ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

‘বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়- হযরত মুহাম্মদ (সঃ) শেষ নবী নয়’- লেখাটি প্রকাশের বার ঘন্টার মধ্যে আমি মুছে ফেলেছি। এ সময়ের মধ্যে আঠারশ’র উপরে পাঠক লেখাটি পড়েছেন এবং চল্লিশ জনের উপরে মন্তব্য করেছেন। মন্তব্য করা পাঠকদের ৯৯% জনের মন্তব্যের সারমর্ম নিম্নরূপঃ

১। আমি রাতারাতি পরিচিতি পাওয়ার সস্তা পথ অবলম্বন করেছি
২। আমি ইসলামকে কটাক্ষ করেছি
৩। আমার ঈমান নেই
৪। আমি মুসলমান কিনা সন্দেহ

একটা কথা বলে রাখা ভাল যে, ব্লগে বা কোন গনমাধ্যমে ওটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম লেখা। এ কথাও সত্য যে,লেখাটি আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ। তবে রাতারাতি পরিচিতি পাওয়ার আশায় আমি লিখিনি। বলতে পারেন লেখাটি মুছে ফেলার এটি একটি অন্যতম কারন। তাছাড়া ইসলামকে কটাক্ষ করার দুঃসাহস আমার নেই। তাই আমার যে লেখায় ইসলামকে কটাক্ষ করার ইংগিত আছে সে লেখা অন্যকে পড়তে দিয়ে পাঠককে আমার প্রতি ভুল বিচার করার সুযোগ করে দিতে পারি না।

আমি যদি নিজেকে মুসলমান হিসাবে দাবি করি, সেক্ষেত্রে আমার ঈমান আছে কি নেই, আমি মুসলমান কি না, সে বিচার করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দেয়া ভাল নয়? এ প্রসংগে একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করতে চাই। এক সময় আহাম্মদিয়া (কাদিয়ানি) সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে তুমুল আন্দোলন হয়েছিল। তখন দেয়ালে দেয়ালে শ্লোগান লেখা দেখতাম-‘কাদিয়ানিরা কাফের’। এ নিয়ে অনেক আলোচনা শুনেছি। বিতর্ক ছিল একজন মুসলমান অন্যকে কাফের বলতে পারে কিনা। পরে সে শ্লোগানের পরিবর্তন দেখেছি। পরিবর্তিত শ্লোগানটি ছিলো- ‘কাদিয়ানিরা অমুসলিম’। এখানে যে কথাটি আমি বলতে চাই তা হলো- আমার ঈমান আছে কি নেই, আমি মুসলমান কি না তার বিচারের ভার কি একজন ধার্মিক পাঠকের নেয়া ঠিক? একজন পাঠক লেখকের মতের সাথে দ্বিমত পোষন করতেই পারেন। তবে সেটা হওয়া উচিত বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর, ব্যক্তিগত আক্রমনের বাইরে থেকে।

পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই- আমি একজন মানুষ, ধর্ম আমার ইসলাম-যার শ্রেষ্ঠত্য শান্তি আর মানবতায়, হিংস্রতায় নয়।