ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
Hasina_22

আবারো নিজের জঘন্য মনোবৃত্তি ও নীচু শ্রেণীর অভদ্রতার চুড়ান্ত রূপ দেখালেন খালেদা জিয়া। তাকে সমবেদনা জানাতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা না করে খালেদা জিয়া বোঝালেন যে, তিনি তার পাশবিক ইচ্ছাগুলি তার দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ছেলের করুণ মৃত্যুতেও ত্যাগ করেননি।

খালেদার বিপথগামী অনুচরেরা ইতোমধ্যেই অভাবনীয় এই ঘটনার অপব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছে। তবে তাদের কোনো মিথ্যাই এই জাঙ্গলিক আচরণকে ঢেকে রাখতে পারছে না। ঘটনাটি তো সরাসরি রেকর্ড করা।

সহজ ও স্বাভাবিক একটা ব্যাপারকে খালেদা গংরা কদর্য রূপ দিয়েছে। কোনো ব্যক্তির স্বজন মারা গেলে পরিচিতরা তার পাশে দাঁড়াতে যায়। শোকাহত লোক কথা বলার অবস্থায় থাকুক বা না থাকুক, শোক প্রকাশ করতে যাওয়া মানুষের কি তা ভাবার দরকার হয়? এমনকি ঘুমের ইঞ্জেকশন নিয়ে শোককে প্রতিহত করার ইসলামবিরোধী কাজ যে করে তাকেও মানুষ দেখে আসে।

পৃথিবীর অন্য সব সভ্য জাতির মতো বাঙালিরাও হাজার বছর ধরে এই মানবিক গুণের চর্চা করে আসছে। আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মানস গঠনে এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া এই সুকুমার বৃত্তির উপর আঘাত করেছেন, যদিও তার ছেলে কফিনে শোয়া।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সমবেদনা জানাতে যাবেন, সেটা তাঁর যাওয়ার ঘন্টা কয়েক আগেই জানা গিয়েছিল। টিভি ও অনলাইন মিডিয়ায় সেই খবর প্রচার হয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ফোন করে খালেদার তথ্য সচিবকে বলা হয়, ১ ঘন্টার ভিতর প্রধানমন্ত্রী রওয়ানা হবেন। হাসিনা যাওয়ার ১ ঘন্টা আগে এসএসএফ যায় খালেদার অফিসে।

শেখ হাসিনা এরপর খালেদা জিয়ার অফিসে যান। গেটে ভিতর থেকে তালা মারা দেখে তোফায়েল আহমদ ফোন করেন খালেদা জিয়ার সচিবকে। খালেদার সচিব প্রধানমন্ত্রী এসেছেন জেনেও বলেন যে, খালেদা জিয়া ইঞ্জেকশন নিয়ে ঘুমাচ্ছেন। তাতে কী? মানুষ কি অজ্ঞান রোগীকে দেখতে যায় না? খালেদার অফিসের অসভ্যদের তাহলে এটা জানা নেই? তারা ভেবেছিল, খালেদা কথা বলার মতো অবস্থায় নেই এমন একটা মিথ্যা খবর দিলেই হাসিনার আসাটা আটকে যাবে।

এসএসএফ গেটে অনেকবার নক করে। কিন্তু খালেদা জিয়া তার অফিসের তালা খুলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সাহস অর্জন করতে পারেননি। গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে আসেন। পরে তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের অনুরোধে গাড়িতে ওঠেন এবং ফিরে যান।

বিএনপি গোত্রীয় এক কুচক্রীকে বলতে শুনলাম, ‘এসএসএফ এর গেট ভাঙ্গার অধিকার আছে, তারা কেন গেট ভেঙ্গে ঢুকে নি?’ খালেদা জিয়ার অভদ্রতা নয়, এসএসএফ এর গেট না ভাঙ্গাটা তার চোখে বড় হয়ে ধরা পড়েছে। হ্যাঁ, দেশের যে কোনো জায়গায় প্রবেশের সাংবিধানিক অধিকার প্রধানমন্ত্রীর আছে। এবং এসএসএফও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার খাতিরে যে কোনো বাধা দূর করার আইনি ক্ষমতা রাখে। তাই বলে যার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য যাওয়া তার বাড়ির গেট ভেঙ্গে, তার বাধা অতিক্রম করে ভিতরে প্রবেশ করবে এসএসএফ? সাধারণ মানুষের কাছে উদ্ভট হলেও আসলে এটাই ছিল খালেদা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের চাওয়া।

