ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

স্বাধীনতা বিরোধীদের গুরু, নরঘাতক পাকিস্তানী দালাল গোলাম আজম কুকর্ম ও পাপের প্রতীক। এই সত্য বুঝার জন্য খুব বেশী কষ্ট করতে হয় না। গোলাম আজম (সেরা দাস) তার নামের মতোই পাকিস্তানীদের সেরা গোলাম ছিলো।

এই সেই গোলাম আযম যে ১৯৭১ এ এদেশের ৯৮% মানুষের মত ও ইচ্ছার বিরূদ্ধে গিয়ে পাকি দালাল হয়ে লাখ লাখ নিরীহ মানুষকে মেরে ফেলার হুকুম দিয়েছিলো।
এই সেই গোলাম আযম যে হানাদার পাকিস্তানী পশুদের সব অপকর্মে সমর্থন দিয়েছিলো, যে মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী বলেছিলো, যে মুক্তিযোদ্ধাদের খুন করতে বলেছিলো, যে কসাই টিক্কা খানের সাথে বৈঠক করে বাঙ্গালীদের খুনের পরিকল্পনা করেছিলো, যে এমন কি স্বাধীনতার পরেও ৭ বছর পর্যন্ত বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিপক্ষে অপপ্রচার চালিয়েছে পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি করে, যে বাংলাদেশীদের হজ্জ করা বন্ধের জন্য সৌদি বাদশাকে অনুরোধ করেছিলো, যে সাহাবীদের সমালোচক মওদুদির ফেতনার অনুসারী, যে বলেছে কুর্‌আন এর একটি সূরা ভুল জায়গায় রাখা হয়েছে, যে বলেছে বাংলাদেশি জামাতের হেড কোয়ার্টার পাকিস্তানে।

এই সেই গো আজম পাকিস্তানের দালালী করার জন্য যার বাংলাদেশী নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছিলো।
এই সেই গো আযম যে নিজের ক্ষমাহীন পাপে ভীত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় লগ্নে পালিয়ে বিদেশ চলে গিয়ে নিজের অপরাধের প্রমাণ নিজেই দিয়েছিলো।

এই যুদ্ধাপরাধীকে বাঁচানোর জন্য ধর্ম ব্যবসায়ীরা ইসলামের নাম ব্যবহার করেছিলো। কিন্তু ইসলাম কী বলেছে?
পাপী সে যেই হোক, তার বিচার করা ইসলামের অন্যতম প্রধান নীতি। ওমর (রা) নিজ হাতে নিজের দোষী ছেলেকে ৮০টি বেত্রাঘাত করে পরাপারে পাঠিয়েছিলেন। মহানবী (সা) এর প্রিয় নাতি ইমাম হোসেন (রা) এর খুনী ইয়াযিদ ছিলো এক জ্ঞানী মুসলিম বীর আর মুয়াবিয়ার মতো সাহাবীর ছেলে। মুয়াবিয়ার ইচ্ছায়ই ইয়াযিদ জোর করে খলিফা হয়েছিলো। আর নিজের এই অবৈধ খেলাফত রক্ষার জন্যই সে হোসেনকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করেছিলো। ইয়াযিদ পরে মদীনায় আক্রমন করে হোসেনের সমর্থক ১০,০০০ মুসলমানকে খুন করেছে, তার বাহিনী মদীনার শত শত মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করেছে, লুট করেছে মদীনাবাসীদের সম্পদ। মুসলিম, জ্ঞানী বা সাহাবীর ছেলে বলে কি ইয়াযিদ ক্ষমা পেয়েছে?

নরাধম গো আজম পাকিস্তানী এজেন্ট জিয়ার আমন্ত্রণে পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে ১৯৭৮ এ বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলো। বলেছিলে মাকে দেখতে এসেছে, অথচ এদেশের নাগরিক না হয়েও এদেশের রাজনীতিতে জড়িয়েছে, ঘাতকদের দল জামাতের আমীর হয়েছে। সবই করেছে ভন্ড জিয়ার আনুকূল্যে, কোনো আইন না মেনে।

১৯৭১ এ পাকিস্তানীদের সেবা করা মুর্খ খালেদা ১৯৯২ এ এই রাজাকার নেতা গো আজমকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলো।

৪৩ বছর কেটে গিয়েছিলো। নরঘাতক গোলাম আজম ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিচার হয় নি। এমন কি ওরা ক্ষমাও চায় নি। যে দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে বেহায়ার মতো সেই দেশেই আবার রাজনীতির নামে ধর্ম ব্যবসা করেছে। এমনই অমানুষ ওরা।

৩০ লাখ নিরীহ মানুষের রক্তে ভেজা এই মাটিতে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকাররা মন্ত্রী, এমপি হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে কুলাঙ্গার জিয়া ও তার অসৎ বউ খালেদার ইচ্ছায়। যে পতাকার জন্য আমাদের শহীদরা জীবন দিয়েছেন সেই পতাকা গাড়িতে লাগিয়ে দেশ শাসন করেছে তাদেরই খুনীরা। মীরজাফর জিয়া ও খালেদা মহাআনন্দে এই পাপীদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

স্বাধীনতার মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত এই খুনীদের বিচারের আওতায় এনেছেন। লাখো শহীদের অতৃপ্ত আত্মাকে শান্তি দিয়েছেন নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে। প্রশংসা তাঁর নিশ্চিত প্রাপ্য।

রাজাকারদের নেতা গো আজম শাস্তি পেয়েছে, জেল খেটেছে, জেলে মারা গেছে – এটা নাম না জানা অগনিত শহীদদের জন্য আমাদের সেরা উপহার। ৯০ বছর বা ২ বছর জেল খাটা বা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলা বিষয় নয়, দরকার ছিলো ঘাতক গো আজমের বিচার করে শাস্তি দেয়া, সেটা হয়েছে।

আজ কতোজনের কতো বুলি! তাহলে কেনো আর কেউ এই রাজাকারদের বিচার করে নি? কেনো কাপুরুষ জিয়ার রাজাকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে প্রতিরোধ করা হয় নি? যদি হাসিনা বিচার শুরু না করতেন তাহলে তো বিচারের মুখোমুখি না হয়েই মারা যেতো গো আজম।

এদেশে অবিকশিত মস্তিস্কের কিছু অর্ধ-মানব আছে যারা যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমের পাপকে ঢেকে রাখতে চায়। এই স্বাধীন দেশে বাস করে, এদেশেরটা খেয়েও এরা এদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে ভুলে যেতে চায়। পাকিস্তানীদের গোয়েন্দা রিপোর্ট, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলির ১৯৭১ এর রিপোর্ট, স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন দলিল আর প্রত্যক্ষদর্শী মানুষদের কথা না হয় বাদই দিলাম।
গোলাম আজমের অপকর্মের প্রমাণ তার নিজ দলের পত্রিকা দৈনিক সংগ্রামের ১৯৭১ এর সংখ্যাগুলিই ধরে রেখেছে।

পাপ কখনো পাপীকে ছেড়ে যায় না, ধর্মের নাম বেচেও পাপের শাস্তি পাওয়া থেকে বাঁচা যায় না – মানবতাবিরোধী পাপী গোলাম আজমকে আমরা এই শিক্ষা দিতে পেরেছি। এটাই চুড়ান্ত সত্য, আমাদের বিজয়।