ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

02_Anisul+Huq_Discussion_Criminal+Justice+Day_170714_0002

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত বন্ধু প্রখ্যাত আইনজীবি সিরাজুল হকের ছেলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি, বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের একটি মন্তব্য নিয়ে ভালোই সমালোচনা হচ্ছে।
কোথাকার কোন্ এক পিয়াসের জন্য বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত বন্ধুর ছেলে নিবেদিতপ্রাণ বঙ্গবন্ধু সৈনিক আনিসুল হকের এমন যুক্তিহীন সমালোচনা কেনো করছে বঙ্গবন্ধু প্রেমিকরা?
কারোর ব্যাক্তিগত অনুভুতির প্রকাশকে যদি এভাবে পিষ্ট করা হয় তবে সেটা তো সাইদীকে চাঁদে পাঠানোর রাজাকারীয় আবেগের মতো হয়ে যায়।মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আমাদের চিরকালীন ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য সম্পূরক বাস্তবতা, অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত চিরন্তন সত্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বা বিপক্ষের কারোর কোনো কথায় এই সত্য মুছে যাবে না। তাই অপরিনামদর্শী আবেগের বশে বঙ্গবন্ধুর কোনো নিষ্ঠাবান কর্মীকে শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এমন আঘাত করা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়।

আনিসুল হক কী বলেছেন?
তিনি অস্বীকার করেন নি যে, পিয়াসের বাবা ও নানা রাজাকার ছিলো। পিয়াস নিজে সাম্প্রতিককালে রাজাকারদের বিচার বন্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যে চেষ্টা করেছে, আনিসুল হক তাও অস্বীকার করেন নি। তাহলে আনিসুল হকের অপরাধ কী?

পিয়াসের বিরূদ্ধে যে দুই গুরুতর অভিযোগ তার কোনোটাই আনিসুল হকের বক্তব্যে খারিজ হয়ে যায় নি। তিনি একটি গল্প শুনিয়েছেন। ওই গল্পের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে তা বাতিল করে দেয়ার যে সুযোগ আছে তা কেনো গ্রহন করা হয় নি?

আনিসুল হক ব্যক্তিগতভাবে পিয়াস সম্পর্কিত যে কাহিনী জানতেন বা সত্য বলে মনে করতেন তা প্রকাশ করেছেন। এজন্য তাকে ধিক্কার দেয়া অনধিকার চর্চা। এতো বঙ্গবন্ধু প্রেমী হয়ে থাকলে সমালোচকদের কেউ যুক্তি দিয়ে আনিসুল হকের গল্পকে মিথ্যা প্রমাণ করতে যায় নি কেনো? সস্তা আবেগ কি কাজে লাগে?
আনিসুল হকের গল্পে যে গলদ আছে তা তো পরিষ্কার। মুক্তিযুদ্ধের শুরু হয়েছিলো আজ থেকে প্রায় ৪৩ বছর ৭ মাস আগে। পিয়াস মারা গেছে ৫৬ বছর বয়সে। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে পিয়াসের বয়স ছিলো ১২ এর কাছাকাছি। মাত্র ১২ বছর বয়সী একটি বালক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এখানে সেখানে গোপন সভা করে বেড়াচ্ছিল আর হানাদার পাকিস্তানীরা তাকে খুব বিপজ্জনক মনে করে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো – এমন হাস্যকর কথা বিশ্বাস করার মতো মানুষ কয়জন আছে?

আর পিয়াসের বাবা ও নানা আগে থেকেই পাকিদের সেবক মুসলিম লীগার ছিলো। এর প্রমাণও আছে। তাই পাকিস্তানীদের কোনো প্রয়োজনই ছিলো না পিয়াসকে আটকিয়ে তার বাবাকে ভয় দেখিয়ে নতুন করে রাজাকার বানানোর।

তাহলে কি বুঝা গেলো? আনিসুল হকের গল্পটি বাস্তবের কোনো গল্প নয়। তিনি শুধু তাঁর শোনা এক অবিশ্বাস্য বানানো গল্প আমাদের জানিয়েছেন। যেহেতু তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধকালে বালকবয়সী ছিলেন, তাই তিনি নিশ্চয়ই এই গল্পের ভিত্তি যাচাই করেননি।

আমি তাই মনে করতে যাবো না যে, আনিসুল হক রাজাকার পুত্র পিয়াসের কোনো উপকার করেছেন কিংবা তিনি বঙ্গবন্ধু প্রেমিকদের তালিকা থেকে বাদ পরে গিয়েছেন। আনিসুল হক সেই ব্যক্তিদের একজন যারা আপ্রাণ চেষ্টা করে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের শাস্তি নিশ্চিত করেছেন।

আমি ভুলি নাই, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে খুনীরা দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর বাবা মরহুম সিরাজুল হকের বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলা হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা বন্ধু মুজিবের প্রতি ভালোবাসার কথাগুলি।