ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

“আজকে ক্যাম্পাস ছুটি হয়ে গেছে। মাকে ফোন করে বলার কথা ছিল ‘মা, সাড়ে এগারোটায় বাস। আমি আসছি। এর পরিবর্তে আজকে মাকে ফোন দিয়ে আমার ক্যান্সার হওয়ার খবরটা দিলাম। জীবন!”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফার্মেসি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সেন্টু রঞ্জন দাস অর্ক’র গত ৬ অক্টোবরের ফেসবুক স্ট্যাটাস এটি।

স্ট্যাটাসে নাজমুল হোসেন মন্তব্যে লিখেছেন, ‘কোন চিন্তা করিস না পাগলা। আমারা এখনো মরি নাই। আমরা থাকতে তোর কোন টেনশন নাই। দ্রুত সুস্থ্য হয়ে আম্মুকে তোর সুস্থতার খবর জানাতে পারবি।” এমনি শত মন্তব্য একটু সান্তনা দেওয়ার প্রচেষ্টা।

%e0%a7%a7%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0-%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%b8

যে পূজার ছুটিতে অর্ক বাড়ি যাবে, আনন্দ আর উল্লাস মাতবে সেখানে মাকে দিতে হল জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সংবাদটি। মা মিনতি রাণী দাস হার্টের জটিল রোগে ভুগছেন। বাবা সুবোধ রঞ্জন দাস গত হয়েছেন দেড় বছর হল। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড় অর্ক। দ্বিতীয় জন সিন্ধু রঞ্জন দাস বাসায় থাকে আর সবার ছোট পল্লব রঞ্জন দাস এবার এইচ এসসি অধ্যয়নরত। অর্কের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার সদর থানার কাঠইর ইউনিয়নের জানীগাঁও গ্রামে।

২০১১ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন এ প্লাস এবং ২০১৩ সালে সিলেট এমসি কলেজ থেকে এইচ এস সিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উর্ত্তীন হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আগ মুহূর্তে বাবাকে হারান। শোক কাটিয়ে উঠে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে ভর্তি হন অর্ক। বেসরকারি ব্যাংকের মেধা বৃত্তির টাকা আর টিউশনি করেই চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা। পাশাপাশি বাড়িতে খরচ পাঠাত নিয়মিত। এভাই চলছিল সদা হাস্যজ্জ্বল অর্কর সংগ্রামী জীবন। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে তার শরীরে ধরা পড়ে ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সার (Lymphocyte Rich Classical Hodgkin Lymphoma)।

একটা সংবাদই অর্কের জীবনের সবকিছু ওলট-পালট করে দেয়। মনের ভেতরে লালিত রঙ্গিন স্বপ্নগুলো মুহূর্তেই মলিন হয়ে যায় তার। পিতৃহীন অর্ক কি তার মায়ের কোলে ফিরবে না? বই-খাতা হাতে ক্লাসে ফিরবে না, সহপাঠিদের আড্ডার মধ্যমনি হয়ে উঠবে না? হ্যা, অর্ক ফিরবে। তবে তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ৩৫ লক্ষ টাকা যা তার দরিদ্র পবিরারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

অর্কের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করতে তার ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ছুটছে দ্বারে দ্বারে। মসজিদ-মন্দির সহ রাজধানীর বড় বড় শপিং মলে যাচ্ছেন। ধরণা দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সাহায্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়াল, গাছ ছেয়ে গেছে পোস্টারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “অর্ক বাঁচবে আমাদের ভালবাসায়” শিরোনামে ইভেন্ট খোলা হয়েছে।

%e0%a7%a8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95
ফার্মেসি বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমন জানান, আমরা ছাড়া ওর দেখাশোনা করার মত কেউ নাই। তার পারিবারিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এখন পর্যন্ত কোন টাকা দিতে পারেনি।

ফার্মেসি বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল জলিল জানান, গত ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার অর্ককে গ্রীন রোডে অবস্থিত গ্রীন ডেল্টা লাইফ মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে ভর্তি করিয়েছি। ১১ তলায় ১১২৭ নাম্বার কেবিনে সে রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি এন্ড হেমাটো অনকোলোজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এ খানের অধীনে সে চিকিৎসাধীন। ১৪ অক্টোবর তার প্রথম কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। তার চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ স্পষ্ট। এখনও যে জোগাড় হয়নি চিকিৎসার পর্যাপ্ত অর্থ।

হাসপাতলে সন্তানের পাশে রয়েছেন তার মা মিনতি রাণী দাস। মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। সরকার ও দেশের মানুষ যেন আমার সন্তানের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় আমি সেই অনুরোধ জানাই’। এর বেশি কথা বলতে পারলেন না। কথাগুলো কেমন জড়িয়ে আসছিল তার।

“হঠাৎ করেই অনাকাঙ্খিত বিপদে পড়েছি। খুব কঠিন সময় পার করছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হই। আর একটা অনুরোধ, যে যেভাবে পারেন আমার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসবেন। সবার ভালোবাসাই আমি সুস্থ্য হতে চাই” মুঠোফোনে এসব কথা বলেন অর্ক।

%e0%a7%a9%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ad-%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ad-%e0%a6%85%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95
অর্কের ফেসবুক প্রোফাইলে নিজের পরিচয়ে দেয়া আছে, “ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধরত”। তার টাইমলাইনে ঢুকলেই চোখে পড়বে এই কঠিন লাইনটি। এই যুদ্ধে কি অর্ক একা? আসুন না যুদ্ধ জয়ে অর্কের সহযোগী হই। সবার ভালোবাসাই সে হবে “ক্যান্সার জয়ী অর্ক”। নাকি অর্থের কাছে হেরে যাবে…?

অর্কের ফেসবুক একাউন্ট:  SD Arko

অর্কের জন্য সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-

মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট:
ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংর্কি (রকেট) একাউন্ট নং: ০১৭৭৫১৩১১৩১১।
বিকাশ মোবাইল ব্যাংক একাউন্ট; ০১৭৩৮৭৮৯১৩৭ (সুমন, ৪২ ব্যাচ), ০১৭৭৭৯৮২৯২৩ (নাসিমুল, ৪৩ তম ব্যাচ), ০১৭২২৮৯৯৭১৫ (তানজিল,৪১ তম ব্যাচ)। সবাই ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী।

ব্যাংক একাউন্ট:
ব্যাংক একাউন্ট: নাম MD. Abdul Jalil হিসাব নং: ১৮৬.১০৫.৯২৩৬ ( মুন্সীগঞ্জ শাখা, ডাচ বাংলা ব্যাংক)।

বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে যে দুটি ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন:

Agrani Bank Limited: Account Holder: Pradhan, Pharma Dept. Account Number: 0084634085764, Jahangirnagar University Branch, Agrani Bank Limited.

Dutch Bangla Bank: Account holder: MD. Abdul Jalil, Account No: 186.105.000.9236, Munshiganj Branch, Dutch Bangla Bank, Bangladesh.

এছাড়া যে কোন প্রয়োজনে যোগাযোগ: তানজিল (৪১তম ব্যাচ -ফার্মেসি) ০১৭২২৮৯৯৭১৫, আব্দুল জলিল (৪২তম ব্যাচ -ফার্মেসি) ০১৯২৯৬৭৬৯৮৯।

সবার ভালোবাসাই পারে অর্ককে বাঁচাতে। আসুন আমরা সবাই অর্কের পাশে দাঁড়াই।