ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বেশ কয়েক মাস ব্লগে অনুপস্থিত থাকায় সঙ্গত কারণেই নতুন অনেক ব্লগারের সাথে আমার পরিচয় হয়ে উঠেনি, তবে পুরোনো অনেকেই হয়তো জানেন আমার রাজনৈতিক বা সামাজিক দর্শন কি। যারা নতুন তাদের জন্য আমি আবারো উল্লেখ করছি; আমি রাজনৈতিক ভাবে প্রগতির পক্ষে – মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, স্বপ্ন দেখি ক্ষুধা-দারিদ্র মুক্ত, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও রাজাকার মুক্ত সাম্য এবং সম্প্রীতির বাংলাদেশের। রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখতে চাই নৈতিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত এক ঝাঁক নেতৃত্ব। এক সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ছিলাম নিবিড় ভাবে, নেতৃত্ব দিয়েছিলাম একটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার। তারপর বেশ কিছু বছর প্রবাসে। কথা গুলো প্রথমেই বলে রাখলাম এই কারণে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার না হই। ব্যক্তিগত আক্রমণের ভয়ে নয় বরং একটি সুন্দর আলোচনার স্বার্থেই নিজের পরিচয় দেয়া।

এবার মূল বিষয়ে আশা যাক, রাজনৈতিক সচেতন অনেকেই হয়তো শিরোনামে উল্লেখিত নামটি জেনে থাকবেন পত্রিকা মারফত। আমিও আপনাদের মতই নামটির সাথে পরিচিত বেশ কিছু বছর কিন্তু সামনাসামনি কখনো দেখিনি গোলাপ সাহেবকে। শুধু এইটুকু জানি উনি নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন এক সময়, তারপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ- কমিটির সহ-সম্পাদকও ছিলেন। আর বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে কর্মরত। ওনার সম্পর্কে আমার জানা এইটুকুই। গত মাসের আনুমানিক প্রথম দিক হবে, অনলাইন ইত্তেফাক পত্রিকায় একটা খবরের শিরোনাম দেখে খুব ভাল লাগলো, কিন্তু বিস্তারিত পড়তে গিয়ে বড় একটা হোচট খেলাম। সেদিনই বিষয়টা নিয়ে লিখব ভেবেছিলাম কিন্তু ব্যস্ততার কারণে লেখা হয়ে উঠে নি। ইত্তেফাকের লিঙ্কটা আমি সেভ করতেও ভুলে গিয়েছিলাম। সংবাদের শিরোনামটা ছিল – আব্দুস সোবহান গোলাপের পিএইচডি ডিগ্রী লাভ। তার গবেষণার বিষয় “ডিজিটাল বাংলাদেশ এণ্ড সোস্যাল চেঞ্জেস”। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হল আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর গবেষণার সুপারভাইজার ছিলেন অধ্যাপক সদরুল আমিন এবং কো-সুপারভাইজার ছিলেন অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া।

নিউজটা পড়ে আক্কেলগুরুম হয়ে গেল, প্রথমতঃ ওই নামে ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে ফিজিক্যালি কোন বিশ্ববিদ্যালয় নাই (গুগল করে দেখতে পারেন), এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেট প্রিন্টার মাত্র। আর দ্বিতীয়তঃ জনাব গোলাপ সাহেবের গবেষণা সুপারভাইজার বিতর্কিত ব্যাক্তি ডঃ সদরুল আমিন সাহেব, যাকে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি, উনি হচ্ছেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান এর রিটায়ার্ড শিক্ষক, কিন্তু সুপারভাইস করলেন “ডিজিটাল বাংলাদেশ এণ্ড সোস্যাল চেঞ্জেস” নিয়ে গবেষণার। ভন্ডামি আর কাকে বলে। এবার আসা যাক কো-সুপারভাইজার অধ্যাপক ডঃ সেলিম ভূঁইয়া বিষয়ে, ওনাকে আমি চিনি না নামও শুনিনি কখনো, কিন্তু কৌতূহল বসত গুগল করে তো আমার মাথায় হাত। লিঙ্ক ১ , লিঙ্ক ২ লিঙ্ক দুটো পড়লেই আপনারা বুঝতে পারবেন এই ভদ্রলোকের ভন্ডামি।

আমি জানি এই ব্লগের অনেকেই আছেন যারা পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং অন্তত তিন জনকে চিনি বর্তমানে যারা পি এইচ ডি গবেষণারত। আমার গত পোস্ট পড়ে থাকলে হয়তো জেনেছেন আমি নিজেও একজন পি এইচ ডি রিসার্চার। ডিগ্রিটা যে কত সহজ (!) সেটা আপনারা খুব ভালোভাবেই বুঝেন আশাকরি।

এই গোলাপ সাহেব ও সদরুল আমিন সাহেবদের কর্মকাণ্ড দেখে আপনারাই বলুন আমাদের নৈতিকতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিগত নির্বাচনে ল্যান্ড স্লাইড বিজয়ের পর সুন্দর একটি স্বপ্ন নিয়ে বেশ কিছু ডক্টরেট ডিগ্রি ধারীকে মন্ত্রী সভায় স্থান দিয়েছেন এবং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ ছিল, যদিও আমি উপদেষ্টা গণের সফলতা বিফলতা নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছুক না, এই বিষয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা চলছে অনেকদিন ধরেই। শেখ হাসিনার সুন্দর সেই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে আমার জানা মতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাই পিএইচডি করার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তাদের রাজনৈতিক প্রোমোশনের কথা চিন্তা করে। খুব ভাল কথা কিন্তু তাই বলে রানিং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কিনা পিএইচডি নিবে এই ভাবে ? একটি অবৈধ হাওয়াই প্রতিষ্ঠান আর ক্রিমিনাল সুপারভাইজারের নাম দিয়ে ? সেই অপকর্ম আবার নির্লজ্জের মত প্রচার করে বেড়ালেন। এর পরও কি গোলাপ সাহেব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী পদে থাকার নৈতিক অধিকার রাখেন ? আমি আগেই বলেছি গোলাপ সাহেবকে আমি কোনদিন দেখিনি বা ব্যাক্তিগত ভাবে চিনিও না কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বসে ভন্ডামি করবে এটা মানতে পারি না, তাই আমার এই লেখা। জানি না আমার এই লেখা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কারো চোখে পড়বে কিনা, যদি পড়ে অনুরোধ থাকলো বিষয়টা যেন প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।

সকলকে লেখাটি পড়ার জন্য অগ্রিম ধন্যবাদ এবং অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ রাখছি।