ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

গতকাল দি ওয়াশিংটন টাইমসে বেগম খালেদা জিয়ার নামে প্রকাশিত নিবন্ধটি পড়ার পর থেকেই নিবন্ধটির(!) একটা পরিপূর্ণ সার্জিক্যাল অপারেশন করার ইচ্ছে মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। পেশাগত ও পারিবারিক ব্যস্ততায় সময়ের ভাগাভাগিতে সার্বিক বিশ্লেষণ করা হয়ে উঠছে না কিছুতেই, কিন্তু হীনমন্যতা, দেশপ্রেমহীনতা, তোষামোদিতা এবং সর্বোপরি দেশবিরোধীতার এই জলন্ত দলিল পাঠ করার পর অন্তত দু-চার লাইনের একটি প্রতিবাদ না লিখলে নিজের কাছেই নিজেকে প্রচন্ড স্বার্থপর বলে মনে হত। আর লেখাটি যখন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রীর নামে প্রকাশিত তখন কোন সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিকের পক্ষেই এটাকে অবহেলা করার কোন সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।

লেখাটি পড়ার সময় প্রতিটি অনুচ্ছেদ শেষেই মনে হচ্ছিল, নিবন্ধটি কি আসলেই বেগম জিয়া লিখেছেন ! নাহ ! হতেই পারে না, কারণ দুইটি: ১. একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, সাবেক ও হয়তবা ভবিষ্যত প্রধানমন্ত্রী এতটা দেশবিরোধী কি করে হয়। ২. একজন অকৃতকার্য ম্যাট্রিক পরীক্ষার্থীর পক্ষে ইংরেজীতে এহেন একটি নিবন্ধ লেখা মোটেই সম্ভব নয়।

তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ালো- ক্ষমতা হারিয়ে বেগম জিয়ার মধ্যে দেশ প্রেমহীনতা ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রর যে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল তা এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে যা এখন আর লুকিয়ে রাখার কোনই উপায় নেই। পাশাপাশি লেখাটি যে বেগম জিয়ার নিজের নয় সেটা সচেতন মাত্রই না বুঝার কোন কারণ নেই, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ওনার নামে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার জন্য লেখা একটি নিবন্ধ পাঠানোর আগে সেটা কি উনি নিজে(!) পড়েছেন কিংবা বিশ্বস্ত কোন অনুবাদক দিয়ে পড়িয়েছেন। যদি পড়ে ও বুঝে লেখাটি প্রচার করে থাকেন তাহলে বলতে হবে বেগম জিয়ার মধ্যে দেশপ্রেমের ছিটেফোঁটাও আর বিদ্যমান নেই বরং ক্ষমতার মোহে দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী যে নিচু হীনমন্যতা ওনার মধ্যে বাসা বেধেছে তাতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি কোন ক্রমেই ওনার হাতে নিরাপদ হতে পারে না।

যে সকল সম্মানিত ব্লগার নিবন্ধটি ভালোমতো পড়েছেন তাদের আলোচনায় অংশ নেবার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি, আর যারা এখনো পড়েননি তাদেরকে উপরের লিঙ্ক থেকে পড়ে তারপর আলোচনার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। পুরো লেখার একটি অনুচ্ছেদ সম্মানিত পাঠকের জন্য এখানে তুলে ধরলাম-

“They also must explain to Ms. Hasina that general preferences
for trade will be withdrawn if those who support workers’ rights and have
political views opposed to those of the prime minister are not now allowed
to express their beliefs. The Western powers should consider targeted travel
and other sanctions against those in the regime who undermine democracy,
freedom of speech and human rights. They should say and do these things
publicly, for all our citizens to see and hear. This is how the United States
can ensure that its mission to democratize the world continues.”

সরকারী জোটের অনেক নেতা-মন্ত্রী ইতিমধ্যেই বেগম জিয়াকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যা দিয়েছে, দেশের সচেতন সমাজ ধিক্কার জানিয়েছেন। সম্মানিত পাঠক আপনারাই বলুন, পুরো নিবন্ধের শুধু উপরে উদৃত অনুচ্ছেদটিই কি বেগম জিয়াকে “রাষ্ট্রবিরোধী” আখ্যা দেবার জন্য যথেষ্ট নয় ?

আসুন দেশবিরোধী চক্রান্তকারী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়াই।

***
ফিচার ছবি: http://www.onbnews24.com থেকে সংগৃহিত