ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের জন-প্রতিনিধিরা অর্থাৎ আমাদের মেম্বার অফ পার্লামেন্ট বা এম পি রা মাঝে মধ্যেই বিকারগ্রস্ত হয়ে প্রলাপ বকতে পছন্দ করেন! সূযোগ এলেই যাকে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করতে তারা সুপটু, তাদের নিজেদের ভেতর যখন তা ঘটে তখন ভদ্রলোক মাত্রই কানে আঙ্গুল দেয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না! এরা মাঝে মধ্যে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়েও গালাগালি থেকে শুরু করে কাগজ পত্র বা হাতের কাছের যা কিছু পাওয়া যায় সে সব ছোড়াছুড়ি ও ক্ষেত্র বিশেষে দৃশ্যতঃ মারামারিরও চেষ্টা করে থাকেন!(সংসদের ও লোক চক্ষুর বাইরে অবশ্য বেশীর ভাগই ইয়ারি দোস্ত!)

এ ক্ষেত্রে আমাদের এমপি সাহেবরা এর মধ্যেই বিশেষ বুৎপত্তি অর্জন করেছেন!মহিলা এমপিরাও আরেক কাঠি সরেস বলে মনে করা হয়ে থাকে (এই তো সে দিন কাগজে পড়লাম একদল আরেক দল কে “ধর ধর” বলে ধাওয়া দিয়েছিলেন!)! এঁরা সংসদে দাঁড়িয়ে অপছন্দের ব্যক্তিটির, তিনি অন্য পার্টির এমপি ও হতে পারেন, তার বাপ-দাদা চৌদ্দ গুষ্টির পিন্ডি চটকাটে সাধারনতঃ প্যারীচাঁদ মিত্রীয় ধরণের মঞ্চ নাটকের ভাষা ব্যাবহার করে থাকেন এবং প্রায় সকলকেই একটি বিশেষ সম্পর্কের পরমাত্মীয় ও কুটুম্ব হিসেবে সম্বোধন করতে ভালবাসেন!

এটা এখন একটা ওপেন সিক্রেট যে আমাদের দেশে এদের অধিকাংশই নির্বাচিত হওয়ার হবার জন্যে প্রথমে কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রধান প্রধান দুটি পার্টির নমিনেশন ক্রয় করে থাকেন, তার পর নির্বাচনী এলাকার পেটোয়া বাহিনীগুলোকে টকার বিনিময়ে পক্ষে টানেন, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের দিনে টাকার বিনিময়েই এরা ভোট কিনে তারপর মাননীয় এমপি “স্বপ্ন পুরুষে” সিদ্ধি লাভ করেন!

এখন বলুন তো কারা এইভাবে টাকা খরচ করতে পারেন? এত টাকা কাদের থাকতে পারে? আর টাকা থাকলেও তা কথিত পদ্ধতিতে খরচ করার মানসিকতা কি কোন সত্যিকারের ভালমানুষের থাকতে পারে? সাধারনতঃ দেখা যায় ফোকটে বিপুল টাকা উপার্জনকারী ব্যক্তিরাই এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে “নির্বাচিত” হয়ে আসেন!

এই হল বর্তমান সিস্টেমে আমাদের জন-প্রতিনিধিদের “জেনেসিস”!

এখন কি করে বলা যায় যে এই ভাবে নির্বাচিতরা কি সত্যিকার অর্থেই জনগনের প্রতিনিধিত্ব করেন?

অথচ এরাই মন্ত্রী হন, হুইপ হন, সংসদীয় কমিটির “চাই” হন, আর এরা সবাইই লালরঙ্গা পাসপোর্টের মালিক বনে যান!

তো এরাই আবার সংসদে নিজেদের বেতন ও সূযোগ সুবিধা বৃদ্ধি, টাক্স ফ্রি গাড়ী, সরকারী রেটে বাড়ী বানানোর প্লট, বিভিন্ন ব্যবসাতে সুবিধা ইত্যাদির ব্যাপারে যে কোন প্রস্তাবে দল-বেদল নির্বিশেষে পত্রপাঠ একমত হয়ে যান, কিন্তু যে মূল কাজের জন্যে তাদের এই এম পি গিরি, সেই দেশ ও জনগনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এরা ওয়াক আউট, সংসদ বর্জন ও তারপর হরতাল, বোমাবাজি ও মানুষ পোড়ানো ইত্যাদির ঘটনাতে আস্কারা দিয়ে জনগনের জীবন দুর্বিষহ করে থাকেন! এ ধরনের কিছু পুলিশ কেস নিয়ে বর্তমানেও কিছু সংসদ মামলা লড়ছেন!

