ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

শিরোনাম শুনে ঘাবড়াবেন না।

আজ সকাল থেকে জ্বর। তাই হয়ত জ্বরের ঘোরে উল্টা পাল্টা বলছি। সকাল বেলা শহীদ মিনারে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অবস্থা এতই খারাপ ছিল যে,বিছানা থেকেও উঠতে পারলাম না। অবশেষে উঠলাম ১১ টায়। মন খুব খারাপ হলো এইভেবে, আমি আমার কাম্পাস জীবনের শেষ ২১ শে ফেব্রুয়ারীতে শহীদমিনারে যেতে পারলাম না। বিষণ্ণ মন নিয়া পেপার দেখতে বসলাম । দারুণ খবর পেলাম ।

গতকাল নাকি ভাষা সৈনিকদের তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। আজ ২০১২ সালে বসে আমরা ১৯৫২ এর ভাষা সৈনিকদের তালিকা বানাচ্ছি। এতদিন মনে করতাম আমরা ৪১ বছর পিছিয়ে ছিলাম। কিছু হলেই ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারী,২০১২ এ এসে বুঝলাম আমরা আসলে আসলে ৪১ না, ৬০ বছর পিছিয়ে গিয়েছি। কারন, এখন তৈরি হচ্ছে ভাষা সৈনিকের তালিকা। সারা পৃথিবীর সব দেশ সামনে আগানোর যুদ্ধের পরিকল্পনা করছে। আর আমরা বসে ভাষা সৈনিকের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা, রাজাকারের তালিকা বানাচ্ছি । মনে পরে যায় সেই কবি নজরুলের কথা “ সারা পৃথিবী যখন সামনে আগায় আমরা তখন হাদিস কুরআন চষে মিলাদের ফতওয়া বের করি” । জাহাপনা নজরুল। আপনি মহান। এত্ত বছর আগে যা বুঝেছিলেন, বলেও গিয়েছিলেন। আমরা আপনার চেয়ে আধুনিক হয়েও তা বুঝি না।

ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর পর এই তালিকা করার মানে কি। এই তালিকা কতটা সঠিক আর কতটা সঠিক না, সেই বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই। শুধু একটা জিনিষ জানার ইচ্ছে, তালিকা তৈরির কমিটি কত টাকা নিজের পকেটে ভরেছে। আর এই তালিকায় যাদের নাম আছে তারা কি পাবেন। আবার নতুন কোন কোটা !! আর আমি বিশ্বাস করি ৫২ তে যারা ভাষার আন্দলনে ছিলেন তারা ২০১২ তে এসে নিজের নাম তালিকায় আসলো কিনা এই নিয়া তাদের কোন মাথা বেথা নাই।কারণ, তারা এই তালিকার জন্য সংগ্রাম করেন নাই। তারা সংগ্রাম করেছিল সুধুই নিজের মুখের ভাষার জন্য। আমরা আসলেই দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছি । ১০ বছর, ২০ বছর, ৪০ বছর, ৬০ বছর, ১০০ বছর।

হায়রে মুক্তিযোদ্ধা , হায়রে ভাষা শহীদ, হায়রে আমার দেশ মা ।