ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

গর্বের সঙ্গে বুকে হাত রেখেই বলছি, বিপিএলের খেলোয়াড়দের নিলামের দিন যখন জানলাম বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে পাকিস্তানি খেলোয়াড় সবচেয়ে বেশি, তখনি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিপিএল বয়কট করার। তখন এর প্রতিবাদ করে যখন বিপিএল বয়কটের বিষয়ে লিখলাম, তখন পাকিস্তানিদের শুক্রাণু বহনকারী এ দেশি জারজরা তাচ্ছিল্য করেছিলো! বলেছিলো, ‘তোমার মতো দুয়েকজন বিপিএল না দেখলে বয়েই যাবে!’ মনের কষ্টে তখন তেমন একটা জবাব দেইনি।

BPL
আজ ডিসেম্বরের ১৪ তারিখ। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ‘৭১ এর এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী, এ দেশে থাকা তাদের দোসররা রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে বরেণ্য হাজারো শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিকদেরকে নির্মম, নিষ্ঠুর নির্যাতনের পর নারকীয় ভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বুঝতে পেরেছিলো, তাদের পরাজয়ের পর বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা এ দেশকে নিয়ে যাবে অনন্য এক উচ্চতায়। তারা এটাও বুঝতে পেরেছিলো, এ জাতির সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানরা বেঁচে থাকলে চুয়াল্লিশ বছর পরেও এ দেশের মহিলা দলের কোনো অধিনায়ক পাকিস্তানে গিয়ে গর্ব করে উর্দূ বলার মানসিকতা পেতো না, তৈরি হতো না তাদের সঙ্গে ছবি তুলে ‘গর্ববোধ’ করা বা ‘মেরি মি’ বলার মতো প্রজন্ম, আরেক অধিনায়ক পাকিস্তানের কোনো খেলোয়াড়কে অধিনায়কত্ব করতে দেয়ার মতো দু:সাহস দেখাতে পারতো না, কিংবা কোনো মন্ত্রীর ‘ইসলামী ব্যাংকের টাকা নিয়ে অন্যায় করিনি’ টাইপের ধৃষ্টতামূলক কথা বলার পরে তার মন্ত্রীত্বের রেড সিগন্যাল বাজানোর মতো প্রজন্ম তৈরি হতো, ‘পাকিস্তানি খেলোয়াড় থাকায় আপনার মতো দুয়েকজন যদি বিপিএলের খেলা না দেখে, তবে কিছুই হবে না’ বা ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানোর মতো পোলাপান দিয়ে আমরা কী করিবো’ বলার মতো মোস্তফা সারওয়ার ফারুকি মানসিকতার প্রজন্ম তৈরি হতো না। বরং বিজয়ের পরেও এ জাতির পরবর্তী প্রজন্ম যাতে ঢেউটিন, আর ললিপপ মার্কা হয়, এজন্যই তারা হত্যা করেছেন বুদ্ধিজীবিদেরকে। তাদেরকে হত্যা করে এখনকার প্রজন্মকে ঢেউটিন, আর ললিপপ মন্ত্রীও উপহার দিতে পেরেছে পরাজিত শক্তি!

‘৭১ এর ডিসেম্বরের ১৪ তারিখে পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বর হত্যাকাণ্ডের পরে ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে নিকটাত্মীয়রা মিরপুর, রাজারবাগ বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ খুঁজে পায়। লাশের ক্ষত চিহ্নের কারণে অনেকেই প্রিয়জনের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারেননি। ইতিহাসের  সেই বর্বর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া যাদের নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে, এমন কয়েকজন হলেন- মুনীর চৌধুরী, ড. জি সি দেব, আলতাফ মাহমুদ, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, শহীদুল্লাহ কায়সার, আবদুল আলীম চৌধুরী, খন্দকার আবু তালেব, ড. সিরাজুল হক খান, ড. আবুল কালাম আজাদ, ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত প্রমূখ।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের এই দিনে বুকে হাত রেখে পূর্বসূরিদের বলছি, তোমাদেরকে যারা বাঁচতে দেয়নি তোমাদের আকাঙ্খিত স্বাধীন বাংলাদেশে, আমাদেরকে যারা বঞ্চিত করেছে তোমাদের ভালোবাসা আর স্নেহ থেকে, যারা আমাদেরকে বঞ্চিত করেছে তোমাদের সরাসরি গাইডলাইন পাওয়া থেকে, সেই খুনিদের পরবর্তী প্রজন্ম থাকায় কষ্ট হলেও আমি বয়কট করেছি বিপিএলের প্রত্যেকটা ম্যাচ, ওয়াদা করছি- দেখবো না বিজয় দিবসের আগের দিনে হওয়া বিপিএলের ফাইনালও। ওপর থেকে হয়তোবা বলতে পারো, ঘৃণাতো তোমাদের স্বভাববিরোধি। তবুও আজ আমি সেই খুনিদেরকে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে ঘৃণা করবোই। কারণ, অন্যায় করে যে অনুতপ্ত হয়, তাকে হয়তোবা ঘৃণা করা যায় না, কিন্তু ইতিহাসের বর্বর হত্যাকাণ্ডের পরেও যারা অনুতপ্ত না, তাদের জন্য, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বরাদ্দ থাকবে ঘৃণা, শুধুই ঘৃণা।

আহসান কামরুল
১৪.১২.২০১৫ খ্রি.
ঢাকা।