ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

হঠাত করেই ঠাণ্ডা কাবু করে ফেললো। গলার স্বরে মনে হচ্ছে রাজহাঁসের গোঙানী! নিজে নিজের কন্ঠস্বর চিনতে পারছিনা এই ক’দিন। অবশ্য নিজের কন্ঠস্বর কোন সময়েই উল্লেখ করার মত ভাল ছিল না। এইতো সেদিন অফিসে এক কলিগ আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে বললেন, আমি কী ১০৬ তে ফোন দিয়েছি! আমি হ্যাসূচক শব্দ উচ্চারণ করলাম। তিনি খানিকটা আশ্বস্ত হয়ে বললেন কবির ভাইকে চাচ্ছি। আমি জানালাম কবিরই বলছি! তিনি খানিকটা অবাক হয়ে জানতে চাইলেন এমন শোনাচ্ছে কেন গলার স্বর? কি বলব তা ভাবার আগেই জানালাম- আমি মাঝে মাঝে এমনই! যদিও জানি তাঁর প্রশ্নের যথাযথ উত্তর সেটা ছিল না।

আমার এক কলিগ আমাকে জানালেন তাঁর মন খুব খারাপ। আমি তাকে আসতে বললাম আমার বসাস্থানে। আমি চেয়ার ছেড়ে সরে এসে বললাম আমার চেয়ারে বসো। তিনি অবাক হয়ে বললেন- কেন? আমি আবারো তাকে বসতে বলার পরে বসলেন এবং আমি গিয়ে বসলাম সামনের চেয়ারে। তারপর বললাম- আপনার মন খারাপের জন্যে আপনি মোটেও দায়ি ছিলেন না! তিনি জানতে চাইলেন কেন এমন করে বলছি? আমি বলে দিলাম ভেবে দেখুন আপনি কতটুকু দায়ি? তিনি বললেন হয়তো কপালের লিখন! আমি বললাম কপালে কিছুই লিখা থাকেনা। তারপর কিছু কথা বলা। এবং এক সময় আমার চেয়ার ছেড়ে সামনের চেয়ারে গিয়ে বসতে বললাম। তিনি তাই করলেন। আমি বললাম যদি আপনি দায়ি না থাকেন তাহলে মন খারাপের কোন কারণই থাকতে পারেনা। যেখানে নিজের হাত নেই সেখানটার দোষে কেন দোষী ভেবে নিজেকে তুচ্ছ করে নেবেন!

তিনি তারপর আমাকে চেয়ার বদলের কারণ জানতে চাইলে আমি বললাম আমি আসলে আপনার চিন্তার বৈচিত্র্য স্থানগত অবস্থান পার্থক্য দিয়ে বুঝাতে চেয়েছি। দুইটা জায়গায় বসে আপনি একই চিন্তা করতে পারছেন না বলেই তাঁর দিকে উত্তরের আশায় চেয়ে থাকলে জানালেন হয়তো আপনিই ঠিক! আমি আর কোন কথা না বাড়িয়ে বললাম কিছু সময়ের মধ্যে আপনার মন ভাল হতে শুরু করবে! কারণ এখন থেকে আপনি বিশ্বাস করা শুরু করেছেন আপনি আপনার মন খারাপের জন্যে মোটেও দায়ি ছিলেন না। আর মন আর শরীর দুইটা আলাদা আলাদা বিষয় হলেও মন খারাপ হলে এর প্রভাব পড়ে শরীরের উপর। একটা সময়ে এসে শরীর খারাপ হতে শুরু করে।

খানিক বাদে তিনি আমর কাছে জানতে চাইলেন মন খারাপ হলে ঠাণ্ডা এক গ্লাস পানি খাওয়ার আমার এ পরামর্শের কোন ভিত্তি আছে কী না! আমি বললাম আমি জানিনা তবে মনে হয় কোনই ভিত্তি নাই। আর কেনই বা তা বলি তাও জানিনা! তবে অনেকক্ষেত্রেই মন ভাল হয়ে যায়। তিনি আমার অবাক হয়ে তাকালেন! আমি অন্য কথায় ফিরে যেতে বললাম- আজ আমার মন খারাপ হয়ে যেতে পারে। কারণ খুব সর্দি আর ঠাণ্ডায় ভুগছি। মন আর শরীর খারাপ থাকলে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই। আজো চাইছি সেরকম কিছু!

ক্ষমা চাই, ক্ষমা চাই নিজের কাছেও ক্ষমা চাই
ক্ষমা করো, ক্ষমা করো আগে নিজে নিজেকে ক্ষমা করো-

সত্যিকার অর্থে সবার কাছে ক্ষমা চাই
অপরাধী আমি নতজানু হয়েছি ফিরেছি তোমার দ্বারে…..

কলিগটি আমার দিকে তাকালেন আশ্চর্য হয়ে এমন করে কেউ কী বলে এমন ভাব দেখিয়ে! আমি কিছু না বলে অন্যদিকে ব্যস্ত হতে শুরু করলাম। খানিকক্ষণ পরেই আমার মন হঠাত করেই খারাপ হয়ে গেল। এটা নাটকীয়ভাবেই। মনে হচ্ছে আমি ডেকে ডেকে মন খারাপ নিয়ে এসেছি। হয়তো এটা ঠিক না। হতে পারে নিজের প্রতি এটা অত্যাচারই! আমি নিজের প্রতি খানিকটা অত্যাচারই করছি আজ! মাঝে মাঝে নিজের প্রতি অত্যাচার করা দোষের কিছু না!

শরীর খারাপ হলে মানুষজন অনেক কিছুই ভাবে। আমিও তা ভাবছি অদ্য!

যমদূতের প্রতীক্ষায়
সামান্য সর্দি-জ্বর অসামান্য রূপ নিলে
আমাকে দেখাতে চায় যমের বাড়ি
যমের বাড়ি অদ্ভুত কী অসামান্য ঢঙ তার
আয়েশি ভঙ্গিমায় ঘুরে ফেরে সে বাড়ি থেকে বাড়ি।

মাঝে মাঝে ভাবি কতদিন হয় দেখিনা তারে
দেখেছি বলেও মন বলেনি কভু, তবু ভাবি
হয়তো কোনকালে দেখা হয়েছিল অচেতনতায়
দেখবো বলে শুরু করেছিলাম যে পথচলা
সেই কবেকায় থেকে-
মাঝখানে সে কানের পাশ দিয়ে সা-ই করে যায়
কিম্ভুত চিহ্ন রাখে মনে রাখার
অথচ পরক্ষণে ভুলে যাই নিজের মত করে
একবার তাকে চাই আর একবার ভুল করে ভুলে যাই
হয়তো ভুলে যাওয়াটাই ধর্ম জেনে
আমি তাকে ভুলে যাই হয়তো ভুলে যেতে চাই বলে!

গতরাত আকাশ ঢেকে রেখেছিল কুয়াশায়
তাই নামতে পারেনি আমার যমদূত
হয়তো পথ ভুলে চলে গেছে সে অন্যের বাড়ি
তাই অদ্য ভোরে পাড়ার কোন বাড়িতে জমেছে কান্নার রোল
বাকিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে অন্তিমযাত্রার আয়োজনে।

আয়োজন-আয়োজনে আয়োজন ফূরোয়
পথে পথে হয়ে যায় পথের শেষ
আমার জন্যে যে থাকে সতত প্রতীক্ষায়
আমি তাকে ভুলে যেতে বসি আর কারো জন্যে
যম নামে যাকে দিয়েছিল কেউ কোনজন কোন সে উপাধি
আমি একা বসা থাকি তার সতত প্রতীক্ষায়!