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রীরা। রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, বরিশাল. দিনাজপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

মুঠোফোনে ভর্তিচ্ছুদের উসকানি
ভর্তি পরীক্ষা না দেয়ার দাবীতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে তার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক অর্থনীতি। কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের উসকানি দিচ্ছে। কোচিং ব্যবসাকে টিকিয়ে ‘রুজি-রোজগারের’ স্বার্থে গত সোমবার বিকাল থেকেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে কোচিং সেন্টারগুলো।

‘রেটিনার অফিস খোলা থাকবে। যেকোনো সাহায্যের জন্য আমরা তোমাদের পাশে থাকব। তোমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত জেনেছো। তোমরা যদি বিভিন্ন মাধ্যমে তোমাদের মত দৃঢ় ভাবে তুলে ধরতে পারো তবে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। দয়া করে হতাশ হয়ো না এবং সজাগ থেকো।’ মেডিকেল কোচিং সেন্টার রেটিনা কর্তৃক শিক্ষার্থীর মুঠোফোনে পাঠানো ক্ষুদে বার্তা। (প্রথম আলো, ১৩ আগষ্ট, ২য় পাতা, কলাম-৬) যে কারণে বিরোধী কিছু শিক্ষার্থীঃ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়না। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে মেডিকেলে ভর্তি হতে পারেন। কিন্তু জিপিএ-৫ বা প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ভর্তি করা হলে তাদের কোনো সুযোগ থাকবে না।’

১ ঘন্টার পরীক্ষা দিয়ে মেধা যাচাই কতটুকু?
২ বছর ২ মাস পড়াশোনা করে এসএসসি পরীক্ষার জন্য সিটে বসে শিক্ষার্থীরা। আর ১ বছর ১০ মাস পড়াশোনা করার পর দেয় এইচএসসি পরীক্ষা। দু’টো পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ৩ ঘন্টা করে পরীক্ষা দেবারপর আবার ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এটা দিয়ে যদি মেধা যাচাই করা না যায় তবে ১ ঘন্টার পরীক্ষা দিয়ে মেধা যাচাই করা সম্ভব কী?

বর্তমান সিস্টেমে ছিটকে পড়ে গরীব মেধাবীরা
কোর্চি সেন্টারগুলোতে ভর্তি হতে ১০/১২ হাজার টাকা ফি দিতে হয়। প্রান্তিক পর্যায়ের জনগোষ্ঠী তাদের সন্তানদের পড়াশোনা করানোর জন্য অমানসিক পরিশ্রম করে। ‘দিন আনতে পান্তা ফুরানো’ এ মানুষগুলো এতো টাকা দিয়ে কোচিং সেন্টারগুলোতে তাদের সন্তানদের ভর্তি করাতে ব্যর্থ হয়। আবার অনেকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে সন্তানদের কোচিং সেন্টাওে ভর্তি করায় সর্বস্ব উজার করে। তার উপর থাকা-খাওয়ার ঝামেলাতো আছেই। ফলে মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়ে গরীব শিক্ষার্থীরা। তার প্রভাব পড়ে ১ঘন্টার পরীক্ষায়ও।

কোচিং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মাঠে বাম ছাত্র সংগঠন
কোচিং ব্যবসায়ীদের মতো মাঠে নেমেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কয়েকটি। তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী। তারা কী বুঝে যে মাঠে নামলো আমার কাছে বোধগম্য নয়। এই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের দাবী আদায়ে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু সরকারের সুন্দর একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। মনে হচ্ছে কোচিং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আছে তারাও। ফলে তাদের যৌক্তিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠছে।

কোচিং সেন্টারগুলো এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর উসকানিতে মাতোয়ারো শিক্ষার্থী এবং কিছু না বুঝে ওঠে আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের দাবীতে হয়তো সরকার নতজানু হতে পারে। যারা অযৌক্তিকভাবে সমালোচনা করে আসছে না বুঝে কিংবা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদের প্রতি আমার অনুরোধ ‘প্লিজ এবার থামুন’। সমালোচনা হতে পারে এই জায়গায় যে, সরকারি এ সিদ্ধান্তটি আরো আগে নেয়া দরকার ছিলো। ঠিক এই জায়গায় আমি বিতার্কিতদের সঙ্গে একমত। আগামী বছর থেকে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ রইল।