ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে আজ চারিদিকে খুবই দুঃখজনক বিতর্ক। সেই বিতর্কে বিতার্কিক হবার ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু ব্লগে এমন সব উদ্ভট যুক্তি আর মন্তব্য দেখা যাচ্ছে নিজেকে বিরত রাখাই দুরহ হয়ে উঠলো। কেউ কেউ খুব বেশি আহত হয়ে যেতে পারেন তাই প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিলাম। এবার মূল কথায় আশা যাক।

মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানের অবদানকে আমি কখনোই খাটো করে দেখি না। যুদ্ধকালীন সময়ে তার যে অবদান সেটাকে খাটো করে দেখার কোন অবকাশ আছে বলেও মনে করি না। তার যেটুকু অবদান সেটুকু অবশ্যই দিতে হবে তার বেশীবই কম নয়। আজ স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে যে বিশাল আব্দার বিএনপি ও ক্ষণে ক্ষণে জামাত করছে, সে আবদারটা কবে থেকে শুরু হয়েছে তা কম বেশি আমাদের সকলেরই জানা। জেনারেল জিয়া বেচে থাকতে তথা ১৯৭২-১৯৮১ পর্যন্ত তিনি নিজে কিংবা তার সহধর্মিনী এই দাবী করেছেন তার ডকুমেন্টেড প্রমাণ কেউ কি দেখাতে পারবেন ? তিনি যুদ্ধ শুরুর আগে বা প্রারম্ভে তেমন কোন আলোচিত বা পরিচিত অবস্থানে ছিলেন না সঙ্গত কারণেই। শুধু মাত্র কাকতালীয় ভাবে ৭১ এর মার্চে তার পোস্টিং চট্টগ্রামে ছিল, আর একমাত্র কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রই বাঙালীর দখলে ছিল বলে আজ তাকে “স্বাধীনতার ঘোষকের” আসনে বসানো হবে, যেটা তিনি নিজেও কখনো দাবি করেনি, এটাতো কোনভাবেই হতে পারে না। আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না, তার আগেই এম এ হান্নান সাহেব কালুরঘাট বেতার থেকে ঘোষণটা পাঠ করেছিলেন, তারপরে সেনা বাহিনীর সদস্য হিসেবে তিনি (সুত্রঃ লিঙ্ক )(অডিওঃ লিঙ্ক)। তাহলে হান্নান সাহেব কি অপরাধে স্বাধীনতার ঘোষক হবেন না ? কারণ তিনি ক্যু’ করে ক্ষমতা দখল করে, তার স্ত্রী আর সন্তানদের রেখে যাননি স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করার জন্য?

একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে আমরা জিয়াউর রহমানের অবদানকে কখনোই খাটো করে দেখবো না, কিংবা সাহসিকতার সাথে ঘোষণা পাত্র পাঠ করার বীরত্বের জন্য বাঙালী আজীবন তাকে মনে রাখবে। সেই সাথে খাটো করে দেখবো না বাকি সব সেক্টর কমান্ডারদের সম-অবদানও। কিন্তু স্বাধীন দেশে জাতির জনক হত্যা পরবর্তী সময়ে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকারী জে. জিয়াকে হিরো বানাতে গিয়ে একশ্রেণীর হীণ চরিত্রের স্বার্থবাজ লোক ভুলে যায় মহানায়কের কথা, ভুলে যায় প্রধান সিপাহশালার এমএজি ওসমানীর কথা। হায়রে রাজনীতি।

ছোট্ট একটা উদাহরণ দিয়েই বিতর্কের ইতি টানবো, কারণ সার্থের মোহে একটা বিশেষ গোষ্ঠীর ব্রেইন পার্মানেণ্টলী ডেমেজড হয়ে গেছে, তাদের কাছে দুনিয়ার কোন যুক্তিই যে আজ গ্রহণযোগ্য নয়। যে কারণেই বিতর্কে জড়ানোর ইচ্ছে ছিলনা।

