ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 
rokimg_20140314_82429

তাজউদ্দিনের মেয়ে শারমিনের লিখা একটি বই রাজাকার ও তাদের সমর্থকরা খুব উৎসাহি হয়ে লুফে নিয়েছিল। অন্তঃসারশুন্য ফরমায়েশি এই বই কিন্তু রাজাকারদের কোনো সাহায্য করতে পারেনি। করার কথাও নয়।

ঐতিহাসিক বিষয়ে কিছু লিখতে হলে লেখকের অতীত সততা ও নৈতিকতার মানদণ্ডে যোগ্য বলে বিবেচিত হতে হয়। তাজউদ্দিনের মেয়ের অতীত অবস্থান তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে।

যে মেয়ে নিজের বাবার ভালোবাসার প্রতি সৎ থাকতে পারেনি সেই মেয়ে ঐতিহাসিক কোনো সময়কে কীভাবে সততার সাথে তুলে ধরবে? এই মেয়েকে বিশ্বাস করা তাই মূর্খতারই নামান্তর।

বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে, শুধু বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশ্বস্ত থেকে যে তাজউদ্দিন খুন হয়েছেন সেই তাজউদ্দিনের মেয়ে এই শারমিন নিজের ইচ্ছায় জেনেশুনে বাপের স্বঘোষিত খুনী ডালিমের ভাইকে বিয়ে করে তাজউদ্দিনের সুনামের উপর আঘাত করেছিল। তাই এই মেয়ের পক্ষে বানানো কাহিনী ফেঁদে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা খুবই স্বাভাবিক।

ডালিমের ভাই দোষী হোক বা না হোক, তার পরিচয় সে বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দিনের খুনী ডালিমের ভাই। আর নিজের বাপের খুনীর ভাইকে যে মেয়ে বিয়ে করতে পারে, তাও নিজের ইচ্ছায় সেই মেয়ের মানসিকতা ও চিন্তাধারা কেমন হবে, সেই মেয়ে সত্য না মিথ্যার পূজারি হবে তা যে কারোরই বুঝার কথা।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে তো বটেই, পৃথিবীর সব অংশের মানুষই নিজের মা-বাবা, ভাই-বোনের খুনি ও খুনির পরিবারকে ঘৃণা করতে কখনো ভুল করে না, আজীবন ঐ খুনী থেকে দূরে থাকে। এটা সাধারণ জ্ঞান ও স্বাভাবিক অনুভূতির বিষয়।

ডালিমের ভাইয়ের অস্তিত্ব কি ডালিমকে ছাড়া? শারমিন কি ভাসুর ডালিমকে পায়ে ধরে সালাম করেনি? আর যে মেয়ে তার বাপের খুনীকে সালাম করে আত্মীয় বানায় সেই লোভী মেয়ের মুখ থেকে মিথ্যা ছাড়া আর কিছু কীভাবে বেরুবে?

সে কেনো সেই খুনী ভাসুরের পরামর্শ অনুযায়ী খুন হওয়া মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর বিরূদ্ধে যা ইচ্ছে তা বানিয়ে লিখবে না? যখন ঐ ভাসুর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি।

তাছাড়া তার এই লিখার ভিত্তিটা কী? একটা ১০ বছরের বিভ্রান্ত মেয়ে নাকি সেই অতি কঠিন সময়ে জাতীয় নেতাদের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় কথাগুলি শুনেছে, নেতারাও নাকি আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনাম হওয়া সেই জরুরী বিষয়গুলি তাকে শুনিয়েছেন আর ৪৪ বছর ধরে সে তা মনে রেখেছে।

অথচ শারমিনের মা জোহরা তাজউদ্দিন নিজের আত্মজীবনীতে বলে গিয়েছেন যে, ৭১ এর মার্চের সেই উত্তাল সময়ে যুদ্ধের অনেক আগেই তিনি শারমিনকে পুরাণ ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নিরাপত্তার খাতিরে। আর এই মিথ্যুক মেয়ে বলছে, সে নাকি ঐ সময়ে বাসায় বসে নেতাদের কথা শুনেছে।

তাছাড়া এই আলোচনাগুলির বেশীরভাগই হয়েছে বঙ্গবন্ধুর বাসায়, তাজউদ্দিনের বাসায় নয়। সেই বিপজ্জনক সময়ে তাজউদ্দিন কি প্রতিবার তার এই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসায় যেতেন? কেন?

মিথ্যাচার আর কাকে বলে? রাজাকারদের কালো টাকা যে অনেককেই পথভ্রষ্ট করে ফেলেছে তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। শারমিনের যেমন খুশী তেমন করে লিখা এই কাহিনী যে মিথ্যাশ্রয়ী তা সহজেই অনুমেয়। তাই এই বই বিবেচনারই যোগ্য নয়।