ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ব্রিটিশ পত্রিকা দি ইকোনমিস্ট কাল লিখেছে, “বাংলাদেশের প্রধান দুই যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজম ও নিজামী দেশের দুই সামরিক শাসকেরই পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে আর ২০০১ সালে নিজামী খালেদা সরকারের মন্ত্রীও হয়েছে।”

** ২০০৬ সালে খালেদা নিজামীকে বনানীতে ৫ কাটা সরকারী জমি উপহার দেয়, নিজামী দেশের জন্য ‘অবিস্মরনীয় অবদান’ রেখেছে এই কারণ দেখিয়ে। নিজামীর অবদান সম্পর্কে খালেদা ছাড়া আর কে ভালো জানবে?

১৯৭১ এর ৫ই আগস্ট নিজামী বলেছিলো, “মুক্তিযোদ্ধারা দুষ্কৃতিকারী অনুচর, পাকিস্তানের দুশমন। যেখানেই মুক্তিযোদ্বা সেখানেই বদর, সেখানেই প্রতিরোধ।” সুত্র: দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক সংগ্রাম, ৬ই আগস্ট, ১৯৭১ ।

** ১/১১ এর জরুরী অবস্থা চলাকালে নিজামীর দল জামাত মুক্তিযোদ্ধাদের ‘সম্মানে’ এক সমাবেশের আয়োজন করে। সেখানে নিজামীর ৭১ এর ‘কীর্তি’ নিয়ে কথা বলায় এক বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাকে কিল-ঘুষি মেরে সম্মান জানায় জামাতীরা।

যখনই ক্ষমতার বাইরে ছিলো তখনই বিএনপি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বিরোধিতা করে কতো কিছুই না বলেছে, ক্ষমতায় গেলে এগুলি বাতিল করবে বলে অনেকবার প্রতিজ্ঞাও করেছে।

** ১৯৭৫ এর পর স্বৈরাচার জিয়া, সাত্তার ও খালেদার বিএনপি প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতায় ছিলো। বিশেষ ক্ষমতা আইন বা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি, কোনোটাই তারা বাতিল করে নি, বরং এগুলির মেয়াদ পূর্ণ হতে দিয়েছে।

নির্বাচনের সময় এলেই বিএনপি বরাবর সুর তোলে যে, তারা ইসলাম রক্ষাকারী।

** বঙ্গবন্ধুর আমলে দেশে মদ পান করা ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ছিলো। বিএনপির জিয়া মদ পান ও জুয়া খেলার অনুমোদন দেয়, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে খালেদা-নিজামী মদ আমদানীর উপর করের হার হ্রাস করে মদের দাম কমিয়েছে, মদকে সহজলভ্য করেছে।
ইসলাম বলেছে, ভ্রু প্লাক করা হারাম। ৭০ বছরের খালেদা নিয়মিত ভ্রু প্লাক করে।
ইসলাম বলেছে, বেগানা পুরুষ নিয়ে নারীরা হজ্জে যেতে পারবে না। খালেদা প্রতিবার ফালুকে নিয়ে হজ্জে যায়।

যখন ক্ষমতায় নেই তখন ভারত-বিরোধিতার কথা বলা খালেদার খুব প্রিয় বিষয়।

** ক্ষমতায় এসে ভারতে গিয়ে খালেদা তিস্তার পানির কথা বলতে ভুলে যায়। ১০ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা ভারতের নিকট হতে কিছু আদায় করা দূরে থাক, আদায়ের দাবীই তুলে নি কখনো। খালেদাই প্রথম ভারতীয় গরু, পিঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি বাংলাদেশে ঢুকিয়েছে ১৯৯১ এ ‘মুক্ত বাজার অর্থনীতি’র নামে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে সাইদীকে যখন দেলু রাজাকার বলে উল্লেখ করা হয় তখন সাঈদী ইসলামের দোহাই দিয়ে বলে যে, কারো নাম বিকৃত করা গুনাহের কাজ। তার নাম বিকৃত না করার জন্য অনুরোধও করে।

** সাইদী নিজে প্রকাশ্য জনসভায় শহীদ মুক্তিযোদ্বা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’, দেশের শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞানী কুদরত্-ই-খুদাকে ‘গজব-ই-খুদা’ বলেছে অনেকবার।

হাসিনা যখন বললেন, বিএনপি ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া অবৈধ দল তখন বিএনপির ভারবাহী মহাসচিব বলেছে, বিএনপি নাকি জিয়ার ‘বহুদলীয় গনতন্ত্র’ নামক সংসদীয় আইনের অধীনে জন্ম নিয়েছে।

** জিয়া বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলো ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ এ। বিএনপি ঐ তারিখেই এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে।
আর জিয়ার রাবার স্ট্যাম্প সংসদে তথাকথিত ‘বহুদলীয় গনতন্ত্র’ আইন পাস হয়েছিলো ৬ই এপ্রিল ১৯৭৯ এ, কার্যকর হয়েছিলো আরো পরে।

সাত মাস পরের আইন সাত মাস আগের দলকে জন্ম দিল কীভাবে? হাসিনার কথাই তো প্রমাণ হলো।
ভারবাহী মহাসচিব খালেদার পরামর্শে এখন না আবার ঘোষনা দেয়, ৬ই এপ্রিল ১৯৭৯ তে বিএনপির জন্ম।