খালেদা জিয়াকে নাকি ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তাই যদি হত তাহলে খালেদার দুই মন্ত্রণাদাতা এমাজুদ্দিন ও রফিকুল মিয়া কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তার সাথে দেখা করে এসে জানলেন যে, খালেদা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন? অর্থাৎ খালেদা জিয়া ঘুমিয়ে ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রীর আসার খবর শুনেই সে নাটকের ঐ অঙ্ক মঞ্চায়ন করেছে।

খালেদার তল্পিবাহক সচিব জোড়াতালি দিতে গিয়ে আরেক মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি নাকি শোক বই হাতে নিয়ে গেটের বাইরে এসে দেখেন প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন। এমন আকাট মুর্খরাই খালেদার সম্বল। প্রধানমন্ত্রী কেন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করবেন? তিনি কি শুধু শোক বইয়ে স্বাক্ষর দিতেই গিয়েছিলেন? আর একটা বই নিয়ে আসতে ৮ মিনিট সময় লাগে?

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গীরা খালেদার এই অপগণ্ড সচিবকে গেটের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি যে একবারের জন্যও বাইরে বের হয়ে আসেননি তা তো টিভিতেই দেখা গেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর মিডিয়ার সামনে এসে তিনি চাপাবাজি করে যান। মজার ব্যাপার, ঐ সচিব যেটাকে শোকবই বলে দেখালো সেটা একটা লেজার বুক।

মিডিয়ায় খবর প্রকাশ করা ছাড়াও আনুষ্ঠানিক ফোনের ম্যাধ্যমে খালেদার লোকদের অবহিত করা হয় যে, প্রধানমন্ত্রী আসছেন। কিন্তু তারা রাস্তা থেকে খালেদার নিজের দেহরক্ষীদের বহনকারী গাড়িগুলো সরায়নি। এতে কী বোঝা যায়?

প্রধানমন্ত্রী চাইলে এই সব বাধা খড়কুটোর মতো উড়ে যেত। কিন্তু তিনি বড়ো মনের অধিকারি। তাই তা চাননি।

এটা পরিষ্কার যে, দূর্নীতিবাজ খালেদার মনের অন্ধকারময় দিক আরো একবার উন্মোচিত হয়েছে। অভদ্র, দূর্জনকে পরিত্যাগের তাগিদ দিয়েছে ধর্ম। খালেদাও তাই বিষবৎ পরিত্যাজ্য। অমার্জিত রুচির  খালেদা জিয়ার সাথে কোনো সংলাপে বসা সম্ভব? যে মহিলার মনে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সভ্য আচরণ করার ইচ্ছা জাগে না সে যে দেশের জন্য শুধু ক্ষতির কারণ হবে তা বলা বাহুল্য।

সিংগাপুরের মতো সুশাসিত দেশ যার চুরির টাকা আটকে ফেরত পাঠিয়েছে, সেই কোকোর বিলাসী, অধার্মিক, শিষ্টাচার না জানা মায়ের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর চেয়ে নির্দোষ খেটে খাওয়া যে মানুষগুলি বিনা কারণে খালেদা জিয়ার লোভের শিকার হয়ে সীমাহীন কষ্ট পেয়ে প্রাণ দিচ্ছে তাদের অসহায় মায়েদের জন্য মন খুলে প্রার্থনা করা অনেক ভালো কাজ। খালেদা জিয়ার কাপুরুষোচিত সন্ত্রাস প্রতিরোধে এগিয়ে আসা অনেক বড় দায়িত্ব।