ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

বাস চাপা দিয়ে সাংবাদিক বিভাস দা’কে হত্যাকারী চালক মফিজুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছে। ডিবি পুলিশ চাঁদপুরের শাহরম্তী এলাকা থেকে শনিবার মধ্য রাতে তাকে গ্রেফতার করে। গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম কেন্দ্রে এই ঘাতকের সঙ্গে কথা হয়। এসময় তাকে সামান্য অনুতপ্ত মনে হলো না। সম্ভবত এই ঘাতক বুঝে ফেলেছে অথবা আগেই অবগত- আমাদের দেশে গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ হত্যা করলে কোন সাজা হয় না। কয়েকদিন জেল খেটে বের হওয়া যায় অনায়াসে।

তবে এই মফিজ সাংবাদিক বিভাস দা’কে চাপা দেওয়ার বিবরণ দিয়ে জানিয়েছে তার পালানোর কৌশল। সে জানায়, ‘ মোটর সাইকেল আরোহী লোকটিকে চাপা দেওয়ার পর জনতা যখন তার বাসটি থামায়, তখন সে যাত্রীদের ভিড়ে মিশে যায়। পরে যাত্রী সেজে বাস থেকে বের হয়ে সাধারণ মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে সে তার বাস মালিককে ঘটনাটি জানায়। বাস মালিক তাকে বাসটি ফেলে পালিয়ে যেতে বলে। নিরাপদে থাকতে বলে তাকে। মালিকের নির্দেশে সে বাসটি ফেলে পালিয়ে যায় বলে জানায়।

এখনও প্রশ্ন হচ্ছে-এই ঘাতককে যে মালিক পালাতে নির্দেশ দিলো, নিরাপদে রাখলো-একজন ঘাতককে পালানোর নির্দেশ দানের দায়ে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কী মামলা হবে? এই মালিক কী আইনের আওতায় আসবেন? নাকি প্রভাশালী বাস মালিক হওয়ায় তার কিছুই হবে না।

মজার বিষয় হচ্ছে, চালক মফিজকে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা বিভিন্ন ট্র্যাফিক সাইন দেখায়, যেগুলো বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে সাইনবোর্ডে দেওয়া থাকে। তবে মফিজ এই সাইনগুলোকে চিনতে পারে না। সে জানায়, এগুলো সে চিনে না। কতটুকু পড়ালেখা করছেন জানতে চাইলে মফিজ জানায়, কোন দিন স্কুলে যায়নি সে। তবে নিজের নাম লেখাটা শিখেছে। প্রখ্যাত সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও তারেক মাসুদ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আমাদের দেশের একজন মহান (!) ব্যক্তি, পরিবহন শ্রমিক নেতা (কবে শ্রমিক ছিলেন, আল্লাহ মালুম) বলেছিলেন, চালকদের পড়ালেখা জানার দরকার নেই। শুধু সড়কে ট্রাফিক সিগনালের চিহ্ন বুঝলেই তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এই চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স পেলেন কীভাবে? সে তো পড়ালেখা দূরের কথা, ট্রাফিক সিগন্যালও চেনে না।

যদ্দুর জানি, ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) একটি লিখিত পরীক্ষা নেয়। পড়ালেখা না জানা এই মফিজ সেই লিখিত পরীক্ষা দিলো কীভাবে? নাকি তার পক্ষে অন্য কেউ তা দিয়েছে?

তবে পুলিশের গণমাধ্যম কেন্দ্রে মফিজ জানিয়েছে, লাইসেন্স পেতে সে শুধু একটি ফরমে ভাঙা অক্ষরে নিজের নাম লিখেছে!

পুনশ্চ : ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া নেওয়ার এসব অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হবে কি? না-কি আর কখনই ফিরবো না- এমন চিন্তা করেই আমাদের নামতে হবে রাস্তায়? সড়কে অকালের এমন মরণ খেলা চলতেই থাকবে?

১৩ মে, ২০১২