ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

“আল্লাহু আকবার” শব্দযুগল উচ্চারণ করতে করতে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে মাসুম বাচ্চাদের খুন করেছে পাকিস্তানী জঙ্গিরা। যেনো এই অবুঝ মানবসন্তানগুলিকে খুন করলেই প্রমাণ হবে আল্লাহ্‌ মহান। একে একে ১৩২ টি বাচ্চাকে হত্যা করেছে এই জানোয়াররা। নিজ দেশের, নিজ ধর্মীয় শিশুদেরকে। আবার অধিকাংশ বাচ্চারই মাথায় গুলি করা হয়েছে। পৃথিবীর জঘন্যতম কাপুরুষরাও এরকম কিছু করে নি কখনো। কিন্তু কিছু পাকিস্তানী তা করেছে।

যেসব সংশয়বাদী বাঙ্গালি বর্বর পাকিস্তানীদের ৭১’এর কুকর্মকে আড়ালে রেখে পাকি প্রেমে মত্ত হয় তাদের অনুর্বর মস্তিস্কে এই জাঙ্গলিক নির্মমতা কোনো প্রভাব ফেলুক বা না ফেলুক, মানুষের সভ্য অংশকে এটা বেদনাক্রান্ত করেছে, নাড়া দিয়েছে প্রবলভাবে। পিশাচ পাকিস্তানীদেরকে চিড়িয়াখানার পশুদের মতো ঘেরাও করে রাখার সময় হয়ে গেছে কিনা তা ভাবতে হবে এখন।

অসভ্য পাকিস্তানীদের এই পাশবিকতাই বলে দেয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাঙ্গালিদের উপর কেমন দানবীয় অত্যাচার চালিয়েছিল। অথচ এখনো আমাদের দেশে রয়ে গেছে সেই পশুদের সঙ্গী ও সমর্থকরা। তারা ইনিয়ে-বিনিয়ে এই পাকিস্তানী বিকৃত জীবদেরই গুন গায়, তাও ধর্মের নাম বেচে। পাকিস্তানীদের সেবক, এদেশের প্রথম সামরিক স্বৈরাচার, কাপুরুষ খুনী, ধর্ম ব্যবসায়ী জিয়া এদের নেতা। যুদ্ধের সময় স্বেচ্ছায় চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে ৯ মাস যাবত পাকিস্তানী হানাদারদের আনন্দ দেয়া ভ্রু প্লাক করা এক নষ্টা নারী এদের নেত্রী। এই নারীই নাকি ‘দরদিয়া-এ-ইসলাম’, ‘খাদিমা-এ-দেশ’।
মারহাবা! এসব ভন্ডামি রুখার সময় কি এখনো হয় নি?

ইসলাম কোথায় বলেছে, বাচ্চাদের খুন করা জায়েজ? অন্যের উপর প্রতিশোধ নেয়ার ইচ্ছায় শিশুদের এমন নির্বিচারে হত্যা করা কোন্ ইসলামী আইনে অনুমোদিত? প্রতিশোধ নেয়ার অনুমতিই বা ইসলাম কখন দিয়েছে? কোনো প্রকৃত মুসলমানের কল্পনাতেও তো এসবের জায়গা হবার কথা নয়। কিন্তু এই জঙ্গিরা নিজেদের সামনে মুসলমানিত্ত্ব ও ইসলামের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেই এমন পৈশাচিকতায় মেতেছে।

যেমন ৭১’এ তাদের পূর্ব-পুরুষ বর্বর পাকি হায়েনারা ইসলামের বুলি আওড়িয়েই খুন করেছিল লাখো লাখো বাঙ্গালি মুসলমানকে, আর তাদের সঙ্গী হয়েছিল এদেশীয় জঙ্গিরা। অথচ ইসলাম বলেছে, যুদ্ধে কখনোই শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা করা যাবে না, এমনকি ফলবান বৃক্ষও কাটা যাবে না। কিন্তু ধর্মাশ্রয়ী সন্ত্রাসীরা আগেও নারী ও শিশুদের খুন করেছে, পরিকল্পনা করে এখনো তারা বাচ্চাদের খুন করছে। কাপুরুষ আর কাকে বলে?

তাদের সমজাতীয়রা আমাদের দেশে বোমা মেরে, আগুন লাগিয়ে, পিটিয়ে ও গুলি করে নিরীহ মানুষ মেরেছে। আজ তাই পৃথিবী জুড়ে অমুসলমানরা চরম ইসলামবিদ্বেষী হয়ে পড়ছে, ইসলামকে ভয়ঙ্কর এক ধর্ম বলে মনে করছে। সারা দুনিয়ার সাধারণ মুসলমানরা ইসলামের দুশমন এই জঙ্গিদের অপকর্মের মুল্য দিচ্ছে। ইসলামের সুনাম বাড়ছে, তাই না?

এদেশ-ওদেশ, সবদেশের জঙ্গিরাই কাফিরদের চেয়েও অধম, ইসলামের সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। তালেবান, বোকো হারাম, আইএস, জামাত, হেফাজত বা বিএনপি – যে নামই ধারণ করুক, যে রূপেই থাকুক, এদের আসল পরিচয় হল, এরা ইসলামের অভিন্ন শত্রু। ইসলামকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করাই এদের একমাত্র উদ্দেশ্য। যারা জেনে-বুঝে এদের পিছু নেয়, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে চলে তারাও নিশ্চয়ই ইসলামের সাথে প্রতারণা করে।

টিকে থাকার জন্য সময়ভেদে রূপ বদলানো এদের স্বভাব। এদেশের এক জঙ্গি নেত্রী এখন বলছে, বাচ্চাদের উপর এই হামলা ভয়ানক। সে যদি সত্যিই এটা মনে করতো তাহলে সে নিষ্পাপ শিশু রাসেলের নির্মম শাহাদাত দিবসে নিজের মিথ্যে জন্মদিনের উৎসব করতো না, এই রাসেলের বাবাই তার জীবন রক্ষা করেছেন। সে যদি বাচ্চাদের জন্য সত্যিই কষ্ট পেতো তবে সে রাসেলের খুনীদের বিচার বন্ধ করে রাখতো না। তাছাড়া সে নিজেই গতবছর হেফাজতের খুন, ভাংচুর, লুটপাট আর আগুন লাগানোতে অংশ নিতে মানুষকে অনুরোধ করেছিল। যে হেফাজত ৪২ বছর নীরব থেকে ঠিক রাজাকারদের বিচারের মূহুর্তে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দিওয়ানা হয়ে পড়েছিল সেই হেফাজতকে অরাজকতা চালিয়ে যেতে বলেছিল সে।

তাই পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করতে হয় স্বাধীনতার মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, পৃথিবীর বর্বরতম দেশ পাকিস্তান থেকে আমাদের আলাদা করে নিয়ে আসার জন্য। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে হয় নাম না জানা লাখো শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের মহান ত্যাগের ফসল আমাদের এই স্বাধীনতা। শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হয় দেশকে জঙ্গিবিহীন ও রাজাকারমুক্ত করার অভিযানে।