ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

বেশ কিছুকাল ধরিয়া বিডি নিউজ২৪ ব্লগ পড়িয়া পড়িয়া একদিন আমার মনে হইল আমিও উহাদের অর্থাৎ সুন্দর সুন্দর লিখা যাহারা লিখিতেছেন তাহাদের মতোই তালেবর হইয়া পড়িয়াছি, চাহিলেই দুই কলম লিখিতে পারিব না? ফুঃ তা কি কখনও হয়?

এই সব ভাবিতে ভাবিতে আমার ব্রহ্মতালু নিতান্তই গরম হইয়া উঠিল, পরিবারের লোকজন নিদ্রা কুসুম তৈলের বন্দোবস্ত দেখিতে লাগিলেন আর আমি সংসারের যাবতীয় কার্য মোটামুটি বিসর্জন দিয়া কারনে অকারনে যার তার সহিত উচ্চস্বরে সারগর্ভ আলোচনার চেষ্টা চরিত্র করিতে প্রাণান্ত চেষ্টা করিতে লাগিলাম!

হঠাত করিয়াই মনে হইলো ব্লগানং ব্লগনং তপঃ, অর্থাৎ ব্লগারদের ব্লগিং করাই দিব্য তপস্যা আর আমার নানারূপ শারিরীক অসুস্থতাকে হঠাত করিয়াই অতি অকিঞ্চিতকর জ্ঞান করিয়া নিকটস্থ বাজার হইতে কাঁচা ছোলা আর ইউরিয়া মিশ্রিত গুড়ক ক্রয় করিয়া প্রত্যহ একযোগে মাখাইয়া খাইবার চেস্টা করিতে লাগিলাম (কারন ইতিমধ্যই দিব্য জ্ঞান পাইয়াছিলাম যে যথাযোগ্য দৈহিক শক্তি না থাকিলে ব্লগিং এর অমৃতসাগর কদলী বনে উন্মত্ত হস্তীর প্রচণ্ডতা লইয়া আমি দাপাইয়া বেড়াইতে পারিব না আর তাহার অর্থ হইল আমার গয়াপ্রাপ্তি!)

ফলাফল যাহা হইল তাহাকে ভয়াবহ না বলিলেও বিপর্যয়কর বলা যাইতে পারে বিধায় এক্ষনে উল্লেখ হইতে বিরত রহিলাম! অবশেষে রাত জাগিয়া প্রথম লিখাটি লিখিলাম, লিখিতে লিখিতে কর্ণ চক্ষু ও মাথা গরম হইয়া উঠিল এবং তাহার পর ক্রমাগত অকারন হেঁচকির প্রাদুর্ভাবে আমাকে পত্রপাঠ শয্যা লইতে হইল, যদিও সর্বজ্ঞ মডারেটর নামক ব্যাক্তিবৃন্দের ব্যাপারে আমার ঘোরতর সন্দেহ বর্তমান রহিয়া গেল!

জ্ঞানের বিষয়ের পোষ্টটি করিয়াছিলাম খাটিয়া খুঁটিয়া, প্রকাশের ভাষাও কি বলে একেবারে নাদান টাইপের লিখিয়াছিলাম না, মডারেটর গন (পরে বুঝিয়াছিলাম) তাহাদের প্রথা অনুযায়ী পরের দিন সূপ্রভাতে তাহা ছাপাইলেন, আমি ঘুঘু পক্ষী সদৃশ ওঁত পাতিয়া দেখিতে ও গুনিতে থাকিলাম তাহা কত জন পড়েন!

হায়, তাহা ব্লগ পাবলিকে খাইলনা, মানে খুব বেশী পাঠকে পড়িল না! চিত্ত চঞ্চল হইল, রবার্ট ব্রুসের কথা আর “এক বার না পারিলে দেখো বারে বার” আর সেই উদ্দ্যমী মাকড়শার কথা মনে পড়িল, আবার লিখিলাম, আবারও লিখিলাম-হায় তাহাতেও বিশেষ সুবিধা হইল না, মন খারাপ করিয়া অতঃপর পোষ্ট দিলাম কেন আমি ব্রাত্য, কেন আমি অপাংত্তেয়?

