ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজর ভর্তি নিয়ে দেশে এখন তুমুল বিতর্ক চলছে। ব্লগে বেশ কিছু পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা না করেই বিরোধিতার খাতিরে বিরোধীতা মনোভাব নিয়ে লিখে যাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া ভর্তি করা হলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হবে !! আসলেই কি তাই ? মেধা যাচাই করার জন্য ১ ঘণ্টা বা ২ ঘন্টার একটি পরীক্ষাই কি যথেষ্ট ? এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে ৪ বছরের পড়াশোনা শেষে প্রায় শত ঘন্টার পরীক্ষার ফলাফল কি কোন মেধাই যাচাই করে না ? আরেকটা বিষয় যোগ করি, ধরুন ভর্তি পরীক্ষার দিন কোন পরীক্ষার্থীর শরীর খারাপ করল কিংবা কোন কারণে মন খারাপ থাকার কারণে ১-২ ঘন্টার ওই পরীক্ষাটি খারাপ হল, তাতে করে কি তার বিগত দুটি পরীক্ষার দুর্দান্ত ফলাফলের কোনই মূল্য থাকবে না ? দীর্ঘ দিন ধরে কি এক অদ্ভুত মেধা যাচাই পদ্ধতিই না চলে আসছে আমাদের দেশে !

শুধু মেডিক্যাল ও ডেন্টাল নয় সকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি তুলে দেয়া উচিত। সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে দূর্নীতি দমন ও মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে শক্তিশালী একটি স্থায়ী ভর্তি কমিশন গঠন করে তাদের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা বিহীন (এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে) ভর্তি পদ্ধতি প্রবর্তন করা উচিত। ভর্তিচ্ছুরা ভর্তি কমিশন বরাবর একটি মাত্র আবেদন পত্র জমা দেবে এবং তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ের ক্রম উল্লেখ করবে। ধরুন ১ জন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫ টি প্রতিষ্ঠান ও ৫ টি বিষয়ের পছন্দের তালিকা করে জমা দিতে পারবে। এখানে আরেকটি বিষয় যোগ করা যেতে পারে, কারা কোথায় আবেদন করবে ? সেই ক্ষেত্রে এমন হতে পারে, বুয়েট, মেডিক্যাল বা আরো কিছু প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ে পছন্দ দিতে হলে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জিপিএ ৫ থাকতে হবে। তবে এই মানদণ্ডটা প্রতিষ্ঠান নিজেই ঠিক করে দিতে পারে। সকল আবেদন পত্র যাচাই বাছাই করার পর নির্বাচিত ভর্তিচ্ছুদের কমপক্ষে দুইটি অপশন দেয়া যেতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদেরকে একটি প্রতিষ্ঠান বা বিষয় বেছে নিতে হবে যেটিতে তারা ভর্তি হবে।

এতে করে এক দিকে ভর্তিচ্ছুদের অনেক প্রতিষ্ঠানে আবেদনের ঝামেলা থাকবে না, টাকাও বেঁচে যাবে পাশাপাশি বন্ধ হবে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য এবং ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাসের ঝুঁকিও। প্রতিষ্ঠানগুলোও বেঁচে যাবে হাজার হাজার প্রার্থীর পরীক্ষা নেবার ঝামেলা থেকে। পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রতি বছর যে শূন্য আসন থেকে যায় সে গুলোও হয়তো থাকবে না।

এই ধরনের ভর্তি পদ্ধতি অনেক উন্নত দেশেই প্রচলিত আছে, যার ফলে কোন শিক্ষার্থীকেই ভর্তির জন্য আমাদের দেশের মত মহাযুদ্ধে নামতে হয় না। উদাহরণ হিসেবে এবং বিষয়টিকে আরো বেশী গ্রহণযোগ্য করার জন্য যুক্তরাজ্যের উচ্চ শিক্ষার ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। সেখানে জগত বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড , কেম্ব্রিজ সহ সকল প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি পরীক্ষা নয় পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টস এর ভিত্তিতেই ভর্তি করা হয়ে থাকে।

জানি কাজটা খুব সহজ নয় কিন্তু সময় নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা মাফিক এগুলে বাস্তবায়ন করা কঠিনও নয়। ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বছর খানেক আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে কাজ শুরু করলেই কারো বিরোধিতাই তখন আর ধোপে টিকবে না। তবে এই বছরই যদি প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা ভাবেই রেজাল্টস এর ভিত্তিতে ভর্তি করে তাতেই বা সমস্যা কোথায়। অন্তত ভাল কাজটা শুরু তো হবে।

আসুন আমরাও এগিয়ে যাই, পুরোনো অদ্ভুত পদ্ধতি বাদ দিয়ে নতুন একটা ফেয়ার ও ট্রান্সপারেন্ট পদ্ধতি চালু করি, যাতে করে ভর্তি প্রার্থীরা হবে ঝামেলা মুক্ত, অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবেন অভিভাবকরা। বন্ধ হবে কোচিং বাণিজ্য,বাজে সব ব্যানার আর পোস্টারে ভরে থাকবে না রাস্তা গুলো।