ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

শংখচুড় সাপ

গোখরা সাপ

কাল-কেউটে সাপ

সাপের দুইটি উপ শ্রেনীঃ স্থল সাপ (এলাপেডি) ও সাগরের সাপ (হাইড্রোফেনি-লেজের জায়গায় তাদের “ফিন” থাকে!)। স্থলের সবচে বিষধর কাল কেউটে (ব্ল্যাক ক্রেট-২-৩ ফিট লম্বা, নিশাচর!) থেকে যে কোন সাগর সাপ কমপক্ষে ৩০ গুন বিষধর, কিন্তু সুখের বিষয় তারা খুব একটা কামড়ায় না!

প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে স্থলের সাপের মধ্যে শতকরা ৯৯% সাপের কোন বিষ নেই, তারা জৈব পরিবেশের গুরুত্বপুর্ন অংশ, তাদের মেরে ফেললে ধান ও অন্যান্য শস্য মাঠেই ধেঁড়ে ইদুরের দল খেয়ে শেষ করে ফেলবে!

স্থলের সাপ আবার দু ভাগে ভাগ, কলুব্রাইডি (ফনাওয়ালা) ও ভাইপারেডি (ফনা ছাড়া)! ফনা আসলে সাপের গলদেশের হাড়ের বিশেষ গঠন যা সে উত্তেজিত অবস্থায় শ্বাস নিলে ফনার আকার ধারন করে!

বিষধর কলুব্রাইডি (ফনাওয়ালা) সাপের ভেতর রয়েছে গোখরা (নাজা নাজা-ভারতীয়, নাজা ইজিপ্টিক্যাস-মিশ রীয় যা ক্লিওপেট্রাকে কামড়েছিল বলে শোনা যায়!), শংখচূড় ও কেউটে ইত্যাদি!

এদের মধ্যে বিষধারনের দিক দিয়ে দ্বিতীয় হলো গোখরা (উর্ধে ৬ ফিট পর্যন্ত দেখা গেছে)! সাপ অত্যন্ত প্রিমিটিভ জীব, স্মরন শক্তি নূন্যতম, কাউকে মনে রেখে তাকে পরে ফন্দি ফিকির করে কামড় দেবার বুদ্ধি সাপের নেই, গায়ে আঘাত পড়লে শত্রু ভেবে প্রতিরোধ করতে গিয়ে কামড়ে দেয়!

সাপ শুনতে পায় না, সাপ শোষন করে কিছু খেতে পারে না, গিলে খায়, গরুর বাটকে ইদুর মনে করে গিলতে চেস্টা করে, লোকে ভাবে দুধ খায়! সাপ দুধ কলা খেতে পারেনা বা খায় না!

গোখরা সাপ দেখতে সুন্দর, তার বিষদাঁত ভেঙ্গে লোহা পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়, তাই বাঁশী বাজানোর নামে ঘোরালে ও সেটাকে উত্তপ্ত লোহা মনে করে পাহারা দেয় আর এদিক ওদিক নড়ে! সাপ তার কাছে আগত কাউকে দেখতে পায় আর শব্দ ঠিক করে মাটির কম্পন মাত্রা তার শরীরের দ্বারা স্থির করে! শুধু তাই গোখরা সাপ দিয়েই খেলা দেখা নো হয়! অন্য সাপ শুধুই প্রদর্শন করা হয়!

সবচাইতে ভয়ঙ্কর বিষধর সাপ এই ভারত বাংলাদেশেই ও পাকিস্তানের হিমালয় সংলগ্ন এলাকাতে বর্তমান, এদের সাধারন ভাষায় শংখচূড়, রাজ গোখরা বা স্থানীয় নামে বর্ননা করা হয়! এই জুলজিকাল নাম Ophiophagus Hannah, অর্থাৎ এটি অন্যান্য সাপকে ধরে ভক্ষন করে, না পেলে ইঁদুর ইত্যাদি খায়! আর এটিই একমাত্র সাপ যারা বাচ্চা হবার আগে বাসা বানায়! এরাই একমাত্র মানুষ বা আর কাউকে তাড়া করে কামড়ায়, বিষধর সাপের ভেতর এরাই সবচে বড় (১২-১৮ ফিট পর্যন্ত হয়), এদের বিষ কেউটে বা গোখ রার মতো ভয়ঙ্কর না হলেও প্রাঙ্ঘাতী, আর এদের ধাওয়াতেই অনেকে হার্টফেল করে মারা যায়! এরা ফনা তুলে দাড়ালে ৭-৯ ফুট ফনা তোলে তাই এদের মারতে হয় দূর থকে তীর ধনুক বা বন্দুক ব্যাবহার করতে হয়!

যদিও এদের মারার কোন কারন সঙ্গত ভাবেই নেই, কারন এদের না মাড়ালে এরা ধাওয়া দেয় না আর এরা জীব চক্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন অবলুপ্ত প্রায় রেপ্টাইলিয়া জাতীয় প্রানী! এদের সম্পর্কে ইন্টারন্যাশ্নাল স্নেক ক্যাটালগের সামান্য পড়ুনঃ

“The agile most largest (12-18 ft) venomous snake in the world, will run to bite you, named Ophiphagus Hannah, in Bengali Shankhachur or King Cobra in laymen words. Usually it eats other snakes. Available at Bangladesh, West Bengal, UP of India-এটার ফনা আছে!The king cobra (Ophiophagus hannah) is the world’s longest venomous snake, with a length up to 5.6 m (18.5 ft).This species is widespread throughout Southeast Asia and parts of India, and is found mostly in forested areas. The king cobra can be fierce and agile, and can deliver a large quantity of highly potent venom in a single bite. It is one of the most dangerous and feared world snakes.” বাংলাদেশের সিলেট ও সুন্দরবনে (আইরাজ নামে)এই সাপ বর্তমান, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামেও থাকার কথা,কিন্তু আমরা এখনো ক্যাটালগিং করতে পারিনি!
ভাইপারেডি ও অন্যান্য সাপের কথা আরেকদিন লিখবো!

মনে রাখবেন, সবচে বিষাক্ত কাল কেউটে (ব্ল্যাক ক্রেট-২-৩ ফিট লম্বা, নিশাচর!) পূরো বিষ নিয়ে কামড়ালেও মানুষের মরতে কমপক্ষে ৫-৭ ঘন্টা লাগা উচিত, কিন্তু আমরা প্রায় ই দেখি সাথে সাথে মারা যায়, সেটা সাপ সম্পর্কিত নানা অর্থহীন “মিথ” বা “কাহিনীর” জন্যে, কারন আক্রান্ত ব্যাক্তি ভয়ে হার্টফেল করে মারা যায়! এই ভয় ঠেকানো গেলে সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার প্রায় ৯৯% কমে যেতে পারে বলে গবেষকরা ধারনা করেন!