এক বার মনে হইল মহিলা নাম লইয়া লিখিলে কেমন হয় (তাহাতে কি বেশী পাঠক জোটে?), কিন্তু নিজের সেন্টুবোধ সেই পথে আমাকে কিছুতেই যাইতে দিল না, ফলতঃ বিশাল ব্লগীয় পানিপথের প্রান্তরে চতুর্থ বা পঞ্চম যুদ্ধ লড়িবার খায়েস আমার পুর্ণ হইলো না!

নাকি কিছু অতি উত্তম কিসিমের গালিগালাজ করিয়া লিখি না কেন, যদি মডারেটর সদয় হন তা হা হইলে অন্ততঃ ওই দ্রব্য গুনেও আমার ব্লগ লিখাটি পার পাইয়া যাইবে!

এই বার হিমালয় হইতে সুন্দরবন তামাত তাবত ব্লগার যাহারা আমার দুঃখ পাওয়া লিখাটির হেডলাইন দেখিয়াছিলেন সকলেই আমাকে জ্ঞান প্রদান করা শুরু করিলেন, তাহাদের জ্ঞানের জ্বালায় আমার কর্ণ কট কট এবং চক্ষু ছট ফট আর তাহার সহিত মস্তিস্কও ঘট মট হইয়া গেল!

শেষটায় যখন প্রবাসী স্ত্রীর বান্ধবীকে প্রমাদবশতঃ ঠারে ঠোরে কিঞ্চিত অতিরিক্ত প্রনয়াবনতঃ ই-মেলে দুর্বোধ্য আধুনিক কবিতা লিখিয়া বসিলাম ও পত্রপাঠ স্ত্রীর বান্ধবী যেই ক্ষনে তাহা আমার প্রতাপান্বিত গৃহকর্ত্রীকে পাঠাইয়া মনোরঞ্জনের চেষ্টা করিলেন, আমার তেরোটা বাজিয়া গেল! আমার প্রতাপান্বিত গৃহকর্ত্রী তাহার বান্ধবীকে বেশ একটু খানি রহস্য সংযোগে আই এস ডি ফোনে জানাইয়া দিলেন যে আমি পূনরায় ভূতগ্রস্থ রোগে পড়িয়াছি আর এইবারের সেই নিদারুন রোগের নাম এখন পর্যন্ত ব্লগিটিস, যাহা কালক্রমে ব্লগনমা হইয়া পড়িলে আমার গোরস্থান যাত্রা সুনিশ্চিত হইবে! সাথে ইহাও জানাইতে কার্পন্য করিলেন না যে এই নব্য সভ্য ব্লগ ভূতগ্রস্থতা নিবারনার্থে আমার কিঞ্চিত ঝাড়ফুঁক এখনই শুরু করা হইয়াছে!

ঠিক সেই সময় হতাশা হইয়া আর রাগ করিয়া আমার সমস্ত লিখা মুছিয়া দিলাম, আদি বাংলার ইতিহাস লইয়া লিখিতেছিলাম, তাহাও মুছিয়া গেল, কিন্তু হায়, তখনও কেউ আসিয়া বলিল না যে কেন মুছিলে? আমি লিখার সাথে সাথে চোখের পানিও মুছিতে মুছিতে অভিমানরুদ্ধ হইয়া পড়িলাম! মনে মনে ভাবিলাম পালের গোদা ব্লগার দুই একজন কে কসিয়া গাল দিয়া দেখি তো কি হয়! হায়, আমার রুচিতে কুলাইল না! আমি জনৈক অকৃত্তিম বেকুব ও অ-জনপ্রিয় ব্লগার হিসাবেই সুরম্য ব্লগিং ময়দানের এক কোনে কায়-ক্লেশে কোন রূপে পড়িয়া রহিলাম!