ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

মেইন অর্থ প্রধান আর পার্মানেন্ট মানে স্থায়ী। বাস্তবে তো দুটোর অর্থ একই বুঝায়, কিন্তু যখন দেখলাম একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শাখাকে মেইন আর পার্মানেন্ট হিসাবে ভাগ করেছে ঠিক তখনি কনফিউশনে পরে গেলাম। কিন্তু অক্সফোর্ড, গুগল ট্রান্সলেট এবং ইংরেজি গ্রামার খুঁজেও দুটোকে সমর্থক শব্দ হিসাবেই পেলাম। তাহলে কি লাউ ও কদু দুটোর মতোই মেইন ও পার্মানেন্ট সমর্থক শব্দ? যদি তাই হয় তাহলে কেন একটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শাখাকে মেইন আর পার্মানেন্ট হিসাবে ভাগ করল?

আসলে তারা মেইন আর পার্মানেন্ট ক্যাম্পাস দিয়ে ইউজিসি বা জনগণকে কী বোঝাতে চাচ্ছে? আর এর উত্তর খুঁজতেই ইউজিসির ওয়েবসাইট খোঁজা। ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ২০১০ এর ১৩ ধারা অনুযায়ী,

অনুমদিত ক্যাম্পাসঃ উপধারা (১) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার নিমিত্ত প্রদত্ত সাময়িক অনুমতিপত্রে বা, ক্ষেত্রমত সনদপত্রে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমদিত ক্যাম্পাস যে শহর বা স্থানে স্থাপিত ও পরিচালিত হইবে উহার সুনিদিষ্ট উল্লেখ থাকিবে।

উপধারা (২) উপধারা (১) অধীন  উল্লিখিত শহর বা স্থানে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমদিত ক্যাম্পাস সীমিত রাখিতে হইবে এবং অন্য কোন স্থানে উক্ত উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কার্যক্রম পরিচালনা বা কোন ক্যাম্পাস বা শাখা স্থাপন ও পরিচালনা করা যাইবে না।

বাস্তবে দেখা যায় আজ থেকে ৫-৭ বৎসর আগেও ধানমণ্ডিতে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২-৩  টি বিল্ডিং ছিল আর এখন তাদের ৫-৬ টা বিল্ডিং/টাওয়ার রয়েছে। যেখানে ইউজিসির ১৩ এর উপধারা ২ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমদিত ক্যাম্পাস সীমিত রাখতে বলা হয়েছে সেখানে তা বেড়েছে। একই বিষয় পড়ানোর জন্য ধানমণ্ডি, উত্তরা ও আশুলিয়ায় শাখা রয়েছে। যাদেরকে মেইন ক্যাম্পাস, উত্তরা/সিটি ক্যাম্পাস, পার্মানেন্ট ক্যাম্পাস নামে অবিহিত করা হয়।

সবারই ইচ্ছে থাকে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার । সরকারিতে সিট কম  হওয়ায় বাধ্য হয়েই ছাত্র ছাত্রীরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। কিন্তু তাই বলে সবাইকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর এই মহৎ কাজটি করতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বন্ধ করা দরকার।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট ২০১০ এর ৮ ধারা অনুযায়ী,

(৮) প্রস্তাবিত  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিবিড় পাঠক্রম এবং প্রতিটি বিষয় ও কোর্স প্রণয়নসহ প্রত্যেক বিষয়ের মোট আসন সংখ্যা উল্লেখ করিয়া কমিশনের পূর্ব অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

প্রায় প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বৎসরে ৩টি সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। প্রতি সেমিস্টারে একটি বিষয়ে যদি ১০০০ করে ভর্তি করায় তাহলে বৎসরে দাড়ায় ৩০০০ জন প্রতি বিষয়ে। ঠিক এই রকম ৫টি বিষয় থাকলে ছাত্র ছাত্রী দাড়ায় ১৫,০০০। যেখানে বুয়েটে অনার্স থেকে পিএইচডি পর্যন্ত মোট ১০,০৬৬ শিক্ষার্থীর জন্য একাডেমীক স্টাফ আছে ১৪৫০ জন, সেখানে এই সকল ভার্সিটির কতজন স্টাফ আছে? এর এক্ষেত্রে ইউজিসি কিভাবে তাদের এত শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয় সেটাও ভাবার বিষয়। শুধু সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কেন কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ও নিদিষ্ট সংখ্যক সিট থাকে তার বেশি ভর্তি করানো হয়না, যেমন, আহসান উল্লাহ্‌ বিশ্ববিদ্যালয় এর কথা না বললেই নয়।

আমার পরিচিত একজন রুমমেট ধানমণ্ডির একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করেছে, তার ইচ্ছে বেসরকারি ব্যাঙ্কে জব করা কারন বেসরকারি ব্যাঙ্কে বেতন অনেক। কিন্তু একটি বেসরকারী ব্যাংকের আবেদনের শর্তে বলা আছে সকল সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪-৫ টি নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়(আবেদনে উল্লেখ করা আছে) ছাড়া বাকিদের আবেদন করা যাবে না, তখন তার চেহেরা দেখে বুঝেছিলাম কেমন অনুভব করছে। আসলেই তো ৫-৬ লক্ষ টাকা খরচ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যদি ব্যাঙ্কে আবেদনেই করতে না পারে তাহলে এই সার্টিফিকেট দিয়ে কি লাভ?

তাই আমি মনে করি গণহারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি  না করিয়ে আসন সীমিত করে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করলে যেমন ভালমানের প্রোডাক্ট  তৈরি হবে তা না হলে ঠিক এই সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে পরে হয়ত পাড়ায় কম্পিউটার এর দোকান, ইলেক্ট্রিকের দোকান দিয়ে বসতে হবে না হয় বিবিএ পড়ে বাবার বিজনেস দেখতে হবে। তাই মনে হয় এই বিষয় তা বুঝতে পেরেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মত দেশে “ব্যাচেলর অফ ইন্টারপ্রিওনার” সাবজেক্ট খুলছে । অর্থাৎ এখানে পড়ে সার্টিফিকেট নিয়ে যেয়ে ব্যাবসা কর।