এরাই হল আমাদের মান্যবর জন প্রতিনিধিবৃন্দ!

প্রায়ই খবরের কাগজে দেখি এরা কেউ কেউ ন্যাম ফ্লাট নিয়ে ভাড়া দেন, বিদ্যুত, টেলিফোন বিল পরিশোধ করেন না, সংসদ ক্যান্টিন থেকে কোটি টাকার বাকি খেয়ে দেন না, দিনের পর দিন সংসদ বর্জন করলেও বেতন ও সূযোগ-সূবিধা সমূহ কড়া ক্রান্তি হিসেব করে পকেটে পুরে থাকেন!

এরা ইদানিং সবাই প্রায় নিজেদের “জেডি নাইট” বা “বাংলাদেশের মালিক” বলে আরও বেশী বেশী করে ভেবে ফেলছেন আর তার ফলে প্রায় দিনই জন্ম দিচ্ছেন সুরসিকদের জন্যে “এন্টারটেইনিং” নানান খবরের!

মন্ত্রীত্ব না বাগাতে পারা সাংসদরা বিভিন্ন সংসদীয় সাবকমিটির মাধ্যমে তাদের বুকের “না পাওয়ার জ্বালা” জূড়োতে গিয়ে করে বসছেন বেশ কিছু চমকপ্রদ ও পিলে চমকানো কর্মকান্ড!
তার মধ্যে সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তিত্ব অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সয়ীদকে সংসদে গিয়ে “ক্ষমা” চাইবার বালখিল্য আবদার এবং সর্বশেষটি হল (আরো কর্মকান্ড বোধ হয় আসছে) হাইকোর্টের বিচারপতি জনাব শামসুদ্দিনকে অভিশংসন (ইম্পিচমেন্ট) এর হুমকি ধামকি!

এরা এক বার ও ভাবেন না যে জন গন এ সব পছন্দ করছে কি না! জনগণই যে প্রজাতন্ত্রের আসল মালিক, তারা যেন তা ভুলে গেছেন! সাংসদরা দাবী করেন যে তাদের নাকি “ইন্ডেমনিটি” আছে
(এক ইন্ডেমনিটির-র নাগপাশে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার করা যাচ্ছিল না), কিন্তু এ কথাও তো স্বতঃসিদ্ধ যে কোন নাগরিকই আইনের উর্ধ্বে নন! সেই একই কারনে সাংসদ রাও আইনের উর্ধে হতে পারেন না, তাদের তো আরো স্থিতধি হবার কথা! সংসদ সার্বভৌম তো বটেই, কিন্তু জনগণের কাছে তো তার জবাবদিহিতা রয়েছে, থাকতেই হবে!

দেখা গেল, এবারেও উপস্থিত সাংসদরা (কোরাম পুরো হয় না দেখে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই তাঁর অসন্তোষ প্রকাশ করেন!) এসব ব্যাপারে শুধু একমতই হননি, ভিকারুন্নিসা স্কুলের তেরটা বাজানো নৌকা মার্কা নিয়ে পাস করা জনাব রাশেদ খান মেনন ও “কালো বিড়াল” খ্যাত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তে প্রমুখের অশালীন হুংকার দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে সংসদ কক্ষে!

আসলে এঁদের কি হয়েছে? কেন এঁরা এমন করছেন?

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আমাদের জাতীয় সংসদে স্থায়ী ভাবে ও জরুরী ভিত্তিতে কিছু মানসিক চিকিতসক নিয়োগ দেয়া উচিত যাতে “জন-প্রতিনিধিদের” এই বিকারগ্রস্ততা কাটে!

প্রিয় ব্লগার ভাইরা, দোওয়া খায়ের কিছুটা হলেও করবেন আমার জন্যে, কারন কে জানে, মান্যবর কোন সংসদীয় সাব-কমিটি না আমার মতো মশক সদৃশ প্রানীকেও তার “বেয়াদবীর” জন্যে আল্লাহ না করুন ডেকে পাঠান কোন সবক দানের “গিলেটিনে” দিতে!