ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

‘পুলিশের হামলায় আহত সাংবাদিক সাজিদ হোসেন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘পুলিশের দুই কর্মকর্তা তেড়ে এসে আমার শার্টের কলার ধরে উপর্যুপরি কিলঘুষি-লাথি মারতে থাকে। তীব্র যন্ত্রণায় আমি রাম্তায় পড়ে যাই। হঠাৎ মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠে। চারদিকে অন্ধকার দেখছিলাম। মনে হলো-আর বাঁচবোনা। এরপরও মনে জোর নিয়ে সাহস করে উঠে দাঁড়ানোর আগেই এক কর্মকর্তার নির্দেশে আরও কয়েকজন পুলিশ লাঠি দিয়ে বেধরক পেটাতে থাকে। প্রায় অচেতন অবস্থায় মারতে মারতেই নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।’ এ চিত্রটা রাজধানীর আগারগাঁও মোড়ে ২৬ মে শনিবারের। পুলিশের নির্মমতার শিকার ফটো সাংবাদিক তার সহকর্মীদের কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এভাবেই। ২৭ মে তা বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।

পুলিশের যে গুনধর কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেদিন তিন সাংবাদিককে পেটানো হয়-সেই পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) শহীদুল ইসলাম এক সাংবাদিককে মারতে মারতে বলতে থাকেন ‘অনেক সাংবাদিক দেখছি। অনেক সাংবাদিক পেটাইছি। আমি সাংবাদিকের বাপ। তোকে এবার বাপের খেলা দেখাব’। এটাও প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে।’ গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য খুবই আতঁকে ওঠার মতো খবর।

আবারও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের নির্মমতার শিকার হলেন গণমাধ্যম কর্মীরা। এক-দুইজন নয়, একসঙ্গে তিনজন সাংবাদিক। তাও খোদ রাজধানীতেই। ৮ মে ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কে পুলিশের নির্যাতনের ত সাংবাদিকদের শরীর থেকে এখনও শুকাইনি। ১৬ মে পুরনো ঢাকায় আদালতের সামনে পুলিশের বুট আর লাঠির আঘাত সাংবাদিকদের শরীরে এখনও তাজা। মে মাসের ৭ থেকে ২৬ তারিখ। ২০ দিনের মধ্যে খোদ রাজধানীতেই তিন দফা সাংবাদিকদের পেটালো পুলিশ। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ বা ‘বন্ধু পুলিশ’-তারা কি সেই পুলিশ? রাজধানীর রাজপথে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর এমন পুলিশের এমন আচরণ কেন? আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা শুধু কি পেটানোর প্রশিক্ষণ নেন? নাকি কেউ কেউ গণমাধ্যম কর্মীদেরকে পুলিশ বাহিনীর তথা সরকারের প্রতিপক্ষ বানানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এমনটা করছে?

৭ মে ধানমন্ডির ২ নম্বর সড়কের ঘটনায় যদি ধানমন্ডির থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে কি ১৬ মে আদালতপাড়ায় পুলিশ সাংবাদিকদের ওপর এমন নির্মমতা দেখাতে উৎসাহিত হতো। ১৬ মে সাংবাদিকদের নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ২৬ মে আগারগাঁওয়ে এমন নির্মম ঘটনা ঘটতো? সম্ভবত না। তবে আশার কথা হচ্ছে, শেষের দিকে এসে আগারগাঁওয়ের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। তার মধ্যে এক দারোগা, দুই সহকারী দারোগা আর ৬ কনস্টবলকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আর ঘটনার মুল হোতা এসি শহীদুলকে ঘটনার দিনই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সাধুবাদ, অবশ্যই সাধুবাদ পাবেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে (রোববার, ২৭ মে) দেশের বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় আইজিপি ও এডিশনাল আইজিপির বরাতে খবর : ‘শহীদুলকে রাঙামাটি বদলী করা হয়েছে।’ একদিনের মাথায় সেই শহীদুলকে বদলী করা হল রাঙামাটিতে। তাও পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বে। এই ভদ্রলোক পুলিশকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবেন! প্রশ্ন হচ্ছে এটা কি শাস্তি নাকি পুরস্কৃত করা?

পুনশ্চ: এমন পুলিশ বাহিনী চাই- যাদের লাঠি ও বুট আঘাত হানবে অপরাধীর পিঠে। গণমাধ্যম কর্মী বা সাধারণ মানুষের পিঠে নয়।

-২৭ মে, ২০১২