এটি একটি উদাহরণ মাত্র।
>>>সরকারের স্বৈরাচারী আচরণ ও এক গুচ্ছ ভন্ড হুজুরের মুক্তির দাবীতে ২৬ শে মার্চ নয়া পল্টনে বিশাল একটি মহাসমাবেশর মাধ্যমে ঢাকা দখল করার আহ্বান। ৬ মাস ধরে চলছে পরিকল্পনা, প্রস্তুতিসভা, গণমিছিল, জেলা সফর, ইত্যাদি। ম্যাডাম ও তার মহাসচিব সহ বড় বড় সিপাহ শালারদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে, (কারণ সরকার প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে, পুলিশ-ছাত্র ঐক্য করে মাঠ দখল করে নিয়েছে), মহাসমাবেশ হবে কিনা অনিশ্চিত, কিন্তু যেকোনো প্রকারেই হোক বিজয় ছিনিয়ে আনতেই হবে। এ দিকে ম্যাডামের সরকার পতনের ডাকে সারা দেশে স্লোগান উঠেছে, “দেশনেত্রী এগিয়ে চল দেশবাসী তোমার সাথে”, “হাসিনার গদিতে আগুন জ্বালো এক সাথে”, “তারেকের ভয় নাই আমরা আছি কোটি ভাই” ইত্যাদি ইত্যাদি। ম্যাডামের ডাকে বাংলার জনগণ উন্মুখ হয়ে আছে “চলো চলো ঢাকা চলো” মাতমে। ম্যাডামের ডাকে তারা টাকা পয়সা, চিরা মুড়ি, যার যা সামর্থ আছে তাই নিয়ে ঢাকা যাবার জন্য প্রস্তুত। অন্য দিকে হুজুরদের মুরীদরাও বসে নেই, নরায়ে তাকবীর ধ্বনি দিয়ে বেরিয়ে পড়ছে বোমা-গ্রেনেড হাতে।

২৫শে মার্চ সন্ধ্যায় এক অনিশ্চয়তার মধ্যে নয়া-পল্টন ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতিকে বলা হল মাইকিং করে ঘোষণা করো, দেশবাসীকে জানাও মঞ্চ প্রস্তুত, জান দিব তবুও সমাবেশ করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ। সেই মাফিক কাজ পুলিশ-ছাত্রলীগ পান্ডাদের ভয়কে জয় করে বীর ছাত্রনেতা মাইকিং করে সারা শহরে ঘোষণা করলেন দেশবাসীকে মহাসমাবেশে যোগদানের আহবান।

অবশেষে, নয়া-পল্টন ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতির ডাকে ২৬ শে মার্চ পুলিশ – বিজিবি – ছাত্রলীগ- যুবলীগ পাণ্ডাদের বাধা অতিক্রম করে স্মরণকালের সেরা সমাবেশ হল। সফল হল ঢাকা চলো কর্মসূচী। সাবাস ঘোষক ! তুমি বীর ! তুমি চির উন্নত মমশির !

আর কিছুই বলার নাই। এবার মাথাটা একটু খাটান। যদি বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে কোন প্রকার ব্যক্তিগত সুবিধা পাবার ধান্ধা না থাকে তাহলে নিজেকে প্রশ্ন করুন। আর যদি ধান্ধা থাকে তাহলে আমাকে যত খুশি গালি দিন। বাকশালী বলুন, ভাদা বলুন, গাধা বলুন, পা চাটা দালাল বলুন কোনও সমস্যা নাই। সত্য-মিথ্যা দুয়ের মাঝে সত্যের পক্ষ নিয়ে বাকশালী-ভাদা-গাধা-পা চাটা দালাল হতে আমার কোনই আপত্তি নাই। তবে মিথ্যার পক্ষ নিয়ে ভন্ড আর কোন পক্ষ না নিয়ে তথাকথিত নিরপেক্ষ ভেড়া হতে আপত্তি আছে।
সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন।

স্বাধীনতার ঘোষক সংক্রান্ত একটি নতুন তথ্য

বিঃদ্রঃ অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য বর্জনীয়। পরিবেশ দূষণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।