ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

যাকে নিয়ে এতো দিন ধরে এতো হইহুল্লুড়, তিনি আছেন বহাল তবিয়তে। সরিয়ে দেয়া হলো বাকলটা। কিন্তু কলাটার কী হবে?

কলার বাকল যত্রতত্র ফেলাটাও বিপদজনক। যেখানে সেখানে ফেললে পা পিছলে পথচারী তার পা ভেঙে ফেলতে পারে। তাই ‘যথাযথ কতৃপক্ষ’ বাকলটাকে যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করতে পারে। আর কলা? বাকলের ক্ষেত্রে একটা কিছু হলো। কলার ক্ষেত্রেওতো একটা ব্যবস্থা হওয়া উচিত। হয় তাকে হিমঘরে রাখতে হবে যাতে নষ্ট না হয়ে যায় কিংবা পচে নষ্ট হয়ে যাবার জন্য সময় করে দেয়া অথবা কলাকেও অন্যত্র স্থানান্তর করা। বায়ু পরিবর্তন হলে অসুখ ভালো হতেও পারে।

বুয়েটে ভিসি ও প্রোভিসি উভয়কে অপসারনের দাবীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তারা আন্দোলন করে আসছিলেন। সোমবার মধ্যরাতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার বাড়িতে বুয়েটের শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়।

শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “প্রোভিসিকে আমরা প্রত্যাহার করে নেব। মামলাও দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।” এছাড়া বুয়েট প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেসব অনিয়মের অভিযোগ এসেছে সেগুলোর বিষয়েও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষকরা আবার শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাবেন এবং বুয়েট সচল হবে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী উপাচার্যকে অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত এ বৈঠকে হয়নি। খবর অনুযায়ী মন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষকরা শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে রাজী হয়েছেন। আসলেই কী তাই?


সোমবার গভীর রাতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে বৈঠকে ভিসিকে অপসারণ ও মামলা প্রত্যাহারে আশ্বাস পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বুয়েট শিক্ষকরা। সেখানে সার্বিক পরিস্থিতি ও মন্ত্রীর আশ্বাসের বিষয়গুলো জানিয়ে তারা ক্লাসে ফেরার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

ধরে নিচ্ছি, মন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষকরা ফিরতে চাইবেন ক্লাসে! কিন্তু শিক্ষার্থীরা? তারা কী ক্লাসে ফিরবে? বুয়েটের শিক্ষার্থীরা কেবল ভিসি অপসারণের ঘোষণায় খুশি হতে পারেননি। খুশি হবার কারণও নেই। বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার জানিয়ে দিয়েছে। ভিসি’র পদত্যাগ না করলে কিংবা ভিসিকে অপসারণ না করা হলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে ফিরে না যাবার কথা জানিয়েছেন। ফলে বুঝা যাচ্ছে সমস্যার সমাধান এখই হচ্ছে না। তারা ভিসিকে বোধ করি অপসারণ করে তবেই ক্লাসরুমে ফিরবেন!

আমাদের এক দফা এক দাবি, ভিসি ও প্রো ভিসির অপসারণ। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।

আমাদের যারা চুরির দায়ে মিথ্যা মামলা দেয়, আমাদের তাজা রক্ত দেখেও যাদের হৃদয়ে বিন্দুমাত্র কম্পনের সৃষ্টি হয় না- এই ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে তাদের অবস্থান আমাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বলছিলেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেরিনা জাহান।

আমাদের প্রাঙ্গণে এসে আমাদের কথাগুলো শুনবেন এবং আমাদের আবেগ ও বাস্তবতা অনুধাবন করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

শিক্ষামন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলছিলেন মেরিনা। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ূন কবির।

শিক্ষকরা কি আর আন্দোলনে থাকছেন না

-এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক হুমায়ুন বলেন, “উপাচার্য ও উপউপাচার্যের অপসারণ আমাদের সবার দাবি। এ দাবি পূরণে আমরা আলোচনার টেবিলে আছি।”

আমরা সহজেই বুঝতে পারছি, ঘটনার সমাপ্তি এখানেই নয়। আন্দোলন আরো হবে, চড়াই-উৎড়াই চলবে। আরো নাটক মঞ্চস্থ হবে! তারপর হয়তো কলাটা যাবে!

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যে অরাজকতা-বিশৃঙ্খলা চলছে তার বিহিত সরকারকেই করতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। ভালো কোনো পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে সারা দেশ এবং বুয়েট পরিবার।