ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁস বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে এ ঘটনা নিয়মিত ঘটে আসছে, যা সমাধানে প্রতি বছর নতুন নতুন নীতিমালা তৈরি করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা কখনো বলছে প্রশ্ন ফাঁসে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক জড়িত, আবার কখনো বলছে জড়িত শিক্ষার্থীরা। কখনো দুষছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে, কখনো আবার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত বলে অভিযোগের তীর ছুড়ছে কোচিং সেন্টারগগুলোর দিকে।

আর শিক্ষা মন্ত্রণালয় যখনি যাকে প্রশ্ন ফাঁসের হোতা মনে করছে চোখ বন্ধ করে ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে তার ওপর। প্রশ্ন ফাঁসে কোচিং সেন্টারগুলো জড়িত দাবি করে এবছর ছুরি চালানো হয়েছে তাদের ওপর। পরীক্ষার তিনদিন আগ থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সব কোচিং। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বলছে, প্রশ্ন ফাঁসে আরো একটি মাধ্যম জড়িত, সেটা হল ফেসবুক। সম্প্রতি ফেসবুকের ওপরও ছুরি চালাতে চেয়েছিলেন মন্ত্রী মহোদয়। কিন্তু দেশব্যাপী চরম সমালোচনার মুখে পড়ে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয় তাকে। তারপর তিনি ঘোষণা করেন পরীক্ষার হলে শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। তাও তাকে ব্যবহার করতে হবে অ্যানালগ মোবাইল ফোন। এর আগে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন ফাঁস হয় দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরীক্ষার্থীদের অন্তত আধাঘণ্টা আগে হলে প্রবেশ করাতে হবে।

এবার শিক্ষার্থীরা আধাঘণ্টা আগেই হলে প্রবেশ করেছে, কেউ মোবাইলও আনেনি। বন্ধ ছিল কথিত প্রশ্ন ফাঁসের হোতা কোচিং সেন্টারও। কিন্তু বন্ধ হয়নি প্রশ্ন ফাঁস। মন্ত্রী মহোদয় ইচ্ছা অথবা অনিচ্ছা যেভাবেই হোক বলে ফেলেছিলেন, এবার প্রশ্ন ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির সবুজ সংকেত পেলেই বাতিল হবে দুটি পরীক্ষা।

 

রাজনীতিবিদদের অধিকাংশ আশ্বাসই থাকে রাজনৈতিক তথা অবাস্তবায়নযোগ্য। জনমনে একটি প্রচলিত ধারণা আছে, সেটা হলো রাজনীতিবিদরা বক্তব্যই দেন বাস্তবায়ন না করার জন্য। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মানুষের এ ধারণা পরিবর্তন করার লক্ষ্যে এবার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লেগেছেন। তার এ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। কিন্ত প্রশ্ন হলো পরীক্ষা বাতিল কি ঠেকাতে পারবে প্রশ্ন ফাঁস? বাতিল হওয়া বিষয়ের পুনঃপরীক্ষার প্রশ্ন যে ফাঁস হবে না তার গ্যারান্টি কি দিতে পারবেন মন্ত্রী মহোদয়? ইতিহাস বলছে পারবেন না। কারণ, প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে এখন পর্যন্ত যে কয়টি সিদ্ধান্ত এসেছে এর কোনোটিই সুফল আনতে পারেনি। পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তের পরের পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। একের পর এক সিদ্ধন্তে আরো বাড়ছে ফাঁসের মাত্রা। আগে পরীক্ষার রাতে প্রশ্ন ফাঁস হতো এখন দুইদিন আগে হয়। আগে শুধু প্রশ্নের ধারণা পাওয়া যেত এখন হুবহু প্রশ্ন পাওয়া যায়। ফেসবুক বন্ধের পরামর্শের পর থেকে এখন ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার এমনকি স্বশরীরেও সরবরাহ করা হচ্ছে প্রশ্ন!

এখন জিজ্ঞাসা আসতে পারে, তাহলে কি কোনোভাবেই বন্ধ হবে না প্রশ্ন ফাঁস? আমি বলবো অবশ্যই হবে। যদি প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে সরকার মন থেকে উদ্যোগী হয় এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তাহলে অবশ্যই বন্ধ হবে প্রশ্ন ফাঁস। বেশি গবেষণা নয়, একটু ভাবলেই দেখা যায় প্রশ্ন ফাঁসের হোতা কারা। প্রশ্ন প্রথমে বের হচ্ছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে, তারপর তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। কিন্তু সরকার বা মন্ত্রণালয় প্রশ্ন ফাঁসের মূল উৎস না খুঁঁজে ডালপালা নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছে। যার মাধ্যমে তারা বিজি প্রেস ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের আড়াল করে বাঁচিয়ে দিচ্ছে। আর শুধু শুধু হয়রানি করছে নিরীহ শিক্ষার্থীদের।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, প্লিজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। কোচিং, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মোবাইল বন্ধ বা পরীক্ষা বাতিলের চিন্তা বাদ দিয়ে আপনার মন্ত্রণালয়ের চোরদের ধরুন। দেখবেন ঠিকমতো বন্ধ হবে প্রশ্ন ফাঁস।