ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ইদানিং কালে মার্কেট ইকোনমি ও বাণিজ্যের বিশ্বায়নের ফলে বাংলাদেশের আর কিছু না হোক, পুলিশ ভাইদের “কাজকাম” কিন্তু বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে! বিশেষ করে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে! কাগজে দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্র্রী বলেছেন যে তারা নাকি এখন “একটু” ভাল হয়ে উঠেছেন! সে তো খুবই ভাল কথা!

এমনিতেই পুলিশ, রমরমা ব্যবসা, প্রাসাদোপম বাড়ী, একলা বা বিপদে পড়া নারী, বিলাসবহুল মল, শপ ও দোকান, কোটি কোটি টাকা, টোকেন, স্লিপ, কালেকশন ম্যান, বিস্তর সম্পত্তি ইত্যাদির শব্দের মধ্যে বেশ নিবিড় একটা সৌহার্দ্য মূলক সম্পর্ক অনেক আগের থেকেই বিদ্যমান! সে সবের মহিমায় তাদের ভেতর কেউ কেউ কখনও কোহিনুরের মতো ছাত্রী নিবাসে মেয়ে পেটানো পেটোয়া হন, কেউ বা আবার শহীদুলের মতো সাংবাদিক ঠ্যাঙ্গানো ঠ্যাঙ্গাড়ে হয়ে ওঠেন!

আমার তথ্য সেটা না! শোনা যায় বহু আগ থেকেই তারা যে যে যার যার পছন্দসই ডিউটির জায়গা একে অপরের থেকে কিনে নিয়ে থাকেন! সেটা সেই সড়কের বা রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে থানা পর্যন্ত! মূল বদলী নির্দেশ (ইন্টার) হয়ত পুলিশ সদর দপ্তর প্রদান করেন (তাতেও প্রথম বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায় প্রার্থীর রাজনৈতিক আনুগত্য আর প্রয়োজনে কতটা বেয়াদব হতে পারবে সেই “অবজারভেশন!), আবার বদলী স্থানের ভেতরের (ইন্ট্রা) বেশী আয়ের দামী জায়গাকে ডিউটি স্থান হিসেবে পাওয়াও নির্ভর করে মূলতঃ রাজনৈতিক খুঁটির ওপর!

এরপরেও সর্বশেষে এই “ইন্ট্রা” স্তরে একটি চমৎকার “সৃজনশীল” নিয়মও চালু আছে বলে শোনা যায়! অফিসার বা সার্জেন্ট বৃন্দ নিজেদের ভেতর ডিউটি স্থান কেনা বেচা করে থাকেন, যে জায়গায় যত “আয়”, সেখানকার দাম তত বেশী! শোনা যায় এই “বিকিকিনির হাটে” শুধু হেজি পেজি পুলিশ অফিসাররাই নন,গোদা মাপের অফিসাররাও অংশ নেন, সাথে আরো থাকেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিশেষ বিশেষ আমলা বৃন্দ!

তাই সম্ভবতঃ যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, সদরঘাট, খিলক্ষেত (বিমান বন্দর) ইত্যাদি স্থানের ডিউটি স্থান সোনার চাইতে দামী, তাই মোহনীয়! আর হাইওয়ে পুলিশের মূল কাজ কি যে কোন ট্রাক ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করুন, শুনে ধন্য হবেন!সেতুতে তাদের অবাধ বানিজ্য! কোথায় নয়?

অহেতুক গাড়ির বা ট্রাকের মাল ধরা, মালের লাইসেন্সের ফটোকপিতে সন্তুষ্ট না হয়ে মূল লাইসেন্স দেখার আবদার, শেষমেষ নিদেন পক্ষে ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক নয় বা ড্রাইভার বেয়াদব জাতীয় কথা ইত্যাদি সবই “অর্থকরী পদক্ষেপ”, ব্যাবসায়ীরা, যাদের কাঁচামাল কিনতে হয়, উৎপন্ন মাল পাঠাতে হয় আর পরিবহন ও ট্রাক ড্রাইভার ও ব্যাবসায়ীরা হাড়ে হাড়ে এদের জানেন! ব্যবসার প্রতিটি পদে পদে পুলিশকে টাকা দিতে দিতে এদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যাবসা ছেড়ে দিয়েছেন, বাকিরা “ইয়া নাফসি” পড়ছেন!

এ সবই কিন্তু ওপেন সিক্রেট, সংশ্লিষ্ট সবাইই জানেন, কিন্তু কেউ কিছু বলেন না ওদের, কারন ওদেরকে যে সবারই লাগে ক্ষমতায় থাকার জন্যে! তাই ওদের রাজনৈতিক শেকড় যে অনেক গভীরে! সরকার আসে সরকার যায়, সরকারী লোকেরও শাস্তি হয়, কিন্তু ওরা টিকে যায়, বড় জোর “ক্লোজ” হয়! আবার “ওপেন” হয়ে পূর্ণ উদ্যমে “কাজ” শুরু করে! আর এ ব্যবসা বানিজ্য কিন্তু কমে না, বাড়তেই থাকে! আফটার অল “বানিজ্য বসতেঃ লক্ষী!