ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে নবগঠিত ‘হেফাজতে ইসলাম’ গত বছর সারা দেশে অহেতুক অস্থিরতা তৈরী করল, জান-মালের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হল।

এদেশের ৮৫% মানুষ মুসলমান। এখানে যদি ইসলামী শাসন চালুর দাবীতে কোনো দল আন্দোলন করে তবে এর ভিত্তি থাকার কথা। সেই দলের সরকার গঠন করাও সহজ হবার কথা।
কিন্তু সত্য হল, এদেশে কখনো কোনো ইসলামী দল ক্ষমতায় যেতে পারে নি। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ১০টি জাতীয় নির্বাচনের কোনোটিতেই কোনো ইসলামী দল বা জোট ১% এর বেশী ভোট পায় নি, রাজাকার জামাতীরা পেয়েছে ২% থেকে ৭% ভোট।

অর্থাৎ এদেশের অধিকাংশ মুসলমান দেশের কোনো ইসলামী দলকেই পছন্দ করে না এবং হয়তো তারা ইসলামী শাসনও চায় না। তথাকথিত ইসলামী দলগুলি, স্বাধীনতাবিরোধী জামাত বা ধর্ম ব্যবসায়ী বিএনপির মুখে ‘১৬ কোটি মুসলমানের প্রাণের দাবী’ নামে যেসব রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতার কথা শুনা যায় সেগুলি যে ফাঁকা বুলি তা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা জানে ও বুঝে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্তি হয়েছে গত বছর। এ দীর্ঘ সময়ে ‘হেফাজতে ইসলাম’ ১৩ দফা দূরে থাক, ১ দফা দাবীও তুলে নি কখনো। কিন্তু গত বছর যখন যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দেয়া শুরু হল তখনই ‘হেফাজতে ইসলাম’ এর নেতাদের মনে পড়ল যে, দেশে ইসলামী শাসন চালু করা না হলে ইসলাম থাকবে না। প্রশ্ন হল, আগের ৪২ বছর কি এদেশে ইসলামী আইন কায়েমের দরকার ছিল না? তখন কি দেশের মানুষ মুসলমান ছিল না? ছিল। তাহলে কেনো খালেদার আমলে এ আন্দোলন করা হয় নি? কেনো জিয়া ও এরশাদকে এ দাবীগুলি মানার জন্য চাপ দেয়া হয় নি?

‘হেফাজতে ইসলাম’ এর নেতা-কর্মীরা যাদের কাঁধে চড়ে আন্দোলনের নামে অপকর্মে অংশ নিয়েছে সেই রাজাকার জামাত-বিএনপি মাত্র সেদিন ক্ষমতায় ছিল। যদি হেফাজতীরা সত্যিই ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করতে চাইত তাহলে তারা ঐ আমলেই তাদের এ দাবীগুলি তুলত। ভ্রু প্লাক করা খালেদাকেও হয়তো তারা তখন পর্দা করাতে পারত।

কিন্তু হেফাজতীরা তখন চুপ ছিল। ধর্মের নাম বেচে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করা বিএনপি-জামাতকে ঝামেলায় ফেলে নি তারা। হেফাজতীরা অরাজকতায় মেতেছিল নাজুক এক মূহুর্তে, রাজাকারদের বিচার শুরুর পর। বলা বাহুল্য, জামাত-বিএনপির কালো টাকাই হেফাজতীদের রাস্তায় নামিয়েছিল সেই বিচার বন্ধের উদ্দেশ্যে।

এটা তাই কোনো ইসলামী আন্দোলন ছিল না, ছিল ইসলামের নাম নিয়ে ৭১ এর অপরাধীদের রক্ষা করার আন্দোলন, ইসলামকে অপমান করার কর্মসূচী। আল্লাকে ভয় পায়, মহানবী (সাঃ)’কে ভালোবাসে এমন কোনো প্রকৃত মুসলমান এ মুনাফিকীতে অংশ নিতে পারে না, নেয়ও নি।

নির্দোষ মানুষ মারা, আগুন লাগানো, ভাংচুর করা, গাছ কাটা, কুর্‌আন শরীফ পুড়ানো ও ভীতি সৃষ্টির ম্যাধ্যমে ইসলামী আইন কায়েম করার কথা কখনো বলে নি ইসলাম। হাজার হাজার কিশোর ছেলেকে ডেকে এনে বিপদে ফেলে রেখে নিজেদের জান নিয়ে পালিয়ে যেতেও বলে নি ইসলাম।

আল্লাহ্‌ অঙ্গীকার করেছেন, ইসলামকে কেয়ামত পর্যন্ত রক্ষা করার। আল্লাহ্‌ বলেছেন, “নিশ্চয় আমিই এ মহাগ্রন্থ (আল-কুর্‌আন) অবতীর্ণ করেছি। আমিই এর রক্ষক।”
আল্লাহ্‌ যার রক্ষক পৃথিবীর কোনো শক্তি কি তাকে ধ্বংস করতে পারে? না। তাহলে কোনো মানুষ বা দল কীভাবে ‘হাফেজে ইসলাম’ বা ‘ইসলাম রক্ষাকারী’ হয় আর ‘হেফাজতে ইসলাম’ এর কথা বলে? মানুষ খুব বেশী হলে ইসলামের ভালো অনুসারী হতে পারে কিন্তু কখনো ইসলামের রক্ষাকারী হতে পারে না।

তাই বলা যায়, যারা ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার দোহাই দিয়ে অপকর্ম করেছে, একটি চিহ্নিত খুনী দলকে বাঁচাতে ইসলামের নাম ব্যবহার করেছে তারা ইসলামের প্রমাণিত দুশমন।