ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

সুপ্তবিবেকের লিখায় মালুম হইলো যে তিনি নিজের অজান্তেই এটিএন মাহফুজকে ডক্টরেট বলিয়া স্বীকার করিয়া লইয়াছেন, কিন্তু ওই মালটি ডক্টরেট নহেন, কারন ডক্টরেট করিতে যাহা কিছু নিদান লাগে তাহার সম্ভাব্য তালিকা নিম্নে (ইহার বাহিরেও পদ্ধতি আছে!)

১. প্রথমে এম ফিল কোর্সের জন্যে আবেদন করিতে হইবে, তাহার নিমিত্তেও নিদেনপক্ষে ৫০% বা অধিক মার্ক লইয়া মাস্টার ডিগ্রী পাশ বা এমবিবিএস বা ইঞ্জিনিয়ারিং বা সম মানের ডিগ্রী থাকিতে হইবে! এটিএন মাহফুজের তাহা আছে কি?

২. ডিপার্টমেন্ট, ফ্যাকাল্টি, সিনেট, সিন্ডিকেট লইয়া পৌণঃপূনিক ভিত্তিতে কয়েক বছরের দৌড়াদৌড়ি, কোর্স সম্পন্ন করিয়া তাহাতে কাঙ্খিত নম্বর পাইয়া উত্তীর্ন হওয়া, ওতি কায়ক্লেশে একজন প্রফেসরকে সুপারভাইজার হইতে রাজী করানো! তাহার পর প্রাইমারী প্রোপোজাল, নামকরন, এম ফিলের কাজ শুরু ও শেষ করা, থিসিস লেখা ও নিয়মিত ভিত্তিতে সেমিনার প্রদান করা!-ইত্যকার কার্যাদি ও ক্রিয়াকলাপ এটিএন মাহফুজ করিয়াছে কি?

৩. এম ফিল থিসিস লিখনশেষে প্রথমে সুপারভাইজার প্রফেসরের কাছে অতীব নাছোড়বান্দার মতো বারংবার নাজেল হইয়া তাহা কোনক্রমে গছানো, পরীক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে এম ফিল থিসিস্টটি পাঠানো ও পরবর্তীতে ভাইভাতে স্বখাত সলিল ধরনের বলিদান হওয়া!-ইত্যকার কার্যাদি ও ক্রিয়াকলাপ এটিএন মাহফুজ করিয়াছে কি?

৪. যাহারা আগ্রহী ও যাহাদের এম ফিল থিসিস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যোগ্য মনে লইবেন তাহাদের পিএইচডি তে ট্রান্সফার হইয়া কিঞ্চিত আত্মপ্রসাদে ভোগা, প্রতিটি কাজে প্রায় সেই ডিপার্টমেন্ট, ফ্যাকাল্টি, সিনেট, সিন্ডিকেট লইয়া পৌণঃপূনিক ভিত্তিতে কয়েক বছরের দৌড়াদৌড়ি এবং সেখানে সময় মতো ভাগ্য ক্রমে শিক্ষার্থীর ইস্যু ওঠা ও ভোটে পাশ হওয়া!মাঝে মধ্যেই সুপারভাইজারের প্রফেসরের খ্যাকানি শুনিয়া “এই কান ধরিতেছি আর পিএইচডি করিবনা” ইত্যাদি ধরনের ভূয়া প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে নিজেকে কিঞ্চিত প্রবোধ দেওয়া!-ইত্যকার কার্যাদি ও ক্রিয়াকলাপ এটিএন মাহফুজ করিয়াছে কি?

৫. বহুভিদ ছোড়াঁছুড়ি, ছেড়াছেড়ি, কাড়াকাড়ি, বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি এবং প্রায় মারামারির পর সুপারভাইজার প্রফেসর সাহেবকে থিসিসটি গছানো, সেমিনারে এক দঙ্গল ফন্দিবাজ শ্রোতাদের বেহেড অবাস্তব-বাস্তব শালীন বা অশালীন এমন কি শালিক পাখি হইতে শুরু করিয়া নিজের ও অন্যান্যদের শ্যালিকা সংক্রান্ত সর্ববিধ আহলাদী আহলাদী ধরনের নানাবিধ উত্তেজক প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া ও পরিশেষে থিসিসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মাননীয় পরীক্ষক বৃন্দের কাছে পাঠানো!

তাহাদের সুপারিশে ফের আদাপানি খাইয়া তাবিজ-কবজ পানি-পড়া দোয়া দুরুদ ও এমনকি বাটি চালান এবং মাটিতে শয্যা গ্রহনের মাধ্যমে মাননীয় পরীক্ষক বৃন্দের সহানুভূতি আকর্ষন করিয়া তাহাদের “মনপসন্দ” থিসিস তৈরী করিয়া তাহাতে তাহাদের সম্মতি লওয়া!-ইত্যকার কার্যাদি ও ক্রিয়াকলাপ এটিএন মাহফুজ করিয়াছে কি?

৬. সেই ডিপার্টমেন্ট, ফ্যাকাল্টি, সিনেট, সিন্ডিকেট লইয়া পৌনঃপুনিক ভিত্তিতে ফের দৌড়াদৌড়ির সিক্যুয়েলের পর অবশেষে এক শুভ প্রভাতে জীর্ণ শীর্ণ অশক্ত দেহে, হৃত-বঞ্চিত মনে ও অর্ধোন্মাদ অবস্থায় শেষতক পিএইচডি ডিগ্রী লাভের আখেরী খবর পাওয়া!-ইত্যকার কার্যাদি ও ক্রিয়াকলাপ এটিএন মাহফুজ করিয়াছে কি?

টিএন এর নিজস্ব ওয়েব সাইটে দেখা যায় হেই মাহফুজ ব্যডায় নাকি বাল্টিক সাগর টাগরের নাম আছে এমন কোন আজব কিসিমের সংগঠনের তনে এই ডিগ্রী “সন্মানজনক” ভাবে লাভ করিয়াছেন!তথাকথিত সন্মান জনক ডক্টরেট ডিগ্রী নামের অগ্রে বা পশ্চাতে ব্যাবহার করা যায় না! যদিও এইসব সন্মাঞ্জনক ডক্টরেট এর জন্যে থিসিস নিষ্প্রয়োজন, তবু এটিএন মাফুজ কিন্তু বৎসরের পর বৎসর এক খানি বহুমূল্য অভিজ্ঞতা প্রসূত থিসিস লিখিয়া চলিতেছে যাহার নাম সম্ভবতঃ “কদুর তৈলের বহুবিধ ব্যাবহার, বাচালতা ও পরকীয়া প্রয়োগ পরবর্তী প্যাদানী সম্ভাব্যতা”!